প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনি ইশতেহার: ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট না বিএনপির ব্যানারে?

বাংলা ট্রিবিউন : একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচনের ইশতেহার নিয়ে এখনও সমাধানে আসতে পারেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহার কোন ব্যানারে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হবে, এর কোনও সমাধান বের করতে পারেনি ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় বা এই দুই জোটের প্রধান শরিক দল বিএনপি।

এছাড়া, পৃথকভাবে বিএনপির একটি ইশতেহার তৈরির পাশাপাশি কমিটিও গঠন করেছে। বিষয়টি জানার পর থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার কমিটিতে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। কমিটির বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এর রেশ ছড়াতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতা।

যদিও ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার কমিটির সদস্যরা জানাচ্ছেন, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ইশতেহার চূড়ান্ত করা হবে। যদিও এই বিষয়ে এর বেশি মন্তব্য করতে নারাজ কমিটির সদস্যরা।

ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির দুই শীর্ষনেতা জানান, গত ২৭ নভেম্বর ইশতেহার কমিটিতে মাত্র তিনজন অংশ নেন। এতে অংশ নেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মাহফুজ উল্লাহ ও ডা. জাহেদ উর রহমান। বাকি সদস্যরা মঙ্গলবারের (২৭ নভেম্বর) বৈঠকে অংশ নেননি। বৈঠকেই আলোচনা ওঠে, বিএনপি পৃথকভাবে একটি ইশতেহার কমিটি আরও আগেই করেছে। ওই কমিটিও কাজ করছে। সেই কমিটিতে অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহও আছেন। পরে বৈঠকের আলোচনা আর এগোয়নি। সিদ্ধান্ত হয় পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এ বিষয়টি জিজ্ঞাসা করা হবে।

ইশতেহার কমিটির অলিখিত প্রধান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল শুনলাম যে, বিএনপির একটি ইশতেহার কমিটি আছে। তারা তো ঐক্যফ্রন্টে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। সে প্রস্তাবগুলো তো পজেটিভ। ইশতেহার তো এক জায়গা থেকে পাস হবে, সেটা স্টিয়ারিং কমিটি। ফলে, কেউ যদি আলাদা কিছু করে থাকে, তাহলে আমি কিছু বলতে পারবো না।’

ইশতেহার কমিটির আরেক সদস্য মাহফুজউল্লাহ বলেন, ‘আশা করি, ইশতেহার আমরা তিন থেকে চারদিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে ফেলবো। আর ইশতেহার কোন ব্যানারে হবে, এটা বিএনপির মহাসচিব বলতে পারবেন।’ পরে মির্জা ফখরুলকে ফোন করা হলেও তিনি ব্যস্ত থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, চূড়ান্তভাবে কোন ব্যানারে নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করা হবে, এ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত পাকা করেনি বিএনপি। দলটির এখন মনোযোগ প্রায় দুইভাবে বিভক্ত। একটি হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, এই ফ্রন্টের দলগুলো ধানের শীষে নির্বাচন করবে। আরেকটি হচ্ছে ২০ দলীয় জোট। দুই জোটেই প্রধান দল হিসেবে বিএনপি রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—দুই ব্যানারে পৃথক-পৃথকভাবে হবে, নাকি শুধু এক ব্যানারেই ইশতেহার প্রকাশিত হবে।

এ বিষয়ে নিশ্চিত নন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের। তার ভাষ্য, ‘এটা তো সিদ্ধান্ত দেয়নি বিএনপি। আমরা দলীয়ভাবে একটি ড্রাফট করেছি। আমাদের বললে সেই ড্রাফট জমা দেবো। তবে, চূড়ান্ত কোনটা হবে, তা জানি না।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকেও অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে বিএনপির ২০ দলীয় জোটের কয়েকটি শরিক দলের কাছে। ইতোমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের কমিটিতে শরিক ৫টি দলের প্রস্তাবই দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি নির্ভরযোগসূত্র বলছে, শোনা যাচ্ছে, বিএনপি ২০ দলীয় জোটের ব্যানারেই একটি ইশতেহার কমিটি করা হচ্ছে। ফলে, স্বাভাবিকভাবেই ঐক্যফ্রন্টে প্রশ্ন আসবে, তাহলে কোন ইশতেহারকেই সামনে আনা হবে।

এ বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান বলেন, ‘প্রথম দিকে ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট দুই দিকে থাকলেও সবাই ধানের শীষে প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়ে একমত হয়েছে। ইতোমধ্যে নিবন্ধিত দলগুলো নিজস্ব প্রতীকে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও যাচাই-বাছাইয়ের পর সবাই ধানের শীষে প্রতীকে নির্বাচন করবেন। সেক্ষেত্রে ইশতেহারও নিশ্চয়ই একটি হওয়ার কথা। এই জন্য বিএনপির একটি সেল কাজ করছে।’

জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার সেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহসহ অনেকে আছেন।

জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ বলেন, ‘এক নম্বরে এর কিছুই জানি না।’ যে প্রশ্ন উঠেছে, সে প্রসঙ্গে কিছুই জানেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইশতেহার ঘোষণা হতে পারে দুই জোট থেকে

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের ভাষ্য, নির্বাচনি ইশতেহার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে আলাদাভাবে ঘোষণা করবে। মেনিফেস্টো একটাই থাকবে। প্রধান সংগঠন হিসেবে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের পাশাপাশি বিশদলীয় জোটের ব্যানার থেকেও ইশতেহার করবে। আর দুই ইশতেহারেই বিএনপির প্রস্তাব থাকবে। এক্ষেত্রে ইশতেহারে স্পিড একই থাকবে। ‘পরিবর্তনের সনদ’নামেই নির্বাচনি ইশতেহার আসবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত