প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবশেষে এলএনজি যুক্ত হলো জাতীয় গ্রীডে

শাহীন চৌধুরী/ স্বপ্না চক্রবর্তী: তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এখন থেকে রাজধানী ঢাকা এবং আশেপাশের এলাকার মানুষ এলএনজি সুবিধা পাবে। পর্যায়ক্রমে গ্যাস সংকটও কমে যাবে বলে দাবি করেছে জ্বালানি বিভাগ। এর আগে, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে গ্রিডে খুব অল্প অল্প পরিমাণে সরবরাহ করে গ্যাসের চাপ পরীক্ষা করার কাজ শুরু করে জিটিসিএল। বুধবার থেকে তার পুরো মাত্রায় শুরু হয়।

এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান আমাদের অর্থনীতি ও আমাদের সময় ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৩১০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো এলএনজি নেওয়া হচ্ছিল। এখন এটি বাড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে ৩৫০, ৪০০, ৪৫০ এরপর ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হবে। ধীরে ধীরে গ্যাসের এই সরবরাহ বাড়ানো হবে। ফলে গ্যাস সমস্যাও কিছুটা লাঘব হবে।

জানা যায়, চলতি বছর ২৪ এপ্রিল এক্সিলারেট এনার্জি এলএনজির ভাসমান টার্মিনালটি কাতার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এরপর গত ১৮ আগস্ট প্রথমবারের মতো এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হয়। তবে পাইপলাইনের কাজ শেষ না হওয়ায় এতদিন এতদিন শুধু চট্টগ্রামেই এই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। জাতীয় গ্রিডে এলএনজি যুক্ত করতে আনোয়ারা-ফৌজদারহাট পাইপলাইন প্রকল্প হাত নেওয়া হয়। গত ২৫ অক্টোবর এই পাইপলাইনটির সঙ্গে কর্ণফুলী নদী অতিক্রমের কাজও শেষ হয়। এরপর শুরু হয় নদীর দুই পাশের পাইপলাইনের সঙ্গে পাইপ জোড়া লাগানোর কাজ সেই কাজ শেষ করে মঙ্গলবার সকাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প পরিমাণে এলএনজি সরবরাহ করে জিটিসিএল গ্যাসের চাপ পরীক্ষা শুরু করে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় কোম্পানি জিপসাম ও বাংলাদেশি কোম্পানি গ্যাসমেন যৌথভাবে পাইপলাইন নির্মাণ কাজের ঠিকাদার হিসেবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) সঙ্গে চুক্তি করে। গত ৩০ মার্চ প্রথমবার পরীক্ষামূলক খননকাজ শুরু করা হয়। এরপর দুইবার নানা জটিলতার পর তৃতীয় দফায় চলতিমাসে পাইপলাইনের কাজ শেষ করলো ঠিকাদার কোম্পানি জিপসাম। সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কাতারের রাসগ্যাস এলএনজি সরবরাহ করবে। প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে এলএনজি সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ।

এক্সিলারেট ছাড়াও আগামী বছরের মাঝামাঝিতে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালটি আসার কথা রয়েছে। এতে সরবরাহ আরও বাড়বে। কাতার ছাড়াও ওমানের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহ চুক্তি করেছে সরকার। এর বাইরে আরও ২৬টি কোম্পানির কাছ থেকে স্পট মার্কেটিং ভিত্তিতে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা রয়েছে প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজির সংকট রয়েছে। সরকার বলছে ২০১৯ সাল নাগাদ মোট এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করে সংকট সামাল দেওয়া হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের গ্যাস সংকট মোকাবেলায় শুধুমাত্র এলএনজির উপর নির্ভরতা না বাড়িয়ে আমাদের উপকূল এবং গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান চলারাতে হবে তাহেলেই কেবল দীর্ঘ মেয়াদি জ্বলানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ