প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবশেষে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে এলএনজি

বাংলা ট্রিবিউন : অবশেষে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)। বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করছে জ্বালানি বিভাগ। এর আগে, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে গ্রিডে খুব অল্প অল্প পরিমাণে সরবরাহ করে গ্যাসের চাপ পরীক্ষা করার কাজ শুরু করেছে জিটিসিএল।

গত ২৪ এপ্রিল এক্সিলারেট এনার্জি এলএনজির ভাসমান টার্মিনালটি কাতার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে।এরপর গত ১৮ আগস্ট প্রথমবারের মতো এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হয়।তবে, পাইপলাইনের কাজ শেষ না হওয়ায় এতদিন এতদিন শুধু চট্টগ্রামেই এই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস আনতে আনোয়ারা-ফৌজদারহাট পাইপলাইন প্রকল্প হাত নেওয়া হয়।গত ২৫ অক্টোবর এই পাইপলাইনটির সঙ্গে কর্ণফুলী নদী অতিক্রমের কাজও শেষ হয়।এরপর শুরু হয় নদীর দুই পাশের পাইপলাইনের সঙ্গে পাইপ জোড়া লাগানোর কাজ।

সে কাজও শেষ করে মঙ্গলবার সকাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে  অল্প পরিমাণে এলএনজি সরবরাহ করে গ্যাসের চাপ পরীক্ষা করছে জিটিসিএল।

এ বিষয়ে আনোয়ারা-ফৌজদারহাট প্রকল্প পরিচালক সুশীল কুমার সরকার বলেন, ‘রিভার ক্রসিং পাইপলাইনের সঙ্গে দুই পাশের পাইপলাইনের হুক জোড়া দিয়ে প্রাথমিকভাবে গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের কাজ শুরু করা হয়েছে।সকাল ১০টা থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। এখন আমরা গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্যাস সরবরাহ করার প্রক্রিয়াগুলো চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, আগামীকাল সকাল নাগাদ জাতীয় গ্রিডে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে এলএনজি সরবরাহ শুরু করতে পারবো।’ তিনি বলেন, ‘গ্রিডে ৭০০/৮০০ পিএসআই গ্যাসের প্রেসার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। এখন ১০০/২০০ দিয়ে দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে প্রেসার বাড়িয়ে পরীক্ষার কাজ চলবে সারারাত। এখন মূলত লাইনটি গ্যাস সরবরাহের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।’  এরপর মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ মূল গ্রিডে সবররাহ করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে, এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘পাইপলাইন তৈরি হয়ে গেলেই এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। জিটিসিএল কাজ শেষ করলেই সরবরাহ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে ৩১০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো এলএনজি নেওয়া হচ্ছে। এটি বাড়িয়ে পরে ধারাবাহিকভাবে ৩৫০, ৪০০, ৪৫০ এরপর ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হবে। ধীরে ধীরে গ্যাসের এই সরবরাহ বাড়ানো হবে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় কোম্পানি জিপসাম ও বাংলাদেশি কোম্পানি গ্যাসমেন যৌথভাবে এ কাজের ঠিকাদার হিসেবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) সঙ্গে চুক্তি করে। গত ৩০ মার্চ প্রথমবার পরীক্ষামূলক খননকাজ শুরু করা হয়। এরপর দুইবার নানা জটিলতার পর তৃতীয় দফায় চলতিমাসে পাইপলাইনের কাজ শেষ করলো ঠিকাদার কোম্পানি জিপসাম। সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কাতারের রাসগ্যাস এলএনজি সরবরাহ করবে। প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে এলএনজি সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ।এক্সিলারেট ছাড়াও আগামী বছরের মাঝামাঝিতে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালটি আসার কথা রয়েছে। এতে সরবরাহ আরও বাড়বে। কাতার ছাড়াও ওমানের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহ চুক্তি করেছে সরকার।এর বাইরে আরও ২৬টি কোম্পানির কাছ থেকে স্পট মার্কেটিং ভিত্তিতে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা রয়েছে প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।প্রতিদিন প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজির সংকট রয়েছে।সরকার বলছে ২০১৯ সাল নাগাদ মোট এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করে সংকট সামাল দেওয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ