প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতীক নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নাটকীয়তা

বাংলা ট্রিবিউন : মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীতে দিনভর নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে ২০ দলীয় জোটের শরিক বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে কোন প্রতীকে, তা নিয়ে দফায়-দফায় সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে। শেষে মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করবেন। তবে এই সিদ্ধান্তও পরিবর্তন হতে পারে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট কোনও কোনও নেতা। বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ১৮ নভেম্বর বিএনপিকে জোটগত মনোনয়নের প্রস্তাব করে ৫০ জন প্রার্থীর নামের তালিকা পাঠায় জামায়াত। ওই সময় দলটির নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছিলেন, ‘মার্কা নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা করার বিষয়ে বলা হয়েছে।’ জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বলছে, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত ছিল জামায়াতের। যেসব আসনে জোটগত সমঝোতা হয়ে যাবে, সেসব আসনে প্রার্থিতা রেখে বাকিগুলো উহ্য রাখা হবে। পরে এই মাসের মাঝামাঝি বিএনপি, জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার বিষয়ে মনোভাব জানতে চায়। এরপরই জামায়াতকে পরামর্শ দেওয়া হয় ধানের শীষ প্রতীক গ্রহণের।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারও এ বিষয়টি বলেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, ‘ধানের শীষ নিয়েই জামায়াতের প্রার্থীরা জোটগত নির্বাচন করবেন।’ এরপর গত দুই দিন জামায়াতের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। বিচার-বিশ্লেষণ এবং দরকষাকষি করে জামায়াতকে ২৫টি আসনে রাজি করায় বিএনপি। যদিও আগের সবগুলো নির্বাচনে জামায়াত এর চেয়ে বেশি আসনে জোটগতভাবে প্রার্থী দিয়েছিল।

জামায়াতের সূত্র বলছে, মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়, ২৫টি আসনে জোটগত সমর্থন দেওয়া হলেও প্রার্থিতা থাকবে স্বতন্ত্র। জামায়াতও জানায়, তাদের আগেই স্বতন্ত্র প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছিল। পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. শফিকুর রহমানকে ধানের শীষে নির্বাচন করার বিষয়টি জানান। এ বিষয়ে বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এখনও হয়নি। পরিবর্তনও হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার মধ্য রাতে জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমি তো ঢাকার বাইরে। বৈঠকের বিষয়ে জানি না। তবে নির্বাচন আমরা জোটগত করবো। সব প্রস্তুতিই আছে আমাদের। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত আমি জানি না।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানি না। আগে শুনেছিলাম জামায়াতের মার্কা স্বতন্ত্র, এখন তাহলে নতুন সিদ্ধান্ত কী- তা জানি না।’ বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম।

জামায়াতের নির্ভরযোগ সূত্র বলছে, তারা খবর পেয়েছে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর কেউ-কেউ আপত্তি জানিয়েছে, জামায়াতকে যেন ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহার করতে না দেওয়া হয়। সূত্রটি বলছে, ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত সম্মতি দিয়েছেন। আর এ কারণেই ধানের শীষ প্রতীক জামায়াতের প্রার্থীদের ব্যবহারে অসম্মতি জানানো হয়েছে। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জামায়াতকে জানায় বিএনপি।

ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নেতা জানান, জামায়াতের প্রার্থীদের ধানের শীষ ব্যবহার করার সুযোগ দিলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনি প্রচারণায় বিষয়টিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গে যুক্ত করবে এবং ক্যাম্পেইনে কাজে লাগাবে। এই আশঙ্কা এবং ভবিষ্যত রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন ধারণা থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে জামায়াতকে না করতে বলা হয়েছে।

যদিও বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রটির দাবি, এই বিষয়টিও মঙ্গলবার রাতে মীমাংসা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের বাধাদানকারী দুটি দলকে রাজি করতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি। যদিও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ