প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নয়াপল্টনে পুলিশ সফল ধানমন্ডিতে নীরব

প্রথম আলো : রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হেলমেটধারী দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ। নিজেদের সফলতার কথা জানাতে ২০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সংবাদ সম্মেলনও করেছে। বিএনপির কার্যালয়ের সামনে হেলমেটধারীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছেন, ভাঙচুর করেছেন। তাঁরা ছাত্রদলের নেতা–কর্মী। সহিংসতায় জড়িত হেলমেটধারীদের এক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮৯ জন কারাগারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ ঘটনা প্রমাণ করে যে পুলিশ চাইলে যেকোনো ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। এসব ক্ষেত্রে পুলিশের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। কিন্তু সাড়ে তিন মাস আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় সায়েন্স ল্যাবরেটরি-ধানমন্ডি এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী হেলমেটধারীদের এখনো শনাক্তই করতে পারেনি পুলিশ। ২০ নভেম্বর ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে হামলাকারী হেলমেটধারীদের কেউ শনাক্ত বা গ্রেপ্তার হয়েছে? জবাবে পুলিশ বলেছে, অপরাধকে পুলিশ অপরাধ হিসেবেই দেখে। ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। দায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না। তবে হামলার শিকার ভুক্তভোগীরা মনে করেন, হামলাকারী হেলমেটধারীরা ছাত্রলীগের নেতা–কর্মী হওয়ায় সরকার বা পুলিশ এ ক্ষেত্রে নীরব রয়েছে। এই তদন্ত আর শেষ হবে না।

উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে হেলমেটধারী দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনার পরপরই প্রথম আলোর অনুসন্ধানে হামলার নেতৃত্বদানকারী ও অংশগ্রহণকারী অনেকের নাম–পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু সে সময় সরকার ও পুলিশের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের শনাক্ত এবং বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়ায় প্রথম আলো সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। অথচ সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

ধানমন্ডিতে পুলিশ নীরব
নয়াপল্টনের ঘটনাটি ১৪ নভেম্বরের। আর সায়েন্স ল্যাবরেটরি–ধানমন্ডি এলাকায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে হামলার ঘটনাটি গত ৫ আগস্টের। সেদিন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হেলমেট পরা একদল যুবক হামলা চালান। আহত হন ১২ জন সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন।

নয়াপল্টনের ঘটনায় জড়িত হেলমেটধারীদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। একইভাবে সায়েন্স ল্যাবরেটরি–ধানমন্ডির ঘটনায় জড়িত হেলমেটধারীদের ছবি, ফুটেজও তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের একজনকেও এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলছেন, নয়াপল্টনের ঘটনায় হামলাকারীদের যদি এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়, তাহলে শিক্ষার্থী–সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী হেলমেট বাহিনীকে গ্রেপ্তার করতে বাধা কোথায়? পুলিশের দ্বিমুখী ভূমিকা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।

যদিও গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হস্তক্ষেপ চেয়ে ৭ আগস্ট চিঠি দিয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এদিন সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের ছবি তাঁরা পেয়েছেন। গোয়েন্দারাও পেয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, এ বিষয়ে প্রতিকার হবে। এরপর ১১ আগস্ট কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় এক সুধী সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, হামলাকারীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে এবং তদন্ত করে শনাক্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর এক দিন পর পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী বলেছিলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কাজ করছে। সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনও হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেছিল। কিন্তু ঘটনার সাড়ে তিন মাস পরও কাউকে গ্রেপ্তার করা দূরের কথা, শনাক্তও করা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ এখন পুরো বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলে গেছে বলে সবার ধারণা।
এ বিষয়ে গত সোমবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তো মামলা করতে বলেছিলাম, করেছে বোধ হয়। যদি না করে থাকে, আমি জানতে চাইব, কেন করেনি। অবশ্যই মামলা করা উচিত।’

চিঠির অগ্রগতির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। মামলা করতে কেন বিলম্ব হচ্ছে জানতে চাইব। তিনি যা জবাব দেবেন, আমি আপনাদের তা জানাব।’

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে হামলা
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সায়েন্স ল্যাবরেটরি–ধানমন্ডি এলাকায় ৫ আগস্ট শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছিলেন মূলত ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নির্দেশে এই বেপরোয়া হামলার ঘটনা ঘটে। আর মাঠে থেকে হামলায় নেতৃত্ব দেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সিহাবুজ্জামান ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের অন্তত পাঁচজন যুগ্ম আহ্বায়ক।

ঢাকা কলেজের বিভিন্ন আবাসিক হলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৪ আগস্ট শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা হয়েছে শুনে কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা সংগঠনের কর্মীদের সেখানে নিয়ে যান। পরে রাতে নেতারা সবাইকে পরের দিনের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর ৪ আগস্টও জিগাতলায় হামলা হয়েছিল। এ হামলার প্রতিবাদে ৫ আগস্ট শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মিছিল বের করে। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা নার্সিং কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী শাহবাগে জড়ো হন। দুপুর ১২টার দিকে তাঁদের মিছিলটি শাহবাগ থেকে জিগাতলা হয়ে আবারও শাহবাগে ফিরে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে জিগাতলার দিকে অগ্রসর হয়। অন্যদিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রামদা, রড, হকিস্টিক, চেলা কাঠ নিয়ে ঢাকা কলেজ থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের দিকে রওনা হন। সামনের সারির নেতারা মাথায় হেলমেট পরে এতে নেতৃত্ব দেন। ততক্ষণে জিগাতলায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। আন্দোলনকারীরাও ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েন।

হামলার শিকার সাংবাদিকেরা জানান, ছাত্রলীগের হেলমেট পরা দলটি সেদিন প্রথমেই সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে অবস্থান নেন। এরপর মোড়ের পদচারী-সেতুর (ফুটওভারব্রিজ) ওপর থেকে যেসব ফটোসাংবাদিক ও সাংবাদিক ক্যামেরা বা মুঠোফোন দিয়ে ছবি তুলছিলেন, তাঁদের উদ্দেশে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে নামতে বাধ্য করেন। বেশ কয়েকজনকে তখনই বেধড়ক পেটানো হয়। এরপর ছাত্রলীগের কর্মীরা অন্তত পাঁচটি ভাগে ভাগ হয়ে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। শুরু হয় বেধড়ক মারধর।

হামলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সিহাবুজ্জামান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার পরপর ১০ আগস্ট তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘ওই দিন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা মাঠে ছিলাম। তবে আমার সামনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী বা সাংবাদিকদের মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

আর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী গত রোববার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সেদিন সিটি কলেজ এলাকায় তিনি ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আন্দোলনকারীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন। এ সময় তাঁদের কয়েকজন কর্মীও আটকা পড়েন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে আটকা পড়া কর্মীদের উদ্ধার করেন। সাংবাদিক বা কোনো ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় তাঁরা জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেন।

আলোকচিত্রীদের তোলা ছবিতে হামলাকারী ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের পাঁচজন যুগ্ম আহ্বায়কসহ অনেকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা সবাই ছাত্রলীগের নেতা–কর্মী।

হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচ যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন এস এম জোহা, ইমরুল হাসান ওরফে লেনিন, ফরহাদ মির্জা, মোনায়েম হোসেন ওরফে জেমস ও চিরঞ্জিত বিশ্বাস। এর মধ্যে মোনায়েম ও ফরহাদ হেলমেট পরা ছিলেন। ১২ আগস্ট এস এম জোহা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘কলেজের অনেকে গিয়েছিল। আমিও গিয়েছিলাম। মারধরের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।’ আপনার অনুসারীরা তো সহিংস ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আমি একা নেতা না। অনেকের অনুসারী আছে। কারা করেছে আমি জানি না।’

হামলার সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ঢাকা কলেজে ছিলেন। এ বিষয়ে ১৫ আগস্ট কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরুল হাসান বলেছিলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক সেদিন সাড়ে ১২টার দিকে কলেজে আসেন। তিনি আমাদের ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে এসে বসেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না ছাত্রলীগের কেউ সাংবাদিকদের মারধর করেছে। এরপরও কেউ যদি আমার কলেজের হয়ে থাকে, ছাত্রলীগের কোনো কর্মী হয়ে থাকে; আমি তাদের চিহ্নিত করে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করব।’

সেদিন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মোয়াজ্জম হোসেন মোল্লাহ গত ২৩ নভেম্বর প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সেদিন তাঁর কক্ষে এসেছিলেন পরিচিত হতে এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করতে। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর চা খেয়ে তিনি চলে যান।

সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের হামলা বা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ মির্জা। ১৫ আগস্ট তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমি ওই দিন কলেজের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করেছিলাম। সেখানে কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোনায়েম হোসেনও ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছেন। আর চিরঞ্জিত বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ভীতি কাটেনি
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবিও মেনে নিয়েছে সরকার। আর সেদিনের হামলায় আহত হয়েছিলেন ১২ জন সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন। তাঁদের একজন ফ্রিল্যান্স ফটোসাংবাদিক রাহাত করিম। রড, লোহার পাইপ, লাঠি আর রামদা দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটানো হয়েছিল। তাঁকে মারধরের ছবি পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। এখনো তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। গত শুক্রবার রাহাত করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সেদিন কারা আমাদের পিটিয়েছিল, তার অনেক ছবি-ভিডিও রয়েছে। পুলিশ চাইলেই এদের গ্রেপ্তার করতে পারত। কিন্তু তারা কিছুই করেনি।’ সেদিনের ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন পর্যায়ে চিকিৎসা নিলেও এখনো তাঁদের ভীতি কাটেনি।

১৪ নভেম্বর পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। অথচ ৫ আগস্ট ধানমন্ডি ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় হেলমেট বাহিনী তাণ্ডব চালালেও পুলিশ কোনো মামলা করেনি। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশকে মামলা করতে নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। গত শনিবার ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খালিক ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার পর্যন্ত ৫ আগস্টের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। মামলা ও তদন্ত না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনি ডিএমপির মিডিয়া শাখার উপকমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’ ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে ২০ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তাই তাঁদের বক্তব্য।

উল্লেখ্য, নয়াপল্টনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের বিষয় জানাতে ২০ নভেম্বর ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ বলেছিল, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে হামলার ঘটনার তদন্ত চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এখানে পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণ দেখছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘পুলিশ পারে না বিষয়টা এমন না। কিন্তু কোনো ঘটনায় তদন্ত হচ্ছে, কোনো ঘটনায় না। এর কোনো ব্যাখ্যাও পাওয়া যাচ্ছে না। খুবই স্পষ্টভাবে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশ নিজের কাজ নিরপেক্ষভাবে করবে। এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ খুবই হতাশাব্যঞ্জক।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ