প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট সত্যিই বড় বিচিত্র

স্পোর্টস ডেস্ক : ঢাকার নিচের সারির ক্লাব ক্রিকেট বড় বিচিত্র! অদ্ভুত সব ব্যাপার-স্যাপার তৃণমূলের এই ক্রিকেটকে পরিণত করেছে বিরাট প্রহসণে।

সরকারি দল, কোপাকুপির ম্যাচ
ক্ষতিগ্রস্ত ক্লাবগুলোর কাছে অন্যায় সুবিধা নেওয়া ক্লাবগুলোর নাম ‘সরকারি দল’। যেসব ম্যাচে আম্পায়াররা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন, সেগুলোকে বলা হয় ‘কোপাকুপির ম্যাচ।’

১২টার মধ্যে ম্যাচ শেষ –
‘কোপাকুপি’র ম্যাচ দুপুর ১২টার মধ্যে শেষ করা ‘নিয়ম’। আম্পায়ারদের এবং কখনো কখনো যাদের হারানো হবে, সেই ক্লাবকেও জানিয়ে দেওয়া হয় এটি। তাতে ‘লাভ’ দুই পক্ষের। লাঞ্চের ৩-৪ হাজার টাকা বেঁচে যায়! মূলত এই খরচটা এড়াতেই ১২টার মধ্যে খেলা শেষ করতে বলে ‘সরকারি দলগুলো’। তেঘরিয়ার অধ্যাপক হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে তৃতীয় বিভাগের প্রায় সব ম্যাচই ১২টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এই মাঠটির নাম হয়ে গেছে ‘বধ্যভূমি’।

তারাও আছেন –
অন্তত তিনজন বিতর্কিত স্কোরার আছেন, যাঁরা মুঠোফোনে বিশেষ নির্দেশনা পেয়ে সেটি রিজার্ভ আম্পায়ারদের মাধ্যমে ফিল্ড আম্পায়ারদের কাছে পাঠান।

অনুতাপ
প্রথম বিভাগে ঢাকা ক্রিকেট একাডেমির বিপক্ষে বাজে সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে আম্পায়ার রিজওয়ান পারভেজকে যাচ্ছেতাই গালাগাল করেন পারটেক্সের এক কর্মকর্তা। রিজওয়ান গালাগালের প্রতিবাদ না করলেও পরে নাকি অনুতাপ করেছেন, এ রকম ম্যাচ আর জীবনেও করবেন না। এরপর কয়েক দিন তাঁকে কোনো ম্যাচে দেখাও যায়নি। তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রিজওয়ান জানান, ম্যাচ করছেন না ব্যক্তিগত কারণে।

কোন আইসক্রিম –
তেঘরিয়ায় ‘সরকারি দল’ সুরিটোলা ক্রিকেটার্স ক্লাবের বিপক্ষে প্রগতি সেবা সংঘের ‘কোপাকুপির ম্যাচ’টি শেষ হয়ে যায় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে। প্রগতির সাত ব্যাটসম্যানকে দেওয়া হয় কট বিহাইন্ড। ব্যাপারটা আগেই জানা ছিল বলে ব্যাটসম্যানরা বল পেছনে গেলেই কোনো দিকে না তাকিয়ে মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন। অন্যায় আউট নিয়ে উচ্চবাচ্য না করায় খেলা শেষে সুরিটোলার কর্ণধার অ্যাডভোকেট মুজিবর রহমান নাকি খুশি হয়ে প্রগতির ড্রেসিংরুমে ৪টি কোন আইসক্রিম পাঠান। তবে মুজিবরের দাবি, তিনি কাউকে কোন আইসক্রিম পাঠাননি।

ফাউয়ের চেষ্টা –
তৃতীয় বিভাগে একটি পাতানো ম্যাচে জয়ী দলের কাছ থেকে কিছু ‘ফাউ’ কামিয়ে নিতে চেয়েছিলেন এক বিতর্কিত আম্পায়ার। খেলা শেষে ওই ক্লাবের কর্মকর্তাদের গিয়ে বলেন, ‘আজ তো জিতিয়ে দিলাম। কিছু দেন।’ এ কথা শুনে ক্লাব কর্মকর্তা নাকি বলে ওঠেন, ‘আপনারে দিলে তো পাঁচ হাজারেই হইত। আমরা তো ৩০ হাজার দিয়া পয়েন্ট কিনলাম!’

পুলিশ প্রহরা –
তেঘরিয়ায় তৃতীয় বিভাগের ইয়াং ক্রিকেটার্স-মিরপুর ক্রিকেট ক্লাব ম্যাচ শেষে বিতর্কিত দুই আম্পায়ার শামসুর রহমান জ্যাকি ও শাহীনুর রহমান শামীমকে খেলোয়াড়দের রোষানল থেকে বাঁচাতে মাঠে নামতে হয় পুলিশকে। কিন্তু পুলিশ না হয় তাদের লাঞ্ছনা থেকে বাঁচাল, গালাগাল থেকে বাঁচাবে কে! মাঠ ছাড়ার সময় ‘চোর’, ‘চোরের বাচ্চা’ ছাড়াও অশ্রাব্য সব গালাগাল শুনতে হয়েছে আম্পায়ারদের। ঘটনাটির ভিডিও ধারাবিবরণীসহ ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। -প্রথমআলো অনলাইন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ