প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অহম ও লজ্জাবোধ শিক্ষকদের অভিধান থেকে বাদ হয়ে যাচ্ছে

কামরুল হাসান মামুন : ডিসেম্বর মাস নির্বাচনের মাস। এই মাসে যেমন জাতীয় নির্বাচন তেমনি আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন। আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমরা ছাত্ররা এতোই বোকা ছিলাম যে আমরা কেউ জানতাম না আমাদের কোন শিক্ষক কোন রাজনীতি করেন। শিক্ষক হওয়ার পরে এগুলো জেনেছি। ৮০-৯০ এর দশকে খুব কম শিক্ষককেই দেখেছি সরাসরি রাজনীতি করেন। তবে পেছন ফিরে তাকালে একটি ট্রেন্ড খুঁজে পাওয়া যায়। শিক্ষকদের রাজনীতি করার প্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। আমি ভাগ্যবান যে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর আজ পর্যন্ত আমাকে কেউ রাজনৈতিক কোনো মিটিংয়ে অংশ নিতে বা রাজনীতি করতে বলেননি।

কিন্তু জমানা বদলেছে। এখন ছাত্রছাত্রীরা সবাই জানে কোন শিক্ষকের কি রং, কোন শিক্ষকের কেমন ক্ষমতা, কোন শিক্ষকের সাথে থিসিস করলে বা কার সাথে সম্পর্ক ভালো রাখলে শিক্ষক হওয়া কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া সহজ হবে।

শিক্ষকরা এখন এইসব ব্যাপারে খুবই খোলামেলা খুবই বৈষয়িক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে হয় রঙের আবরণে রাজনীতির ভিত্তিতে। শিক্ষকদের অহমবোধ এখন এতো কমে গিয়েছে যে তারা নিজেরাই সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্যাম্পেইন করা শুরু করেছে।
রাজনীতি যে করে এই ব্যাপারে এখন আর কোনো রাখঢাক নেই। শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে কেবল শিক্ষকরাই ভোটার। এখন ক্যাম্পেইনের অজুহাতে এটা কেন ফেসবুকে দিতে হবে? কারণ শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে নমিনেশন পাওয়া মানে এটা একটা বিরাট প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হয়। আর নির্বাচনে জিতে গেলে তো মানুষের কংগ্রাচুলেশন পাওয়ার লোভে পাগল প্রায় হয়ে ওঠে। এটা ক্ষমতার ব্যাপার। তাই তাদের ক্ষমতা সবাইকে জানানোর একটা বাসনা অনুভব করে। সবাই চায় মানুষ তাকে চিনুক, জানুক এবং বুঝুক যে সে ক্ষমতাবান হওয়ার সিঁড়িতে আছে।
অহমবোধ, লজ্জাবোধ এইগুলো শিক্ষকদের অভিধান থেকে বাদ হয়ে যাচ্ছে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত