প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিবছর দেশে ২০ হাজার মানুষ হেপাটাইটিস রোগে মারা যাচ্ছে

মোহাম্মদ রুবেল : হেপাটাইটিস সংক্রমণকে এক নীরব ঘাতক এইডসের মত। বর্তমানে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক কোটি। আর এ রোগে হেপাটাইটিসে প্রতি বছর ২০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। হেপাটাইসিস বি ও সি ভাইরাস দায়ী লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের। এর প্রভাবে পৃথিবীতে গড়ে প্রতিদিন ৪ হাজার মানুষ লিভার রোগে মারা যাচ্ছে। এ বাস্তাবতায় ২০৩০ সাল নাগাদ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটিতে।

লিভার বিশেজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, হেপাটাইটিস নিয়ে উদ্বেগের সবচে বড় কারণ হচ্ছে সারা বিশ্বে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে সংক্রমিত দশজনের মধ্যে নয় জনই জানেন না তারা শরীরে এই ভাইরাস বহন করছে। হেপাটাইটিস ই ভাইরাস মূলত পানির মাধ্যমে ছড়ায়। আর হেপাটাইটিস এ এবং ই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে আক্রান্তদের তিন শতাংশ মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। আর হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস ছড়ায় মূলত রক্ত এবং মানবদেহের তরল পদার্থের মাধ্যমে। হেপাটাইটিস এ এবং ই স্বল্পমেয়াদী লিভার রোগ। এটি বিশ্রাম নিলে এক পর্যাযে সেরে ওঠে। তবে প্রাণঘাতী হচ্ছে হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাসের সংক্রমণ।

এর প্রেক্ষিতেই দেশের জনগণকে লিভার রোগ সম্পর্কে সচেতন এবং কিভাবে প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা যায় তা সাধারণ জনগণের সামনে তুলে ধরতেই আগামীকাল ২৯ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫ম আন্তর্জাতিক লিভার সম্মেলন। রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

হেপাটোলজি সোসাইটি বাংলাদেশ এর মহা সচিব ও লিবার বিশেজ্ঞ ডা. মো. শাহিনুল আলম আমাদের নতুন সময়কে বলেন, বাংলাদেশে শতকরা ৬ জন হেপাটাইটিস বি এবং শতকরা শূন্য দশমিক ৯ ভাগ মানুষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত। জটিল এ রোগে আক্রান্ত এ রোগীদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগই চিকিৎসার আওতায় আসে না। কিন্তু সঠিক সময়ে ওষুধ রোগীকে প্রয়োগ করা হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, হেপাটাইটিস বাংলাদেশে এটা একটা নীরব ঘাতক এইডসের মত। বিশ্বে যত মানুষের লিভার ক্যান্সার হয় তার ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী হচ্ছে এই হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস। পৃথিবীতে গড়ে প্রতিদিন ৪ হাজার মানুষ লিভার রোগে মারা যায়। এটা নীরবে একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন ভাবে যেমন, সেলুনে শেভ করতে গিয়ে ক্ষুর থেকে, সিরিঞ্জের মাধ্যমে ড্রাগস গ্রহণ, ট্যাটু করার মাধ্যমে, নাক-কান ফুটানো, রক্ত পরিসঞ্চালন, তারপর যৌন মিলনের মাধ্যমে সহজে ট্রান্সমিট হচ্ছে। হেপাটাইটিস সংক্রমণের বিষযযে মানুষকে সচেতনতা করার জরুরী হয়ে পড়েছে। সম্পাদনা: সোহেল রহমান, হুমায়ুন কবির খোকন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ