প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ আয়কর দিবস

ডেস্ক রিপোর্ট : আয়কর বিভাগে সংস্কার শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের পর। যদিও সেই সংস্কারের সুফল তেমন একটা মেলেনি। এরপর বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সংস্কার হয়। তার পরও অর্থবহ কোনো সুফল আসেনি। কারণ ওই সব সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবসম্মত ছিল না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আয়কর থেকে রাজস্ব প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। এমন বাস্তবতায় আজ আয়কর দিবস উদযাপিত হচ্ছে।

আয়কর খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে ২০১৬ সালে। ওই বছরের নভেম্বরে অনলাইনে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। যদিও এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। তখন পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় এটি। তখন থেকেই ডিজিটাল বা ই-টিআইএন প্রদান শুরু হয়। মূলত ই-টিআইএন পদ্ধতি চালু করার মধ্য দিয়ে কর বিভাগে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে।

এনবিআর দাবি করেছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে ঘরে বা অফিসে বসেই আয়কর রিটার্ন জমা, একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে করের টাকা পরিশোধ করা যাবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে- অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া গেলেও ই-পেমেন্টে কর পরিশোধ নিশ্চিত হয়নি এখনও। করের টাকা জমা দেওয়ার জন্য আগের মতো প্রচলিত প্রথায় ব্যাংকে যেতে হয়। ফলে এর পুরোপুরি সুফল করদাতারা পাননি এখনও।

অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়ে করদাতার আগ্রহ এখনও আশাব্যঞ্জক নয়। মাঠ পর্যায়ে একাধিক কর কমিশনার সমকালকে বলেছেন, তাদের অফিসে করদাতারা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে আসেন না। সবাই ম্যানুয়াল বা প্রচলিত প্রথায় রিটার্ন জমা দেন। কারণ এই প্রযুক্তি ব্যবহার প্রসঙ্গে অভ্যস্ত নন করদাতারা। আরও সময় লাগবে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অনলাইন পদ্ধতিতে খুব কমসংখ্যক করদাতা রিটার্ন জমা দেন। ২০১৭-১৮ করবর্ষে মোট ১৮ লাখ আয়কর রিটার্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে মাত্র ৪৩ হাজার আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দেওয়া হয়। মোট জমা পড়া রিটার্নের এটি মাত্র ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর আগের করবর্ষে অনলাইনে জমা দেন মাত্র পাঁচ হাজার। চলতি করবর্ষে এখন পর্যন্ত মোট রিটার্ন জমা পড়েছে প্রায় ১৬ লাখ। পুরো হিসাব পেতে আরও সময় লাগবে। তবে সদ্য শেষ হওয়া আয়কর মেলার তথ্য অনুযায়ী চার লাখ ৮৮ হাজার করদাতার মধ্যে মাত্র তিন হাজার ৭৭০ জন অনলাইনে সাড়া দেন। উপরোক্ত পরিসংখ্যানের হিসাবে এটা স্পষ্ট যে, অনলাইনের প্রতি করদাতাদের সাড়া এখনও তেমন মিলছে না। উন্নত বিশ্বে এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মালয়েশিয়ায় যে সংখ্যক আয়কর রিটার্ন দাখিল হয়, তার ৫০ শতাংশের বেশি ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় দেওয়া হয়। অথচ বাংলাদেশে এই চিত্র খুবই হতাশাজনক বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

প্রতিবছর ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস উদযাপন করে এনবিআর। এ জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এনবিআর। যোগাযোগ করা হলে এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিয়া উদ্দিন মাহমুদ করদাতাদের উদ্দেশে সমকালকে বলেন, নির্ভয়ে কর পরিশোধ করুন। একই সঙ্গে সরকারকে নিয়মিত কর দিয়ে বৈধ সম্পদের নিশ্চিত মালিক হওয়ার জন্য করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এনবিআরের মাধ্যমে আদায় করা মোট রাজস্বে আয়করের অংশ বর্তমানে ৩২ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট আয়কর আহরণ হয় ৬৫ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা। কত আদায় হয়েছে সে হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ সমকালকে বলেন, যাদের কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে, তাদের সবাইকে কর প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য এ এস এম জহির মোহাম্মদ বলেন, কর আদায় বাড়াতে হলে ইতিমধ্যে যাদের ই-টিআইএন আছে তাদের সবাইকে রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যারা জমা দেন না, তারা কেন দেন না, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

জানা যায়, কর প্রশাসনকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক উৎসে কর ব্যবস্থা প্রবর্তন, আধুনিক কর তথ্য ইউনিট গঠন, আন্তর্জাতিক করের জন্য পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো সৃজন, গুরুত্বপূর্ণ জেলাসহ পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় কর অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সেগুলো কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এখনও।

২ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে :আজ আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় হলেও আরও দু’দিন সময় পাওয়া যাবে। এনবিআর বলেছে, শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। এ ছাড়া রোববার ২ ডিসেম্বর কর্মদিবসে রাত পর্যন্ত করদাতারা তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ