প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইনি জটিলতায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না খালেদাসহ বিএনপি-আ.লীগের ২২ নেতা

নূর মোহাম্মদ : দুই বছর বা তার অধিক দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি পুরোপুরি খালাস না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, হাইকোর্টের দেওয়া এমন আদেশ বহাল রয়েছে আপিল বিভাগেও। এর আগে মঙ্গলবার হাইকোর্ট এ সংক্রান্ত আদেশ দেন। একইসঙ্গে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেন, আপিল বিভাগে দণ্ড স্থগিত বা বাতিল হলেই কেবল অংশ নিতে পারবেন। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, সাজা স্থগিতের কোনো আইন নেই।

তবে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের আবেদনে আপিল বিভাগ সাড়া দেননি। হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকায় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের ব্যাখ্যার পর খালেদা জিয়াসহ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আরও প্রায় ২২ নেতা একাদশ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, নৈতিক স্খলনজনিত কারণে অনূন্য দুই বছর কারো সাজা হলে মুক্তিলাভের পরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের জন্য। এটা সবার জন্য প্রযোজ্য, খালেদা জিয়া হোক বা যে কোন প্রার্থী হোক। দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, হাইকোর্টের আদেশ এবং সংবিধানের আলোকে খালেদা জিয়াসহ দণ্ডিতরা আপিল বিভাগে খালাসের আগ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে সেটা হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে বহাল থাকার আগ পর্যন্ত কার্যকর করা যায় না। খালেদা জিয়ার আপিল বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। আপিল বিভাগ তার সাজা এখনো নিশ্চিত করেনি। নির্বাচন করা সবার অধিকার। তাই খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নিতে কোন বাধা নেই বলে জানান এই আইনজীবী।

হাইকোর্টের আদেশ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের ২১ নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না। এর মধ্যে খালেদা জিয়া, নাজমুল হুদা ও তারেক রহমানের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এখন তারা আপিল বিভাগে গেলে সেখানে বিষয়টি পুনরায় নিষ্পত্তি হবে।

হাইকোর্টে আপিল বিচারাধীন রয়েছে মীর নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমান উল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমান, মশিউর রহমান, ওয়াদুদ ভুঁইয়া, আব্দুল ওহাব, হাজী মকবুল আহমেদ, হাজী মোহাম্মদ সেলিম, জয়নাল হাজারী ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের। এর আগে হাইকোর্ট এদের সাজা বাতিল করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের বিষয়ে দুদক আপিল বিভাগে গেলে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দেন। একইসঙ্গে হাইকোর্টকে পুনরায় শুনানি করে রায় দিতে বলা হয়। যা এখন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এর বাইরে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে শাহজাহান চৌধুরীর (জামায়াত) ও ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের আপিল। আর সম্প্রতি বিচারিক আদালতে সাজা পেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। তবে সাদেক হোসেন খোকা গতকাল দণ্ড প্রাপ্ত হয়েছেন। এখন তাকে হাইকোর্টে আপিল করতে হবে।

মোরশেদ খান ও ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা থেকে এ দুই নেতাকে খালাস দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে দুদক। আর সম্প্রতি হাইকোর্টে খালাস পেয়েছেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী মায়াও নির্বাচন করতে পারবেন না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ