Skip to main content

জিনের বাদশা চক্রের মূল হোতা গ্রেফতার

সুজন কৈরী : জিনের বাদশাহ পরিচয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের মূল হোতা জুবায়ের আহমেদ সুমনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম (হোমিসাইডাল স্কোয়াড)। বৃহস্পতিবার দুপুরে মালিবাগের সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সিআইডি জানায়, বিভিন্ন ভুক্তভোগীর বক্তব্যে ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রাজধানীর ফার্মগেটের হোটেল ইন্দ্রপুরী ইন্টান্যাশনাল থেকে সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রতারণা চক্রের সদস্য বিভিন্ন সময়ে ‘জিনের বাদশা’, ‘দয়াল বাবা’ সেজে বিভিন্ন সমস্যারা সামাধানের আশ্বাস দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করে। লটারি, গুপ্তধন, জটিল রোগ থেকে মুক্তি, পাওনা টাকা আদায়, দাম্পত্য কলহ, ভালোবাসার মানুষকে বশে আনাসহ সকল সমস্যার সমাধান করতে পারার কথা বলে বিভিন্ন হুজুরের ছবি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে। সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শাহআলম বলেন, কথিত জ্বিনের বাদশা বা দয়াল বাবারা প্রতিনিয়ত প্রতারণা করছে। প্রতারণার জন্য তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। আর এসব বিজ্ঞাপন দেখে সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের বিশ্বাস জন্য নেয়। আর এই বশ্বাসকে পূঁজি করেই প্রতারণায় মেতে উঠে প্রতারক চক্র। সহজ সরল সাধারণ মানুষের মতো তাদের প্রতারণার শিকার অনেক শিক্ষিত লোকজনও। এর আগে রাজধানীর এক শিক্ষিত গৃহবধূকে প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা খোয়াতে হয়েছে। প্রেমিকার সঙ্গে মনোমালিন্য দূর করতে ও লটারি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কথিত জিনদের ‘টিভি জিন ও মোবাইল জিন’ নামে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। টিভি জিনদের কাছে গিয়ে মানুষ নিজেরাই প্রতারিত হন। আর মোবাইল জিন ফোন করে ভিকটিমদের ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছে আনে। সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির হোমিসাইডাল স্কোয়াডের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, সোহেল মোল্লা নামের এক ব্যক্তি এ প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়ে ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকা খুইয়েছেন। তাকে লটারি পাইয়ে দেবে বলে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানি ট্রান্সফার, ব্যাংক ও বিভিন্ন মাধ্যমে টাকাগুলো হাতিয়ে নেয় চক্রটি। গত বছরের ২২ জুলাই ভোলার বোরহান উদ্দিন থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী। দায়িত্ব পাওয়ার পর মামলাটির তদন্ত করে সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। সুমন জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে জানিয়েছেন, মাসিক ২০ হাজার টাকা দিয়ে জনৈক তৈয়েবুর রহমান নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন, বর্তমান দিনকাল ও চিত্র বাংলা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। এসব বিজ্ঞাপনে তারা বিভিন্ন দরবার শরীফের নাম ব্যবহার করে সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারে বলেও প্রচার করত। এসব বিজ্ঞাপন দেখে সাধারণ মানুষ ফোন করলে জুবায়ের ওই ব্যক্তিদের সমস্যার সামাধান করতে পারবে বলে টাকা আত্মসাৎ করতেন। সিআইডি জানায়, ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর বোরহান উদ্দিন থানায় দায়ের করা অপর একটি মামলায় সুমনের পাঁচ বছরের সাজা হয়। ওই মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সুমন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একই থানায় একধিক আরো মামলা রয়েছে। ওই মামলায় সুমনের তিন সহযোগী মো. জাফর ইকবাল ওরফে কাজল, মো. সাগর ও মো. ছামিরকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে জাফর এবং সাগর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দীতে সুমনের নাম উঠে এসেছে।

অন্যান্য সংবাদ