Skip to main content

আতঙ্কের নাম গ্যাস সিলিন্ডার

বাংলাদেশ জার্নাল : রাজধানীসহ সারা দেশে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার চাহিদা যেমন বাড়ছে তেমনি আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কোন প্রকার পরীক্ষা করা ছাড়াই বাজারজাত হচ্ছে এসব এলজিপি সিলিন্ডার।বিভিন্ন নাম দিয়ে যে কোন ব্যক্তি ইচ্ছে পোষণ করলেই করতে পারছে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা। প্রয়োজন হয়না কোনো ধরনের পরীক্ষাগার। এ ব্যবসায়ীরা নিজেদের লাভের চিন্তা মাথায় থাকলেও গ্রাহকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলেই নিচ্ছেনা। চলতি বছরের এপ্রিলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, দেশে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বাজারজাত ও সরবরাহের প্রাথমিক অনুমতি পেয়েছে ৫৫টি কোম্পানি। কিন্তু মাত্র পাঁচটি কোম্পানি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আর ১১টি কোম্পানি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা করছে। এ বিষয়ে মিরপুর চা দোকানি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কেরোসিন তেলের দাম বেশি থাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছি। একটি সিলিন্ডারের দাম ১১৫০ টাকা। এক সপ্তাহ খুব সহজে চলা যায়। তবে এই সিলিন্ডারের কোনো ঝুঁকি আছে নাকি সেই বিষয়ে আমার জানা নেই।’ সিলিন্ডারে সাধারণত গ্যাসভাল্ব, হোসপাইপ, রেগুলেটর ইত্যাদি লিক হয়ে বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ করে সেইফটি ক্যাপ লাগানো আছে কিনা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখতে হবে সিলিন্ডার লিক হচ্ছে কি না। এ ছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার কেনার সময় ক্রেতাদের উৎপাদনের তারিখ দেখে নেয়া উচিত। গত শনিবার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে একজন শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের মুসলিমবাগ এলাকার একটি বাড়িতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ে ১৩ নম্বর রোডের একটি টিনশেড বাসায় স্ত্রী সাজেনা আখতারকে নিয়ে থাকতেন সাইফুল ইসলাম। গত ৬ নভেম্বর ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় দগ্ধ হন তারা। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে গ্যাস অগ্নিকাণ্ড হয়েছে ১৫৬টি। এর মধ্যে রাজধানীতে ৩৭টি আর বাইরে ঘটেছে ১১৯টি। এসবের মধ্যে গ্যাস লাইনে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে ৭৬টি আর সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৮০টি। এতে আহত হয় ৩৬ জন। আর ২০১৬ সালে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ আরো বেড়ে যায়। এ বছরে রাজধানীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৬ টি। তার মধ্যে ৪০টি রাজধানীতে আর বাইরে ১৫৬টি। এসবের মধ্যে গ্যাস লাইনে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে ৬৫টি আর সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১৩১টি। অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছে ৪১ জন। মারা গেছেন চারজন। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলী আহম্মেদ খান বলেন, দেশে পাইপ লাইনে গ্যাস সঙ্কটের কারণে সিলিন্ডারের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। চাহিদার বেশির থাকার ফলে মানহীন সিলিন্ডারও বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণেই সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। এ ছাড়া সিলিন্ডার ব্যবহারে মানুষের সচেতনতারও ঘাটতি রয়েছে। এই কারণেও দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। তিনি বলেন, সিলিন্ডারের মান নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা নেই। যেসব সংস্থা মান নিয়ে কাজ করে তাদেরও মান যাচাই করার সঠিক সক্ষমতা নেই। বিস্ফোরক পরিদপ্তর এ বিষয়ে দেখার করা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তারা পারছে না। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করেছি। শিগগিরই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশা করছি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ তাজা বোমার মত ভয়ঙ্কর। আইন করে সিলিন্ডার রিটেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলে অনেকটাই কমে যাবে এ ঝুঁকি। সরকারের উচিত খুব দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া।  

অন্যান্য সংবাদ