প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে বাংলা সিনেমা অবশ্যই একবার দেখা উচিত !

বিনোদন ডেস্ক : বাংলা সিনেমার রয়েছে অনেকদিনের ঐতিহ্য। এক সময় বাংলাদেশেই চমৎকার সব সিনেমা তৈরি হয়েছে। সে রকমই পাঁচটি সিনেমা সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হয়, যা আমাদের সকলের দেখা উচিত।

১. জীবন থেকে নেয়াঃ ১৯৭০ সালে কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান এই সিনেমাটি তৈরি করেন। একটি বাড়িতে একজন নারীর আধিপত্যকে রুপক ধরে তৎকালীন পূর্ব পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থাকে ‘স্যাটায়ারের’ মাধ্যমে চমৎকার ফুটিয়ে তুলেছেন জহির রায়হান। স্বাধীনতার পূর্বে বাঙালী জাতীয়তাবাদ, বাংলা ভাষা নিয়ে এমন বলিষ্ঠ সিনেমা জহির রায়হানের সাহসের পরিচয় বহন করে। বিদ্রোহ, প্রেম, কৌতুকের সন্নিবেশ এই সিনেমাটিকে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।

২. ওরা ১১ জনঃ মুক্তিযুদ্ধের পরে, ১৯৭২ সালে চাষী নজরুল ইসলাম নির্মাণ করেন এই সিনেমা। এগারো জন মুক্তিযোদ্ধা যুবকের গল্প। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি জানি। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের অংশ। সেই ঐতিহাসিক সত্যকে পর্দায় তুলে এনেছেন পরিচালক। তিনি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা। সিনেমার প্রধান চরিত্র খসরু সহ এগারো জন যুবক, সকলেই মুক্তিযোদ্ধা। আমরা এই সিনেমা দেখে জানতে পারবো একাত্তরের স্বরূপ। সেই সময়ের তরুণ যুবকদের আবেগ এবং সাহসিকতার গল্প।

৩. সূর্যদীঘল বাড়িঃ আবু ইসহাকের উপন্যাস থেকে ১৯৭৯ সালে কাজী শাকের নিয়ামত নির্মাণ করেন এই সিনেমা। গ্রাম বাংলার মানুষের জীবন, যাপন, অর্থনৈতিক দৈন্যের সঙ্গে কু সংস্কার আর সে সব উপজীব্য করে তৈরি। ধীরগতির এই সিনেমা ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ অবশ্যই দেখা উচিত।

৪. আগুনের পরশমণিঃ আমাদের কিংবদন্তী কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণেও তাঁর প্রতিভার পূর্ণ ছাপ রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক তাঁর ‘আগুনের পরশমণি’ আমাদের অবশ্যই দেখা উচিত। সিনেমায় আমরা দেখা পাই একজন সরকারী কর্মকর্তার, যিনি দুই কন্যা এবং স্ত্রী সহ একটি বাড়িতে অবস্থান করেন। সেখানে আশ্রয় নেয় একজন মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের সময় কেমন ছিল বাঙালীর মনোভাব, কেবল ছিল তাঁর মানসিক অবস্থা। এই সিনেমার গল্প তা নিয়ে।

৫. মাটির ময়নাঃ তারেক মাসুদের পরিচালনায় ‘মাটির ময়না’ বাংলা সিনেমার একটি মাইলফলক। এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা, প্রান্তিক মানুষের ধর্মান্ধ মনোভাব আর বদলের ডাক নিয়ে এই সিনেমার গল্প। এখানে একটি বালককে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয় ইচ্ছের বিরুদ্ধে। অতঃপর সেখানে তাঁর জীবন, তাঁর কৈশোরের স্বপ্ন নিয়ে সিনেমার গল্প এগিয়ে যায়। সেই সঙ্গে আমরা জানতে পারি আমাদের প্রান্তিক মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের মাঝে মিশে থাকা গোঁড়ামির কথা। একটি মাটির তৈরি পাখির কথা। ২০০২ সালে নির্মিত এই সিনেমা আমাদের সকলের দেখা উচিত।

আজকাল বলিউড আর হলিউড জোয়ারে বর্তমান প্রজন্ম বাংলা সিনেমা দেখে না বললেই চলে। হাল আমলে ‘আয়নাবাজি’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘দেবী’ প্রভৃতি সিনেমার কল্যাণে কিছু মানুষ সিনেমা হলে যাওয়া শুরু করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত