প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদকের গডফাদার-অস্ত্রের ডিলার ও ৮ মামলার আসামি স্ত্রীসহ গ্রেফতার

সুজন কৈরী : রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানিলন্ডারিং মামলায় মাদকের গডফাদার ও আর্মস ডিলার ৮ মামলার আসামি স্ত্রীসহ ৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট। এদের মধ্যে বাড্ডা এলাকা থেকে মাদকের গডফাদার ও আর্মস ডিলার ও ৮টি মামলার আসামী মো. গোলাম ফারুক ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার ওরফে এ্যানীকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার ও মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ফারুক ২০০৯সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দরিদ্র পরিবার থেকে খালি হাতে ঢাকায় এসেছিলেন। ইয়াবা ব্যবসা করে এখন তিনি কোটিপতি। ইযাবার পাশাপাশি অস্ত্র ব্যবসা ও গার্মেন্টস ফ‍্যাক্টরির ব্যবসাও রযেছে তার বলে জানিয়েছে সিআইডি।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল‍্যা নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত বছরের এপ্রিলে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানায় দায়ের করা একটি মাদক মামলা তদন্ত শেষে মানিলন্ডারিং মামলার অনুসন্ধান করে গত ওই বছরের ২৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভ‚ক্ত আসামি ও মাদকের গড ফাদার নুরুল হক ভুট্টো তার বড় ভাই নুর মোহাম্মদ, তার বাবা এজাহার মিয়াসহ তার ভাগ্নে ও বিকাশ এজেন্ট সহ মোট ১৭ জনের নামে টেকনাফ মডেল থানায় মানিলন্ডারিং মামলা করা হয়। তাদের আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে মিরপুর সেনপাড়া থেকে মাদকের গড ফাদার আফজাল হোসেন ইমন, তার স্ত্রী সাদিয়া আফরোজ ও তার ছেলে সালাহউদ্দিন ওরফে প্রিন্স ও বিকাশের এজেন্ট স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়। নুরুল হক ভুট্টো তার বড় ভাই নুর মোহাম্মদ ও বাবা এজাহারের মিয়ার আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে মিরপুর বিহারী ক্যাম্প এলাকা থেকে অপর মাদক ব্যবসায়ী রূপা ইসলাম ও তার স্বামী আল আমিন এবং তাদের সহযোগী ফয়সাল, রিয়াজ ও বিকাশের এজেন্ট জনি ও কুদ্দুসকে গ্রেফতার করা হয়। নুরুল হক ও তার বড় ভাইয়ের আর্থিক লেনদেনের সূত্রে নরসিংদী থেকে মাদকের ডিলার রায়হান, মো. আসাদুজ্জামান ও স্বপন, কেরানীগঞ্জ থেকে বিকাশের এজেন্ট আব্বাস, টঙ্গী থেকে মাদক সম্রাঙ্গী রানী তার ব্যবসায়িক সহযোগী নাঈম হোসেন, ইব্রাহীম এবং বিকাশের এজেন্ট শাহাজালাল ও নাসিরউদ্দিন সোহেল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মো. মুসা মিয়া এবং জয়পুরহাট থেকে উত্তর অঞ্চলের মাদকের গড ফাদার আবুল হোসেন ওরফে গোল্ড আবুলকে গ্রেফতার করা হয়।

মোল্যা নজরুল জানান, ঢাকায় আসার পর গাজীপুরের এক গ্রুপের সঙ্গে পরিচয় হয় ফারুকের। তার সাথে সে অস্ত্র ব্যবসা শুরু করে। পাশাপাশি গাজীপুরে একটিগামেন্টর্স ফ্যাক্টরি দেন। কিছুদিন পর তিনি ইয়াবা ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে টেকনাফ থেকে নুরুল হক ভুট্টোর চাচা গুড়া মিয়ার সঙ্গে ইয়াবা ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু পরে নুরুল হক ভুট্টো ও তার ভাই নুর মোহাম্মদের কাছ থেকে ইয়াবা এনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করেন। এ ব্যবসার মাধ্যমে ফারু প্রায় শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তার পুরো পরিবার মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার স্ত্রী, ভাগ্নে সহ তার পরিবারের বেশি কিছু সদস্য মাদক মামলায় কারাগারে রয়েছে। এ পর্যন্ত তার নামে ও বিভিন্ন থানায় ৮টি মামলা হয়েছে। যার মধ্যে ২টি অস্ত্র মামলা, বাকিগুলো মাদক মামলা। মানি লন্ডারিং মামলায় আর্মস ডিলার, মাদকের গডফাদার, ৮ মামলার আসামি ফারুক ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার এ‍্যানীকে ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং বিভিন্ন সময় এ মামলায় মোট ৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট। এসময় তাদের কাছ থেকে ৭২লাখ টাকার ২টি হাইয়েস মাইক্রোবাস, একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয় এবং নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ