Skip to main content

বিচারের আশায় ১৪ বছর কারাগারে বসে লড়াই

সাদিয়া এস সিলভি : মানিকগঞ্জের শুকুর আলির বয়স যখন ১৪, তখন তার বিরুদ্ধে ৭ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি হলো ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইনের ৬(২) ধারায়। যখন চার্জ গঠন হয়, তখন তার বয়স ১৬ বছর। ১৯৭৪ সালের চিলড্রেন অ্যাক্ট অনুযায়ী, তখনো সে শিশু। এই আইনের সেকশন ৬, সাব সেকশন (১) অনুযায়ী, শিশুদের পৃথক বিচার হওয়ার কথা। কিন্তু শুকুর আলির বিচার হচ্ছিলো এই মামলার অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্ক আসামির সঙ্গে। এই অভিযোগে ২০০১ সালের ১২ই জুলাই শুকুর আলির ফাঁসির আদেশ হলো। সেই সময় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে (বিশেষ বিধান) অভিযোগ প্রমাণ হলে বাধ্যতামূলক ফাঁসির বিধান ছিলো। পরে অবশ্য ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এটা রদ করা হয়। মামলা চলাকালে হাইকোর্ট ডিভিশন উল্লেখ করে, ‘প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের সঙ্গে শিশুর বিচার আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।’ কিন্তু শুকুর আলির আইনজীবী এই বিষয়টি তুলে ধরে কোন যুক্তি দেখাননি। বক্তিয়ার হোসেন বনাম রাষ্ট্র এবং শিপলু বনাম অন্যদের মামলায় হাইকোর্ট ডিভিশনের নির্দেশনা ছিলো, ‘অভিযুক্ত হোক বা না হোক, কাউকে যদি কোন আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালতের ধারণা হয় যে সে শিশু, তবে আদালত তার বয়স নির্ণয়ের জন্য তদন্ত করবে।’ তবে সুকুর আলির মামলার বিজ্ঞ বিচারক তার বয়স প্রমাণের জন্য কোন তদন্ত করেননি। হাইকোর্ট বিভাগেও শুকুর আলির বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতের দেয়া ফাঁসির আদেশ বহাল থাকলো। আগের অনেক মামলায় নজির থাকা সত্ত্বেও হাইকোর্ট বিভাগ এই মামলা শিশু অপরাধ আইনে বিচারের জন্য প্রেরণ করলেন না বা বিশেষ বিধান আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা করলেন না। এই রায় আমাদের সংবিধানের ৩১ ধারায় প্রদত্ত শিশু অধিকারের লঙ্ঘন। এখন প্রশ্ন, তাহলে এমন রায় দেয়া হলো কেন? হাইকোর্ট ডিভিশন এই মামলার ডেথ রেফারেন্সে একথাও বললেন যে, ‘দোষী সাব্যস্ত বন্দি যে শিশু, সে ব্যাপারে সন্দেহ করার কোন কারণ নেই।’ কিন্তু ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইনে বলা আছে, শিশুর বিরুদ্ধে এধরনের অপরাধে ‘যে কেউ’ দোষী সাব্যস্ত হবে…। ‘যে কেউ’ বলতে শিশুকেও বুঝায় বৈকি! যাই হোক, শুকুর আলিকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হয়নি। ১৪ বছরেরও বেশি সময় কনডেমড সেলে কাটানোর পর তার সাজা কমিয়ে আজীবন কারাদ- দেয়া হয়। এখন স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন এসে যায়, দোষটা কার? মামলার আইনজীবী ততটা চেষ্টা করেননি এবং আইনজীবী হিসাবে তাঁর নৈতিক দায়িত্ব পালন করেননি নাকি বিজ্ঞ বিচারক তাঁর বিচারিক দক্ষতা প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছেন? যেভাবেই হোক শুকুর আলির মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ার একটা ব্যর্থতার বড় উদাহরণ হয়ে রইলো। লেখক : বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (বিআইএলআইএ) গবেষণা সহযোগী এবং গ্রিন ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের অ্যাডজাক্ট লেকচারার। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

অন্যান্য সংবাদ