Skip to main content

মানিকগঞ্জে জহিরুল হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যু দন্ড

জাহিদুল হক চন্দন, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জহিরুল নামে এক কিশোরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ৬ টুকরা করে হত্যা ও লাশ গুমের দায়ে চার জনের মৃত্যুদন্ড ও তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শহীদুল আলম ঝিনুক এই রায় প্রদান করেন। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হলেন, সিংগাইর উপজেলার মেদুলিয়া গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে সোহেল (২২), মোশারফ হোসেনের ছেলে রাকিব (২১), বাস্তা গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে সুলতান (৩৫) ও শিবালয় উপজেলার টাওয়াখালী গ্রামের সামেজ উদ্দিনের ছেলে রফিকুল (২৬)। যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্তরা হলেন, সিংগাইরের বাস্তা গ্রামের কিতাব আলীর ছেলে রুবেল (২৪), মেদুলিয়া গ্রামের তারা খানের ছেলে সজিব (২০)। এই মামলা থেকে সিংগাইরের মেদুলিয়া গ্রামের আমিনুল হকের ছেলে শরীফুলকে (২২) খালাস দেয়া হয়েছে। তবে, হত্যাকান্ডের পর থেকে সুলতান ও সজীব পলাতক আছে। আদালত ৬ জনের উপস্থিতিতে এই রায় প্রদান করেন। মামলার বিবরণে প্রকাশ, ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাইরের ধল্লা ইউনিয়নের খাসেরচর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে যায় বাস্তা গ্রামের সুলতানের বাড়িতে। জহিরুল রাতে বাড়ি না ফেরায় তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে বন্ধ পাওয়া যায়। পরের দিন বিষয়টি থানাকে জানালে পুলিশ ওই দিন বিকালে সুলতানের বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় তল্লাশি করে ওই বাড়ি থেকে পুলিশ জহিরুলের মোবাইলের দুটি সিমকার্ড, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও মাদকদ্রুব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। নিখোঁজের দুই দিন পর ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে সুলতানের বাড়ি সংলগ্ন প্রবাসী আব্দুল কাইয়ুমের বাড়ির বাথরুমের সেপটি ট্যাংকির ভিতর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় জহিরুলের গলা ও হাত-পা বিচ্ছিন্ন ৬ টুকরা লাশ পাওয়া যায়। নিহতের পিতা শেখ খোকন মিয়া ৮জনকে বাদী করে সিংগাইর থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার মূল আসামী সুলতানকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে গত ২০১৭ সালে ৪ জুন মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতে মোট ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এপিপি মথুর নাথ সরকার, ও আসামী পক্ষে সাইফুল ইসলামসহ ৭ জন।