প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লন্ডনে মঞ্চস্থ ‘বেদের মেয়ে জোছনা’য় দর্শকের মুগ্ধতা

তানজিনা তানিন : জনপ্রিয় যাত্রাপালা বেদের মেয়ে জোছনা মুগ্ধ করেছে লন্ডনের থিয়েটার প্রেমিদের। রাধারমণ সোসাইটির উদ্যোগে, ২৫ নভেম্বর ইস্ট-লন্ডনের রিচমিক্স থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়েছে জনপ্রিয় এই যাত্রাপালাটি। ইংরেজি- ‘ক্লাস কনফ্লিক্ট’ নামের এ যাত্রাপালার প্রশংসা করেন ক্যামেন আইল্যান্ডের সাবেক গভর্নর ও ব্রিটেনের অন্যতম শীর্ষ কূটনীতিক আনোয়ার চৌধুরী।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেড় ঘণ্টাব্যাপী বাংলা লোক-শিল্পের এই অসাধারণ উপস্থাপনা আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছে। এমন সম্মোহনি পরিবেশনায় অভিভূত হয়ে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান হলভর্তি দর্শকরা। করতালির মাধ্যমে পালা গানের কুশিলবদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন উপস্থিত সবাই।

আনোয়ার চৌধুরী বলেন, বাংলার লোকশিল্প ও কুটির শিল্পকে রাধারমণ সোসাইটি বিশ্বমঞ্চে নিয়ে আসার যে অব্যাহত চেষ্টা করে যাচ্ছে তা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। পালাগানের নির্দেশক ও বয়াতিটি এম আহমেদ কায়সারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, শিল্পের প্রতি তার অদম্য নেশা তাকে অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস করেছে। বেদের মেয়ে জোছনার পালা এরই ধারাবাহিকতার অংশ। লোক-গাঁথার কাল-নাগকে দিয়ে আধুনিক জীবনের পুঁজিবাদী রাজনীতি ও ব্যবস্থাপনার যে এলিগরি নির্মাণ করেছে, তাতে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনই বিম্বিত হতে দেখি।

ব্রিটেনের শীর্ষ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী চন্দ্রা চক্রবর্তী শুরুতেই পালাগানের ওপর সংক্ষিপ্ত ভূমিকা দিতে গিয়ে বলেন, বাংলা সংস্কৃতির আদিমতম উৎস। এই লোককাব্য বা গ্রাম থিয়েটারের কাহিনীগুলো অনেক সময় ঈশপের গল্পের মতো এক ধরনের রূপকথা মনে হলেও, এতে গভীরভাবে প্রোথিত আছে মানবিক আবেগ, প্রেম-ভালোবাসা আর শ্বাশ্বত সব মানবিক-বাণী।

দর্শক মতামত পর্বে ক্যানেলিয়া নামের এক পোলিশ দর্শক জানান, প্রথম দেখা বাঙালি এই লোকগাঁথার সঙ্গীত, নৃত্য এবং অন্তর্নিহিত রূপকল্পে দারুণ অভিভূত।

রিচমিক্স অডিয়েন্স ক্লাবের জন ফিল্ড ও উন্নয়নকর্মী পিটার মুসগ্রাভও পরিবেশনা নিয়ে উচ্ছ্বাসিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বেদের মেয়ে জোছনা পালাগানের নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন সোনিয়া সুলতানা। তার অভিনয়, নৃত্য এবং মঞ্চ-বিচরণের ভূয়ুসী প্রশংসা করেন উপস্থিত দর্শকেরা।

রাজা চরিত্রে কবি ও সাংবাদিক সারওয়ার ই আলম সাবলীল ছিলেন আদ্যোপান্ত। যুবরাজ চরিত্রে অভিনয় করেন সোহেল আহমেদ। প্রোডাকশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন কবি শামিম শাহান। কীবোর্ড ও ভোকাল সহযোগিতায় ছিলেন মেধাবি শিল্পী অমিত দে, হার্মনিয়ামে শ্রী অমল পোদ্দার, নারী-কন্ঠ সঙ্গীতে তরুণ ও প্রতিভাবান শিল্পী জেসি বড়ুয়া এবং ঢোল সঙ্গত করেন সাঈদ ফাহিম। মন্দিরায় রাহেল চৌধুরী ও কণ্ঠ-সহযোগিতায় বাউল শিল্পী সাজ্জাদ মিয়া। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনব্য করেন সুহেল মিয়া (জল্লাদ), জুনায়েদ (রাজার অনুচর) ও অমর বৈদ্য (ওঝা), অনু দেব (ধামাইল নাচ), লাজান (নাগিনী) মৌলি ধর (ধামাইল নাচ)। সিলেট টু লন্ডন নামে একটি অনলাইন গ্রুপ পুরো পরিবেশনা ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ