প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমি লজ্জা পাই, আমার লজ্জা লাগে

ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম ওসমান বলেছেন, বিএনপি তো মাঠেই নাই। ওনাদের নিজেদের ফিল্ড তো লেভেল না। তারা কি লেভেলের আশা করে? একটা এলাকায় তিনজন করে নমিনেশন দিছে। সাপ-নেউলে আর ব্যাঙ একসঙ্গে করা হয়েছে। আমার মনে হয় ওনারা কারো ওপর বিশ্বাস করতে পারছে না। ম্যাডাম খালেদা জিয়ার জন্য একজনই বিশ্বাসযোগ্য, ওনার গৃহভৃত্য ফাতেমা আপা। আমার মনে হয় ওনাকেই দায়িত্ব দেয়া উচিত। ওনাকে দায়িত্ব দিলেই মনে হয় দলটি গুছাতে পারবেন। নিজের মনোনয়নেই যারা লেভেলে সমতা ঠিক করতে পারছে না। তারা আদৌ নির্বাচন করবেন কিনা সেখানে আমার সন্দেহ রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে আসনে যেভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, সবাইকে তো চিনি, মনে হচ্ছে ওনাদের অন্য কোনো নিয়ত রয়েছে। অনুরোধ রইল নিয়ত কইরেন না। জনগণের ওপর ভরসা করেন। জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে।

বুধবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বদরুদ্দোজা সাহেব যদি একটা আলাদা প্ল্যাটফরম করতে পারেন, ওনাদের (বিএনপি) জন্যও তো এটা অসম্ভব কিছু না। ওনারা তো এত দেউলিয়া না যে ওনাদের তারেক রহমান সাহেবের নেতৃত্বে দল করতে হবে। বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে চলতে হবে। এর জন্য আগামী প্রজন্মের, রাজনীতির প্রতি অনীহা সৃষ্টি হবে। শহীদ পরিবারের সেই সন্তান, আমার সেই বন্ধুর অনুরোধেই আমার এসব বলা।

শামীম ওসমান বলেন, আমি মনোনয়নপত্র ঠিকই জমা দিয়েছি। কিন্তু একজন পলিটিশিয়ান হিসেবে আমি লজ্জিত। ড. কামাল হোসেন সাহেব, কাদের সিদ্দিকী সাহেব, তাদের জন্য একবার দুইবার না, পুলিশের শত শতবার মার খেয়েছিলাম। ছাত্র রাজনীতি করেছি আমাদের নেতা ছিলেন সুলতান মনসুর সাহেব, ছাত্রলীগ যখন করেছি নির্দেশনা দিয়েছেন মোস্তফা মহসিন। আমি যখন দেখলাম ঐক্যজোট থেকে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র প্রায় ২৫টা মনোনয়ন পেয়েছে। আমার ছোটবেলার বন্ধু বিদেশ থেকে ফোন দিয়েছিল। তার মাকে ধর্ষণ করা হয় এবং বাবাকে হত্যা করা হয়। সে আমাকে বলে, রাজনীতি যদি এটাই হয়, রাজনীতি শুধু ক্ষমতায় যাবার জন্য, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই ধরনের ব্যক্তিত্ব, জীবনের শেষ সময়ে এসে যে দেউলিয়াপনা দেখালেন, এর পরে আমাদের রাজনীতি করা উচিত কিনা? আমি বলেছিলাম আমি লজ্জা পাই, আমার লজ্জা লাগে।

শামীম ওসমান বলেন, জনগণ যাকে ভোট দিবে সে-ই জয়লাভ করবে। আমরা জয়লাভ নিয়ে ১০০% আশাবাদী। কারণ আমরা রাজনীতিতে দেউলিয়াগিরি করি নাই। যখন থেকে রাজনীতি শুরু করেছি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হই নাই। আদর্শচ্যুত হই নাই কিংবা ডিগবাজি খাই নাই।

তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে ছোটখাটো কাজ সব শেষ করেছি। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনকে এমন ভাবে সাজাতে চাই, নারায়ণগঞ্জকে এডুকেশনাল অঞ্চল ও মেডিকেল অঞ্চল হিসেবে তৈরি করতে চাই। দেশের যেকোনো শিক্ষার্থী যদি পড়াশোনা করতে বেস্ট জায়গা দরকার মনে করে সে নারায়ণগঞ্জে আসবে, কেউ যদি মনে করে আধুনিক চিকিৎসার দরকার, সেও নারায়ণগঞ্জে আসবে। ডিএনডি প্রজেক্ট হচ্ছে, ডাবল রেললাইন, ইলেকট্রনিক রেলওয়ে হবে। আপনাদের সবার সহযোগিতা নিয়ে নারায়ণগঞ্জকে বউয়ের মতো সাজাবো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ আদালতের পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, মহানগর যুগলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনুসহ বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী।
সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ