প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডা. মিলন দিবসে এরশাদের রহস্যজনক হাসপাতালবাস

প্রভাষ আমিন : ১. ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল থেকে রিকশায় শাহবাগে তখনকার পিজি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন দুই ডাক্তার নেতা ডা. শামসুল আলম মিলন ও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। রিকশা টিএসসি পেরিয়ে লাইব্রেরি মোড়ে আসতেই উল্টোদিকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট থেকে ছুটে আসে একটি লক্ষ্যভেদী তপ্ত বুলেট। রাজপথে লুটিয়ে পড়েন বিএমএর যুগ্ম মহাসচিব ডা. মিলন। এরশাদের ভাড়া করা শার্প শ্যুটারের গুলি শুধু ডা. মিলনের বুকই বিদীর্ণ করেনি, এরশাদের ৯ বছরের স্বৈরশাসনের কফিনেও ঢুকিয়ে দিয়েছিল শেষ পেরেক। ৯০এর ১০ অক্টোবর জেহাদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় শুরু, তা চূড়ান্ত গতি পায় ডা. মিলনের মৃত্যুতে। সব পেশাজীবীরা মাঠে নামেন, অচল হয়ে যায় গোটা দেশ। বন্ধ হয়ে যায় সব পত্রিকার প্রকাশনা। সে এক রুদ্ধশ্বাস সময়। এখনও ভাবলে গা শিউরে ওঠে। ডা. মিলনের আত্মদানের পর এরশাদের পতন হয়ে ওঠে সময়ের ব্যাপার মাত্র। ৪ ডিসেম্বর ইঙ্গিত আর ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন এরশাদ, পতন ঘটে স্বৈরাচারের। ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর কেউ কি ভাবতে পেরেছিলেন এরশাদ আবার দাপটের সাথে রাজনীতি করবেন, বেগম খালেদা জিয়ার পাশে বসে চারদলীয় জোটের বৈঠক করবেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতার অংশীদার হিসেবে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হবেন।

২৮ বছর পরও ডা. মিলনের মা ছেলে হত্যার বিচার চান। আর এরশাদ আসন নিয়ে দর কষাকষি করেন। তবে খবর পেলাম এরশাদ আবারও সিএমএইচে ভর্তি হয়েছেন। তার যা বয়স, অসুস্থ তিনি হতেই পারেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে এরশাদের হাসপাতালে ভর্তির খবর শুনলেই, আমাদের সন্দেহ হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেও এরশাদ নানা নাটক করে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন। সিএমএইচে বসে এরশাদ আবার কী ষড়যন্ত্র করছেন, কে জানে?

২. বাংলাদেশের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমজাদ হোসেন একজন বহুমুখী প্রতিভাধর মানুষ। তিনি একাধারে পরিচালক, গীতিকার, অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার। এমনিতে আমজাদ হোসেন বিএনপির রাজনীতির সমর্থক। কিন্তু পত্রিকায় খবর পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমজাদ হোসেনের দুই ছেলেকে ডেকে পাঠান এবং তার চিকিৎসার সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গ্রহণ করেই বসে থাকেননি। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে ৪২ লাখ টাকা দিয়েছেন। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি। কিন্তু তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী, তখন তিনি সবার প্রধানমন্ত্রী; আওয়ামী লীগেরও, বিএনপিরও, সব মানুষের। আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তিনি আবার সেটি প্রমাণ করলেন। মঙ্গলবার সকালে যুগান্তর অনলাইনে খবর দেয়া হয়, আমজাদ হোসেন মারা গেছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের নিউজরুমে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালেই আছেন। যুগান্তর অনলাইনের সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমজাদ হোসেনের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে নাকি মানুষের আয়ু বাড়ে। আমজাদ হোসেনের দীর্ঘজীবন কামনা করছি। ২৭ নভেম্বর, ২০১৮। সম্পাদনা : রেজাউল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ