প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে বিদেশে ব্যাট-বলের লড়াই শেষে রাজনীতির মঞ্চে যারা

স্পোর্টস ডেস্ক : আসন্ন নির্বাচনের জন্য নড়াইল-২ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ক্রিকেটারদের রাজনীতিতে আসা বাংলাদেশে এটাই প্রথম নয়। এর আগেও ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিতে এসেছেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। শুধু বাংলাদেশ নয়, ক্রিকেট বিশ্বের অনেক নামী ক্রিকেটারকেই দেখা গেছে রাজনীতিতে আসতে। ক্রিকেট মাঠের বাইরে রাজনীতির মঞ্চে বেশ সফলও হয়েছেন তাদের অনেকেই। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান,ভারত ও শ্রীলঙ্কার যে সকল ক্রিকেটাররা রাজনীতিতে এসেছেন তারা হলেন:

নাইমুর রহমান (বাংলাদেশ)

বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়। ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে টাইগারদের প্রথম টেস্টের নেতৃত্ব দেন তিনি। ২০১৪ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে প্রার্থী হন দুর্জয় । বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়ে ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

অর্জুনা রানাতুঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)
শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়ী এই অধিনায়কের হাত ধরে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে আমুল পরিবর্তন ঘটে । ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ক্রিকেটের সঙ্গেই থেকেছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ২০০১ সাল থেকে শ্রীলঙ্কান ফ্রিডম পার্টিতে যোগ দিয়ে সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন রানাতুঙ্গা। শিল্প, পর্যটন ও বিনিয়োগ প্রচারের উপমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন রানাতুঙ্গা। বর্তমানে পেট্রোলিয়াম সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

সনাথ জয়াসুরিয়া (শ্রীলঙ্কা)
এখন পর্যন্ত বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার জয়াসুরিয়া যিনি জাতীয় দলের খেলোয়াড় থাকাকালীনই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১০ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি আর ২০১১ সালে জাতীয় দল থেকে অবসরে যান। মাতারা হারিকেন হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিতি পাওয়া এ কিংবদন্তী তাঁর নিজ জেলা মাতারা থেকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন ।

ইমরান খান (পাকিস্তান)

১৯৯২ সালে তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ ঘরে আনে পাকিস্তান। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলে অভিষেকের পর খেলেছেন ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৬ সালে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ সৃষ্টি করার পর অনেক ধৈর্য্য, কষ্ট এবং পরিশ্রমের ২২ বছরের চেষ্টার পর ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন ইমরান খান।

নভজোৎ সিং সিধু (ভারত)

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন কটূক্তি করে টাইগার ভক্তদের মনে অসন্তোষ জমানো ভারতের সাবেক এই ওপেনার ২০০৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির হয়ে অমৃতসর থেকে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে জয় পেয়েছিলেন সিধু। ২০১৬ সালে পাঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় কিন্তু সিধু দল থেকে পদত্যাগ করেন। ২০১৭ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে অমৃতসর থেকেই আবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন সিধু।

মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন (ভারত)
২০০০ সালে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন। ৪৭ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৯ সালে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন আজহারউদ্দীন। উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদ থেকে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সে বছরই সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন আজহারউদ্দীন।

মনসুর আলী খান পতৌদি (ভারত)

ভারতের হয়ে ১৯৬১ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত ৪৬টি টেস্ট ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৪০টি ম্যাচেই তিনি ছিলেন দলের অধিনায়ক। মাত্র ২১ বছর বয়সে ভারতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন তিনি। মনসুর আলী ১৯৯১ সালে কংগ্রেসের অধীনে ভোপাল থেকে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে হেরে গিয়ে পরবর্তীতে আর রাজনীতিতে মাঠে নামেন নি।

বিনোদ কাম্বলি (ভারত)

ক্রিকেটের সঙ্গে বেশি দিন সম্পর্ক রাখেন নি বিনোদ। অভিনয়ও করেছেন বেশকিছু দিন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন রাজনীতিতে। লোক ভারতীতে যোগ দেওয়া কাম্বলিকে দলের সহসভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ২০০৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লোক ভারতীর হয়ে মুম্বাইয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন কাম্বলি। যদিও নির্বাচনে হেরে যান তিনি। – কলকাতা২৪/ বাংলা ইনসাইডার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত