প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘সেদিন রনি’কে মাস্তান মনে হয়েছিলো’

রবিন আকরাম : গোলাম মাওলা রনির বলার স্টাইল, লেখার ধার আমাকে মুগ্ধ করলেও সেদিন দুজন সাংবাদিককে লাথি মারতে দেখে তাকে মাস্তানের চেয়ে কম কিছু মনে হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও কলামিস্ট প্রভাষ আমিন।

বুধবার অনলাইন নিউজ পোর্টাল সারাবাংলায় তিনি এসব কথা লিখেছেন।

প্রভাষ আমিনের ভাষায়, ভালো লাগা গোলাম মাওলা রনির কাছ থেকে প্রথম ধাক্কা খাই সম্ভবত ২০১৩ সালে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের দুজন সাংবাদিককে মারধোরের পর। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, যেভাবে তিনি দুজন সাংবাদিক লাথি দিচ্ছিলেন, তাতে তাকে মাস্তানের চেয়ে কম কিছু মনে হয়নি। তার আগের সব লেখালেখি, টক শো’র বক্তব্যকে আমার কাছে মুখোশ আর ভণ্ডামি মনে হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর রাজনীতিবিদদের হামলার ঘটনা সেটিই প্রথম নয়। তারপরও আমি অবাক হয়েছিলাম, আক্রমনকারীর নাম গোলাম মাওলা রনি বলে।

আরো বেশি বিস্ময়কর ছিল, কারণ রনি একজন সাংবাদিকও বটেন। ৯০ দশকের শুরুতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে বদলে দেয়া দৈনিক আজকের কাগজ দিয়েই শুরু হয়েছিল তার পেশাজীবন। কিন্তু পরে তিনি সাংবাদিকতা ছেড়ে ব্যবসা করেন, পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। তবে একবার সাংবাদিকতা করলে, তিনি নাকি সারাজীবনই সাংবাদিক। তো রাজনীতিবিদে বদলে যাওয়া একজন সাংবাদিক যখন অপর দুজন সাংবাদিককে লাথি মারেন, তখন আমরা একটু বেশি কষ্ট পাই।

একটা কথা আছে, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। গোলাম মাওলা রনি রেগে গিয়ে হেরেই গিয়েছিলেন। সে ঘটনায় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়েছে, পরের নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত থাকতে হয়েছে।

গোলাম মাওলা রনির আরেকটা বিষয় আমার খুব ভালো লাগে। তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায়ও তার লেখায় ও বলায় সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এটা অবশ্যই সাহসী পদক্ষেপ। একটা দলের ভুল হতেই পারে। কিন্তু আমাদের দেশে নেতা ও এমপিরা অন্ধের মত, যুক্তি ছাড়া দলের সব সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সমর্থন করেন। অথচ ভুল স্বীকার করে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই একটি দল আরো সামনে এগিয়ে যেতে পারে। দলের সমালোচনা করতে গিয়েও বারবার বিপাকে পড়েছেন রনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ