Skip to main content

দূষিত বায়ু, দিল্লিকে জরিমানা ৫ কোটি

রাশিদ রিয়াজ : ভারতে দূষণ মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ায় গত সোমবার দেশটির রাজধানী দিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিষকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এর ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না-পেরোতেই কলকাতা এবং হাওড়ার বায়ুদূষণ মোকাবেলায় ‘ব্যর্থ’ দিল্লি রাজ্যের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা পরিবেশ জরিমানা করেছে ভারতের জাতীয় পরিবেশ আদালত। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে ওই টাকা কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিষদের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনাদায়ে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হবে। একই সাথে কলকাতা এবং হাওড়ার বায়ুদূষণ নিয়ে এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আগামী ৮ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তা হলফনামা আকারে দাখিল করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। টাইমস অব ইন্ডিয়া কলকাতা ও হাওড়ার বায়ুদূষণ নিয়ে ২০১৬ সালে ভারতের জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। সেই মামলাতেই প্রথমে ওই বছরের আগস্টে বায়ুদূষণ রোধে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। সুভাষ দত্তের অভিযোগ, ‘তার পরেও কার্যত কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি রাজ্য বা পুরসভার তরফে।’ দিল্লির বায়ুদূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিষদকে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পৃথক অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশ দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিষদের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এএনএস নন্দাকারনি জানান, ওই অ্যাকাউন্টে গত পহেলা নভেম্বর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ৭৪৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৫০০টি অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার বাকি আড়াই’শো অভিযোগের ক্ষেত্রে কর্তব্য পালন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মদন বি লোকুর এবং দীপক গুপ্তার বেঞ্চ। পরিবেশ রক্ষা আইনের ১৫ নম্বর ধারায় এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ৫ বছর পর্যন্ত জেলের সংস্থান রয়েছে। এ দিন পরিবেশ আদালতের বিচারপতি এস পি ওয়াংদি এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য নাগিন নন্দার বেঞ্চ অন্তর্বর্তী পরিবেশ জরিমানা হিসেবে দিল্লি রাজ্যের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করে। দিল্লি শহরের দূষণের অন্যতম উৎস পরিবহণ ক্ষেত্র। নির্মাণকাজ, শুকনো পাতা জ্বালানো, হট মিক্স প্লান্টের ব্যবহার-সহ আরও বেশ কিছু উৎসও শহরের বায়ুদূষণের জন্য দায়ী। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে অবশ্য এই উৎসগুলিকে চিহ্নিত করার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও সুভাষবাবুর অভিযোগ, ২০১৬, ২০১৭ এবং সর্বশেষ ২০১৮-র ২৪ এপ্রিল বায়ুদূষণ রোধে সুস্পষ্ট যে নির্দেশিকাগুলি দেওয়া হয়েছিল তার ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি রাজ্য। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য থেকেও দেখা যাচ্ছে, কালীপুজো থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত কলকাতার বাতাসে অন্তত ৭ দিন পিএম-২.৫ র মাত্রা দিল্লি থেকেও বেশি ছিল। ভারতের পরিবেশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘কোনও মন্তব্য করব না। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিষদই রেগুলেটরি বডি। তারাই জানাক, বায়ুদূষণ রুখতে কী ব্যবস্থা তারা নিয়েছে, আর কী ব্যবস্থা তারা নিতে চায়।’ পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, ‘নির্দেশ দেখিনি। তবে যত দুূর শুনেছি, ১৫ বছরের পুরোনো গাড়ি বাতিল নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে।’

অন্যান্য সংবাদ