প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্লার্কের মন্তব্যে জবাব পেনের, ‘আমরা আগ্রাসীই থাকব’

স্পোর্টস ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক ইন্ডিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলকে ভাল ছেলের দল হওয়ার চেষ্টা ছেড়ে আগ্রাসন ফিরিয়ে আনার যে পরামর্শ দিয়েছেন, তা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে সে দেশের ক্রিকেট মহলে। এই নিয়ে অস্ট্রেলীয় প্রাক্তন ক্রিকেটারদের ভাবনা ভিন্ন ভিন্ন। কেউ ক্লার্কের পক্ষে, আবার কেউ তাকে সমর্থন করতে নারাজ। এই বিতর্কে ঢুকে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক টিম প্লেনও। তার মতে, ‘বিপক্ষের কাছে ভাল হওয়ার কোনও ইচ্ছে নেই আমাদের। বরং দেশের মানুষের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস আদায় করাই আমাদের লক্ষ্য।’

গত মঙ্গলবার ক্লার্ক মন্তব্য করেন, ‘সবার পছন্দের দল হওয়ার দুশ্চিন্তা ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া বরং কী ভাবে বিপক্ষের সমীহ আদায় করতে পারে, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করুক। কঠোর, আগ্রাসী অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটেই খেলুক ওরা।’ ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ শুরুর ঠিক আগে প্রাক্তন অধিনায়কের এই মন্তব্য সে দেশের ক্রিকেটে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এবং এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন খোদ অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক পেন, যার নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া দল সম্প্রতি নিজেদের পুরোপুরি পাল্টে ফেলেছে। তাদের সেই চেনা আগ্রাসন মাঠের বাইরে রেখেই তারা খেলতে নামছেন এখন।

প্লেন তার পূর্বসূরি ক্লার্ক-কে পাল্টা জবাব দিয়েছেন এক ক্রিকেট ওয়েবসাইটে। বলেছেন, ‘বিপক্ষের কাছে পছন্দের দল হয়ে ওঠার প্রশ্নই নেই। আমরা চাই অস্ট্রেলিয়ার মানুষ ও ক্রিকেটপ্রেমীরা আমাদের পছন্দ করুক।’ ক্লার্ককে আশ্বস্ত করে পেন বলেছেন, ‘ক্লার্কের ইচ্ছে অনুযায়ী আমরা কঠোর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটই খেলব। জোহানেসবার্গে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা সবার পক্ষেই খুব কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু দুবাইয়ে ছেলেরা যথেষ্ট কঠিন লড়াই করেছিল। আমরা সেই খেলাটাই চালিয়ে যাব।’

অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক মনে করেন দলের একাধিক সিনিয়র তারকা ফিরে এলে দলের চেহারা কিছুটা বদলাবে। বলেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে তো জশ হ্যাজেলউড, পট কামিন্স, মিচেল স্টার্কের মতো একাধিক সিনিয়র দলে ফিরছে। ওরা এলে আত্মবিশ্বাসের স্তর অনেকটা উঠবে। যার জেরে যে আত্মবিশ্বাসী, আগ্রাসী ক্রিকেটটা খেলতে চাই আমরা, সেটাই খেলব।’

ক্লার্কের মতে সায় নেই প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার সাইমন কাটিচের। খেলোয়াড় জীবনে প্রাক্তন অধিনায়কের সঙ্গে তার সম্পর্ক এমনিতেই খুব একটা ভাল ছিল না। ২০০৯-এ সিডনি টেস্টের পরে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া নিয়ে তুমুল তর্কাতর্কি হওয়ায় কাটিচ নাকি ক্লার্কের গলা টিপে ধরেছিলেন বলে শোনা গিয়েছিল। সেই কাটিচ এ দিন ক্লার্কের নাম না করেই বলেন, ‘অনেকে হয়তো ভুলে যাচ্ছেন নিউল্যান্ডসে কী হয়েছিল। আমরা ওখানে জঘন্য ভাবে ঠকিয়েছিলাম এবং তাতে ধরাও পড়েছলাম। শুধরে নিয়ে তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিজেদের প্রতি দেশের ও বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের আস্থা ফেরাতে হবে পেনদের।’ তবে কাটিচ মনে করেন সভ্যতার সীমার মধ্যে থেকেও আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা যায়। এবং তিনি চান সেটাই করুন পেনরা।

ক্লার্ক অবশ্য পাশে পেয়েছেন আর এক প্রাক্তন তারকাকে। কুখ্যাত ‘মাঙ্কিগেট’ কেলেঙ্কারিতে যিনি হরভজন সিংহ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। সেই ম্যাথু হেডেন এই নিয়ে বলছেন, ‘বিপক্ষকে টক্কর দেওয়ার মানসিকতা নিয়েই খেলতে নামতে হয়। নিজেকে ভাল ছেলে প্রমাণ করার জন্য কেউ মাঠে নামে না।’ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা লড়াকু মেজাজে না থাকলে সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারি না। এখানে লড়াই মানে হাতাহাতি বা গালাগালির কথা বলছি না। শরীরের ভাষার কথা বলছি। জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নামলে শরীরের ভাষা যে রকম থাকে, সে রকমই থাকা উচিত মাঠে। ক্লার্ক বোধহয় এটাই বলতে চেয়েছে। কারণ, এটাই ঠিক।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ