প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনি ‘ভয়’ বিতর্কিতদের অংশগ্রহণ নিয়ে!

দীপক চৌধুরী : স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারপুত্র বা তাদের সহযোগীরা মনোনয়ন পেলে আপত্তি নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা যদি বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি বা আমানুর রহমান খান রানার পরিবার থেকে কাউকে মনোনয়ন দেন, তাহলেই ‘অন্তর্জ্বালা’। কথাগুলো তো এই রকমই, নাকি?

টেলিভিশনের টকশোর কিছু নির্দিষ্ট আলোচক কয়েকদিন ধরেই এই বার্তা দিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীদের কাছেও এটি ‘আওয়ামী লীগের জাত’ যাওয়ার মতো বিষয়। লোকলজ্জা বা উদ্বেগের বিষয় তো হওয়ার কথা যুদ্ধাপরাধী মানবতাবিরোধী নিয়ে। এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্তদের আলোচিত সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করেছেন, ঘরবাড়ি জ্বালানো, সম্পদ লুট, সহিংসতা, ধর্ষণ-হত্যা করার অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ফাঁসিতে ঝুলেছেন তাদের বংশধরেরা রাজনীতিতে আসছেন। তাও সেই আদর্শ নিয়েই। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন বা আজীবনের জন্য কারাগারে আটক রয়েছেন সেইসব লোকদের স্ত্রী, ভাই, ছেলে সেই আদর্শ থেকে না সরে রাজনীতিতে এলে এর গুণগত মান কতোটা জঘন্য হয়ে উঠবে তা কী বলার অপেক্ষা রাখে?

শুনেছি, মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরী বাবার আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবেন। জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র ব্যারিস্টার নজিব মোমেন পাবনা-১ (বেড়া-সাঁথিয়া) ও দেলাওয়ার হোসেইন সাঈদীর দুই পুত্র নির্বাচন করবেন। পিরোজপুর -১ থেকে লড়বেন শামীম সাঈদী আর পিরোজপুর-২ থেকে লড়বেন মাসুম সাঈদী। বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি আবদুল মোমিন তালুকদার। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে তিনি পলাতক। স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ নানা অপকর্ম করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তিনি ছিলেন ‘রাজাকার কমান্ডার’। চলতি বছরের ১৮ মে মোমিনের বিরুদ্ধ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর থেকেই তিনি পলাতক।

সংসদ নির্বাচনের আলোচনার বাজারটি গরম করতে কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ-উখিয়া) আসনে বদির স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী ও টাঙ্গাইল-৪ ( ঘাটাইল) আসনে রানার বাবা আতাউর রহমান খানকে নিয়ে কথার খৈ ফোটানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগকেই ‘অপরাধী’ করা হচ্ছে। বদিকে নিয়ে কস্ট্রোভার্সি আছে, রানা সংসদ সদস্য হয়েও হত্যা মামলার অভিযোগে জেলে রয়েছেন, জামিনে নয়। অথচ এখন পর্যন্ত অভিযোগই প্রমাণ হয়নি। তাহলে আদালতের ওপর হস্তক্ষেপের প্রশ্ন আসে কেন? অথচ যারা দেশটাই চায়নি, স্বাধীনতা চায়নি, যারা দেশবিরোধী অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত তাদের সন্তানরা নির্বাচন করতে মনোনয়ন নিচ্ছে। কিন্তু এখানে কোনো কথা নেই। যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে পলাতকরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিচ্ছে এটাই তো ভয়ের।

শুধু বাংলাদেশই নয়, পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি সাঈদীর চরমপন্থী মতবাদের জন্য ২০০৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেরোরিস্ট স্ক্রিনিং সেন্টার (টিএসসি) সাঈদীকে তাদের নো ফ্লাই তালিকায় যুক্ত করে অর্থাৎ এই তালিকার নাগরিকেরা কোনো দেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। গণতন্ত্র বলতে আমরা কি বুঝি ? গণতন্ত্র মানে কি জঙ্গি সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক দলগুলোকে নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া ? গণতন্ত্র মানে রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রিত্ব দেয়া ? যুদ্ধপরাধী- রাজাকারদের গাড়িতে পতাকা আমরা দেখেছি বিএনপি-জামায়াতের সরকার আমলে। এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কী? ৩২০ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কিন্তু ৩২০ ছাত্রদল শিবির ক্যাডার চাকরি করছেন এখনো। বিএনপি নেতাদের কি সেই খেয়াল আছে? এখন যদি স্মৃতি শক্তি কি হারিয়ে গেছে? তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে আইবিএ-এর মাধ্যমে তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে অর্ধেকের বেশি লোককে বাদ দিয়েছিল। এটা কী ভুলে গেলেন বিএনপি নেতারা? পরীক্ষিত সত্য, বিএনপি নির্বাচনী জোট গড়তে গিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের ও কট্টর ইসলামপন্থীদের মিত্র হিসেবে দেশেবিদেশে পরিচিতি লাভ করেছে। লেখক : উপ-সম্পাদক, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি, কলামিস্ট ও ঔপন্যাসিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ