প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে দেশে আস্থার সঙ্কটে সরকার

গ্রান্ট ডানকান : খুব কঠিন কাজ – শুধু এই যুক্তিতে যদি আমরা রাজনীতি-বিদদের ওপর জনতার আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হাল ছেড়ে দেই, সেটা হবে অন্যায়।

সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস তাঁর বক্তব্যে মন্তব্য করেছেন, বিশ্ব এখন ভয়ঙ্করভাবে ‘ট্রাস্ট ডেফিসিট ডিসওর্ডার’ রোগে ভুগছে। সবখানেই বিশ্বাস খসে খসে পড়ছে। জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা, রাষ্ট্রের ওপর রাষ্ট্রের আস্থা, নিয়মনিষ্ঠ বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা – সবখানেই এখন হাহাকার।

পারমাণবিক অস্ত্রের কথাই ধরুন। তা কমাতে হলে সবার আগে দরকার বিশ্ব নেতাদের পারস্পরিক আস্থা। একই কথা বলা যায় জলবায়ু পরিবর্তন বা মানবাধিকার রক্ষার মত সংবেদনশীল বিষয়ের ক্ষেত্রেও। জরিপ থেকে জানা যায়, দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতিবিদ ও সরকারগুলোর ওপর সারা বিশ্বে মানুষের আস্থা কেবলই কমছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে এ বিষয়ক পরিসংখ্যানের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে ১৯৫৮ সাল থেকে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আবির্ভাবের পরে এ চিত্র আরো খারাপই হবার কথা। বিশ্বাস এমন কোন বিষয় না যা আপনি ইচ্ছে হলেই গড়ে, পরে তা ভেঙ্গে দিয়ে আবার ইচ্ছা হলে গড়তে পারেন। যেভাবে আমরা পুরনো ভবনের স্থানে নতুন ভবন গড়ি। জনতার কাছে আস্থা প্রত্যাশা করলে স্বাভাবিকভাবেই তারা মনে সন্দেহ নিয়ে এগুবে। যেসব আপাদমস্তক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ন্যায়সঙ্গত আচরণ বিরল তাদের ওপর বিশ্বাস আসাটাই অস্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যাটা আরো গভীরে। আস্থা ফেরানোর কর্মসূচী শুরুর জন্য যে ঐক্যমত দরকার, তার জন্যও দরকার হবে রাজনৈতিক আস্থার। মানে, আস্থা তৈরির জন্যও চাই আস্থা। তবুও, রাজনৈতিক আস্থা তৈরির এ ধরণের উদ্যোগ থামিয়ে দেয়াটা নৈতিকভাবে অসমর্থনযোগ্য। প্রথমেই পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে বিশ্বাস ফেরাতে হলে কেমন আচরন করা উচিত। তা হতে পারে, প্রান্তিক মানুষদের বঞ্চিত না করা, জনগণের অভিযোগ মন দিয়ে শোনা, ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি না দেয়া ইত্যাদি।

আমাদের আচরণে এমন সব সতর্কতা অভ্যাস করতে পারলেই ভালো কিছু আশা করা যায়। আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সার্বিকভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। সবাই একই সঙ্গে পৃথিবীটাকে সম্পূর্ণভাবে ন্যায়সঙ্গত ভাববে, এমনটা কখনোই হবে না। কিন্তু আস্থা ফেরানোর কঠিন কাজটির সঙ্গে সম্পর্ক আছে, নিজ এলাকা ও সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন আচরনের। সেখান থেকেই শুরু হতে পারে বিশ্বাসের নতুন যাত্রা।(লেখক : এসোসিয়েট প্রফেসর, স্কুল অফ পিপল, এনভাইরনমেন্ট এন্ড প্ল্যানিং, ম্যাসেই ইউনিভার্সিটি) সম্পাদনা : ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ