প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘এবারের নির্বাচনে খেলোয়াড়রা ডিগবাজি করছে’

রবিন আকরাম : একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দল বদলের খেলা শুরু থেকেই দেখা গেছে। ড. কামাল হোসেনের বিএনপি’র সঙ্গে জোট গঠনের পর, কাদের সিদ্দিকীর ঐক্যফ্রন্টে এবং বি চৌধুরীর মহাজোটে যোগদান আলোচনায় ছিল। তবে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইয়িদ এবং গোলাম মাওলা রনি’র দল বদল আরো আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন নিয়েও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দল বদলের এই খেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

লেখক ও কলামিস্ট প্রভাষ আমিন লিখেছেন, বদলে গেলেন গোলাম মাওলা রনি? তিনি বলেছেন, মনোনয়ন পেলে তিনি আওয়ামী লীগেই থাকতেন। তার মানে আসলে তার বদল হয়েছে রাতারাতি। গোলাম মাওলা রনি আবারও প্রমাণ করলেন, রাজনীতিতে নীতি আদর্শ বলে কিছু নেই; স্বার্থটাই আসল। যতই বড় বড় কথা বলুন আর লিখুন, যতই জাতির বিবেক সাজার চেষ্টা করুন না কেন; বুঝিয়ে দিলেন যাহা এস এ খালেক, তাহাই গোলাম মাওলা রনি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এরকম শেষ মূহুর্তে দলবদলের অনেক নজির আছে। তবে গোলাম মাওলা রনির এই ডিগবাজি আমাদের বেশি হতাশ করেছে, কারণ তিনি রাজনীতিতে বুদ্ধিবৃত্তির যে চর্চা শুরু করেছিলেন, তা আমাদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, শিক্ষা নয়, প্রজ্ঞা নয়, আদর্শ নয়, নীতি নয়; তিনি আসলে স্বার্থের গোলাম।

প্রযোজক লস্কর নিয়াজ ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, এবারের নির্বাচনকে অলিম্পিকের আসর মনে হচ্ছে৷ খেলা শুরু হয়েছে জিমন্যাস্টিকস দিয়ে। প্রথম রাউন্ডে সব দলের খেলোয়াড়রা ডিগবাজি প্রদর্শণ করছে। যারা প্রথম রাউন্ডে নির্বাচিত হয় নাই, তাদের কেউ কেউ আবার কান্নাকাটি করছেন। এত বড় আসরে এরকম একটু-আধটু হয়৷ এর পরে শুরু হবে হাই জাম্প, লং জাম্প।

মোস্তফা কামাল তার ফেসবুকে লিখেছেন, পাল্টে যাচ্ছে ডিকশনারি … ডিগবাজীর নাম চমক। মিথ্যাচারে পটু মানে সুবক্তা। চতুর অর্থ স্মার্ট। দক্ষতার প্রমান চরিত্রহীনতা

সাংবাদিক মাসুদ কামাল প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাগ্নে’র মনোনয়ন নিয়ে৷ তিনি লিখেছেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের বর্তমান এমপি খ ম জাহাঙ্গীর। ইনি একাধিকবার এমপি ছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু এবার তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি, পেয়েছেন এস এম শাহজাদা। কে এই শাহজাদা? আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের নেতা তিনি? তিনি কি বড় কোনো সমাজসেবক? না, এসবের কোনোটাই নয়। তার পরিচয় হচ্ছে, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা’র ভাগ্নে! সিইসির ভাগ্নে পরিচয়টি শাহজাদার মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য ছিল কিনা– সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করেছিল খ ম জাহাঙ্গীরকে। জবাবে তিনি বলেন, ‘এর বাইরে তার কোনো পরিচয় আছে বলে আমার জানা নেই।’ সিইসি মামা’র পরিচয়ের জোরে যদি মনোনয়ন পাওয়া যায়, তাহলে সেটা কি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিরপেক্ষতার জন্য কিছুটা হলেও ঝুঁকির কারণ হবে না?

বাংলাভিশনের বার্তা প্রধান মোস্তফা ফিরোজ আওয়ামী লীগ নেতা নানককে মনোনয়ন না দেয়ার বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন, ‘‘নানক ভাই দলের মনোনয়ন না পাওয়ায়আমি দুঃখিত হয়েছি, কেননা, আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রনেতা ছিলেন৷ কাছ থেকে দেখেছি তাকে৷ সাবেক এই ছাত্রনেতার কাছ থেকে শেখার আছে দলীয় অন্য নেতা কর্মীদের৷” এছাড়া গোলাম মাওলা রনি’র বিএনপিতে যোগদান প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘‘আওয়ামী লীগ বলয়ের রাজনীতিকরা এতদিন যাচ্ছিলেন গণফোরামে, কিন্তু গোলাম মাওলা রনি কেন সরাসরি বিএনপিতে?”

গোলাম মাওলা রনির বিএনপিতে যোগদান প্রসঙ্গেমাহমুদুল হাসান ফেসবুকে লিখেছেন, দুইদিন আগে ‘গোলাম মাওলা রনি’ তৃতীয় মাত্রায় তারেক জিয়াকে টিটকারি করে বললো ‘লাদেনের মতো গুহা থেকে দল চালায়’, আজ সে বিএনপিতে যোগ দিলো শুধুমাত্র একটা এমপি পদের জন্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত