প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচন করছেন না বিএনপি নেতা মিন্টু, আলাল ও সোহেল

সারোয়ার জাহান : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করছেন না বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব–উন নবী খান সোহেল।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির বলেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু ফেনী-৩ আসনে নিজে এবং ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কেনেন। মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল চেয়েছিলেন বরিশাল-২ আসন। ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থিতা চেয়েছিলেন হাবিব–উন–নবী খান সোহেল। তিনজনের কেউই আজ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। অবশ্য শায়রুল কোনো কারণ জানাতে পারেননি।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বুধবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সব দলের প্রার্থীরাই আজ সারা দিন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী হিসেবে এবার মিন্টু ছাড়াও যুবদলের সাবেক নেতা রফিকুল ইসলাম রয়েছেন। অন্যদিকে আলালের বরিশাল-২ আসনে বিএনপির সাবেক হুইপ শহীদুল হক জামালও মনোনয়নপত্র কেনেন। তিনি এর আগে ঢাকা-১৩ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন। এবারও এই আসনে তাঁর আগ্রহ ছিল। কিন্তু বিএনপি থেকে এবার সেখানে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে গ্রেফতার হওয়ার পর এখন কারাগারে আছেন হাবিব– উন–নবী খান সোহেল। তাঁর পক্ষে কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বুধবার বিকেলে জানিয়েছেন, তিনি এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। বরিশাল-৫ থেকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছিলেন আলাল। কিন্তু বিএনপি তাকে বরিশাল-২ আসনের জন্য মনোনয়ন দেয়।

গত শুক্রবার মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, বরিশাল-৫ আসন ছাড়া অন্য কোনো আসনে নির্বাচন করবেন না

তিনি আরো বলেন, ‘আর কত যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াব। দলের সিদ্ধান্ত শুধু আমার বেলায় কেন। আমি সিদ্ধান্ত মানি তাই? এবার যদি নির্বাচন করি বরিশাল-৫ থেকেই নির্বাচন করব। তাছাড়া নির্বাচনই করব না।’

বিএনপি নেতারা জানান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ২০০১ সালে বরিশাল-২ থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। দলের সিদ্ধান্তে ২০০৮ সালে ঢাকা-১৩ আসন থেকে তিনি নির্বাচন করেন। এবার খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে আলালকে ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন। সে অনুযায়ি কাজও করেছেন ওই নির্বাচনী এলাকায়। হাইকমান্ডের নির্দেশেই আবার তিনি বরিশাল-৫ আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই অবস্থায় দলের একটি অংশ বরিশাল-৫ আসনে সরোয়ারকে রেখে আলালকে বরিশাল-২ আসনে প্রার্থী করতে চাচ্ছেন। সে অনুযায়ী একটি সমঝোতার উদ্যোগ নিচ্ছেন।

এর আগে, বুধবার দুপুরে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিজের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না।

গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমরা দিন দিন হতাশার দিকে যাচ্ছি। ইসির আচরণে মনে হচ্ছে, তারা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করতে যাচ্ছে। তারা ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচনের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। আমরা ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী জোয়ার তৈরি করেছি।

উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিনি পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পান। একই বছর স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭২ সালে আইনমন্ত্রী এবং ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে নির্বাচনী ফল নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সঙ্গে ড. কামালের মতবিরোধ দেখা দেয়। ১৯৯৩ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই আইনজীবী আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে গণফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন।

সূত্র : প্রথম আলো/ দৈনিক আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ