Skip to main content

৫৩৬-৬৪০ খৃস্টাব্দ পৃথিবীর অন্ধকার আচ্ছন্ন এক সময়

সৌরভ নূর : ইতিহাসবিদরা বহুকাল আগে থেকেই জানতেন ষষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ৫৩৬ খৃস্টাব্দে একটি আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্রচণ্ড এক অন্ধকার নেমে এসেছিল পৃথিবীতে। একে বলা হয় অন্ধকার যুগ। কিন্তু কী কারণে এই অন্ধকার নেমে এসেছিল, কেনো তৈরি হয়েছিল মেঘের মতো কুয়াশার চাদর সেই রহস্যের একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব ইতিহাস নিয়ে গবেষণাকারী বিজ্ঞানীদল। সুইস হিমশৈল থেকে কিছু বরফ নিয়ে এই গবেষণাটি চালিয়েছেন তারা। তারা বলছেন, ৫৩৬ খৃস্টাব্দের সময়কার বরফে দুটো আণুবীক্ষণিক কণা পাওয়া গেছে যা আসলে আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্ট ছাই। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, সেই ছাই বাতাসে করে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র ইউরোপে এবং পরে এশিয়ায়। সাথে করে নিয়ে আসে তীব্র ঠাণ্ডা। তারপর আরো বড় দুটো অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছিল ৫৪০ এবং ৫৪৭ খৃস্টাব্দে। এবং এই অবস্থা ৬৪০ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যযুগ বিষয়ক ইতিহাসবিদ এবং প্রত্নতত্ত্ববিদ মাইকেল ম্যাককরমিকের মতে, পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে মানুষের বেঁচে থাকার জন্যে ভয়াবহ যতো সময় গেছে তার মধ্যে সুনির্দিষ্ট করে এই সময়টা ছিল সবচেয়ে ভয়াভয়। বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক এক সাময়িকীতে মাইকেল ম্যাকরমিক লিখেছেন, সেই সময় খুবই রহস্যময় এক কুয়াশা সমগ্র ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার কিছু অংশকে অন্ধকারে ঢেকে দিয়েছিল। সমান হয়ে গিয়েছিল দিন এবং রাত। এই অবস্থা ছিল এক দু'দিনের জন্যে নয়। টানা দেড় বছর ধরে সূর্যের আলো এসে পৌঁছাতে পারেনি পৃথিবীতে। তিনি আরও লিখেছেন, ৫৩৬ খৃস্টাব্দের গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা কমতে কমতে নেমে গিয়েছিল দেড় থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গত ২৩০০ বছরের ইতিহাসে ওই দশকটাই ছিল সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডার। গ্রীষ্মকালেও চীনে তুষারপাত হয়েছিল। হয়েছিল শস্যহানি। এছাড়া আইরিশ ক্রনিকলের রেকর্ডে উল্লেখ আছে, ৫৩৬ থেকে ৫৩৯ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত রুটির মারাত্মক অভাব দেখা দিয়েছিল। তারপর ৫৪১ খৃস্টাব্দে দ্রুত সংক্রামক ব্যাধি প্লেগ আক্রমণ করে মিশরের পেলসিয়াম বন্দরে। এই রোগ এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে প্লেগের কারণে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক জনগোষ্ঠী বিনাশ হয়ে যায়। ত্বরান্বিত হয় রোমান সাম্রাজ্যের পতনও। সূত্র: বিবিস