প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘জামায়াত শুধু যুদ্ধাপরাধী দল নয়, জামায়াতে মুক্তিযোদ্ধাও আছে’

শিমুল মাহমুদ: কোন যুদ্ধাপরাধীকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, জামায়াতে শুধু যুদ্ধাপরাধী নয়, জামায়াতের মধ্যে অনেক মুক্তিযোদ্ধাও আছে। বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির তিন জন জনপ্রিয় নেতা যারা মনোনয়ন পাওয়ার পরেও রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে আসেননি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, যে কোন নির্বাচনে সবাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে না, কেউ কেউ থাকে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য, প্রার্থীদের সহযোগীতা করার দায়িত্ব পালন করে থাকে।

তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী এখন জেলে। এর আগে সব নির্বাচনে নির্বাচনী এলাকায় তিনি নিজেই যেতেন, প্রার্থীদের পক্ষে মন্তব্য রাখার জন্য। এখন তিনি নেই, তাছাড়া আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তিনিও দেশের বাহিরে রয়েছেন।

আমিও তো নিজেই দরখাস্ত করি নাই, রিজভী সাহেব তিনি নিজেও ফরম তুললেন না। দলের আরো অনেকে আছে যারা দরখাস্তই করেননি। দলের সিদ্ধান্ত আছে অনেকে নির্বাচন করবেন না, কিন্তু দায়িত্ব পালন করবেন। বলা যায় এটা আমাদের নির্বাচনী কৌশল।

২০ দলের জন্য কত আসন ছেড়ে দিতে হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি হাস্যকরভাবে তিনি বলেন, আমরা একটাও ছাড়ি না কিংবা একটাও ধরিনি, আমরা প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছি, ২০ দলের মধ্যে যারা রেজিস্ট্রি পার্টি তারা নিজেরাই দিয়েছে, যারা রেজিস্ট্রি না তাদেরকে আমারা দিয়েছি। কিন্তু সবাইকে বলা হয়েছে আমরা এক আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়েছি। বাচাইয়ের পরে প্রত্যাহারের আগে প্রতি আসনে একজন প্রার্থী দিয়ে প্রতীক বরাদ্ধ করবো। যখন প্রতীক বরাদ্ধ করবো তখন জানতে পারবেন কোন দলকে কয়টা আসন দিয়েছি।

২০ দলের এই সমন্বয়ক বলেন, আওয়ামী লীগ একের পর এক ফাউল করছে। সরকার ও ইসি নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচন কমিশন সরকারের সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এভাবে চলতে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

তিনি বলছেন, মনোনয়ন জমা দিতে আমাদের নেতাকর্মীদের পদে পদে বাধা দেয়া হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সবাইকে আসামি করা হচ্ছে। অনেকেই নিখোঁজ হচ্ছে। এগুলো সবই সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক অভিযোগ করে বলেন, ২০১৪ সালের মতো আরও একটি প্রহসনের নির্বাচন করতে সরকার গ্রেফতার বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে। তিনমাস পূর্বে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারান্তরীণ তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের নেতা আব্দুল্লাহ আল তামিম গাজীপুর জেলে গতকাল মৃত্যুবরণ করেছে। কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও সরকারের নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ