প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘নির্বাচনী কৌশলের’ কারণে নেই মিন্টু-আলাল-সোহেল

ডেস্ক রিপোর্ট: দলের প্রত্যয়ন পেয়েও আবদুল আউয়াল মিন্টু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন নবী খান সোহেলের মতো নেতাদের মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়াকে ‘নির্বাচনের কৌশল’ হিসেবে দেখছেন নজরুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, “প্রত্যেকটা নির্বাচনে সব এলাকায় আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখার জন্য যেতেন। এখন উনি নাই। আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবও দেশে নাই। এখন এই কাজ আমাদের অনেকজনকে করতে হবে।

“আমি তো দরখাস্তই করি নাই, রিজভী (রুহুল কবির রিজভী) সাহেব দরখাস্তই করেন নাই। কাজেই আরো কাউকে কাউকে হয়ত…। দলের পক্ষ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি যে, আমাদের এসব নেতারা তারা নিজেরা নির্বাচন করবেন না, কিন্তু তারা বাকীদের নির্বাচন করে দেবেন। কাজেই আপনারা যাদের কথা বলছেন, তারা যোগ্য মানুষ। এটাকে নির্বাচনী কৌশল বলতে পারেন। এরকম নির্বাচনী কৌশল হতেই পারে।’’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আউয়াল মিন্টুকে ফেনী-৩, যুগ্ম মহাসচিব আলালকে বরিশাল-২ এবং যুগ্ম মহাসচিব সোহেলকে ঢাকা-৯ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

তবে মনোনয়ন জমার শেষ দিন বুধবার সন্ধ্যায় তিন জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে খবর নিয়ে তাদের মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ার খবর জানা যায়।

নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই অভিযোগ করে সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, মামলা দিয়ে আটক করার নানা ঘটনা তুলে ধরেন নজরুল।

“নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। যারা মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছে তাদের বাধা দিচ্ছে, বিএনপির নেতার পক্ষে স্লোগান দিলে তাদের আক্রমণ করছে, নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি হামলা করছে এবং আমাদের যারা সক্রিয় নেতাকর্মী তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, গ্রেপ্তার করছে, অনেকে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন।

“এই যে পরিস্থিতি- সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটা বড় অন্তরায় বলে আমরা মনে করি। কোনো গণতান্ত্রিক সরকার এই ধরনের আচরণ করতে পারে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের পদে পদে সরকার বাধা ‍সৃষ্টি করছে এবং দুর্ভাগ্যক্রমে নির্বাচন কমিশন তাদের সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।”

নজরুল বলেন, “আপনারা দেখেছেন, এই নির্বাচন কমিশন…সরকারি দলের নেতারা যে কথা বলে কমিশনের কর্মকর্তারা সেই কথাই বলে। অথচ আমরা সাংবিধানিক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এই ধরনের যে অনাচার ঘটছে তার বিচার চাচ্ছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশন বলেছেন, পুলিশ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তাহলে এই যে আচরণ ও নির্যাতন হচ্ছে, এই যে মিথ্যা মামলা, অযথা হয়রানি, গ্রেপ্তার, নিখোঁজ করা সেগুলো কি কমিশনের ইচ্ছাতে ঘটছে ? নাহলে আমরা দাবি করব, অবিলম্বে ওইসব অনাচারের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক, বিচার করা হোক, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসা ঘেরাও করে রেখে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও ভোলা-৩ আসনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিনের পক্ষে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনার নিন্দা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংবাদ সম্মেলনের দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, বেলাল আহমেদ, সাইফুল ইসলাম পটু, একেএম আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বিডি নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ