প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আগামী নির্বাচনের প্রধান লাভ হবে শক্তিশালী বিরোধী দল গঠন

বিশ্বজিৎ দত্ত : ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গঠন হয়েছিলো। এরপরে ১০ম জাতীয় সংসদ পর্যন্ত তেমন শক্তিশালী বিরোধী দল আর বাংলাদেশে হয়নি। বলা চলে বিরোধী দল একেবারেই নিস্ক্রিয় অবস্থায় চলে গিয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি ভারসাম্যহীন অবস্থা। এই সুযোগে রাজনীতিতে যেমন প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির উত্থান হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোতে মেধাহীনতা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক চর্চা ছাড়া রাজনীতি ময়দান ছেড়ে উঠে আসে ড্রয়িং রুমে।

সেখানেই ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা হয়ে, লোক দেখানো নির্বাচনে নির্বাচিত হতে থাকেন সংসদ সদস্যরা। নির্বাচনে জনমতের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় নানা ধরনের কনসপেরেন্সি। সেটা দেশিই হোক বা বিদেশিই। এখন অনেকেই জিজ্ঞেস করেন তাহলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে। আমি ধারণা করছি, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনটি হবে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গঠনের নির্বাচন। এক্ষেত্রে ৫ম জাতীয় সংসদের কিছু তথ্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে। ৫ম সংসদে আওয়ামী লীগ আসন পেয়েছিলো, ৮৮টি। বিএনপি আসন পেয়েছিলো ১৪০টি, জাতীয় পার্টি আসন পেয়েছিল ৩৫টি, জামায়াতে ইসলাম ১৮টি, বাকশাল পেয়েছিল ৫টি, কমিউনিস্ট পার্টি ৫টি।

এরমধ্যে বিএনপির ভোট ছিল ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ আর আওয়ামী লীগের ভোট ছিল ৩০ দশমিক ১ শতাংশ। নির্বাচনে ৭৫টি দল থেকে ২ হাজার ৭৮৭ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিএনপি সরকার গঠন করে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগিতা নিয়ে । একাদশ সংসদ নির্বাচনের এখন পর্যন্ত নির্বাচনি আয়োজন দেখে মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগ জোট ও বিএনপি জোটের মধ্যেই নির্বাচনি লড়াই হবে। আয়োজনের নিরিখে দুই দলই সমানভাবে লড়ছে। যদি এই সমানভাব নির্বাচনের শেষপর্যন্ত বাজায় থাকে, তবে ধারণা করা যায় না, কোন জোট ক্ষমতায় যাবে। তবে এটি ধারণাযোগ্য কোন জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে দুই জোটেরই প্রয়োজন পড়বে অন্যান্য দলের সহযোগিতা নিয়ে সরকার গঠন করার। অন্যান্য দলের সহযোগিতা নিয়ে আওয়ামী লীগও সরকার গঠন করতে পারে। আবার বিএনপিও।

আওয়ামী লীগ জোটে শেষপর্যন্ত অনেক সেকুলার দল ভিড়ে যেতে পারে। আবার বিএনপি জোটেও বিএনপির কিছু নীতির কাটছাট করে সেকুলাররা ভিড়ে সরকার গঠন করতে পারে। এগুলো সবই নির্ভর করবে নির্বাচন পরবর্তী রাজনীতির ওপর। তবে এটি ঠিক আওয়ামী লীগ যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয় তবে তারা হবে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল। আর বিএনপি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয় তবে তারাও হবে একটি গঠনমূলক শক্তিশালী বিরোধী দল। এই সমীকরণে দেখা যায়, আগের মতো রাজনীতি আর থাকছে না। রাজনীতিতে ব্যালেন্স আসছে। তাই এই নির্বাচনে রাজনীতির ক্ষমতাগ্রহণের চেয়েও জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গঠন। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতির ঐতিহাসিক দিকটাই হলো রাজপথে বিরোধী দলই শক্তিশালী। সম্পাদনা : রেজাউল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ