প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অব্যাহত রেখেছে ঐক্যফ্রন্ট

সাইদ রিপন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এক্সিকিউটিভ (নির্বাহী) ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে নির্বাচনি আচরণবিধি সংক্রান্ত তিন দিনের ব্রিফিং ২৬ নভেম্বর (সোমবার) শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ দিনও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অব্যাহত রেখেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

নির্বাচনকে সামনে রেখে এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্রিফিং করেছে ইসি। একের পর এক নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইসির ব্রিফ শেষ হলেও নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ  অব্যাহত রয়েছে।
৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনে সমান সুযোগ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট। অভিযোগের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের উত্থাপিত অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে খুব একটা দেখা যায়নি ইসিকে। যদিও তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ ও ব্রিফিংয়ে নির্বাচনে সমান সুযোগ তৈরি ও সব রাজনৈতিক দলকে আচরণবিধি মানতে বাধ্য করার কথা বলে আসছে ইসি।

এক্সিকিউটিভ (নির্বাহী) ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফিংয়ের শেষ দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘নির্বাচনের পূর্বে ও পরে আপনাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে থাকতে হবে এবং তাদের পরিচালনা করতে হবে। আচরণবিধি প্রয়োগ করতে গিয়ে এমন কিছু করবেন না, যেন একটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। কখনো আইনকানুনের অবস্থান থেকে বিচ্যুত হবেন না।’ অবশ্য এ রকম বক্তব্য সিইসিসহ অন্য কমিশনার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রায়ই বলতে শোনা যায়।

এদিকে সিইসির ব্রিফিংয়ের কয়েক ঘণ্টা পরই আচরণবিধি লঙ্ঘনের কয়েকটি অভিযোগ নিয়ে আসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে বলা হয়, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাহী আদেশে সরকারি বিভিন্ন চিঠিপত্রে “উন্নয়নের গণতন্ত্র, শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র”সহ নানা প্রকার দলীয় স্লোগান ব্যবহার করা হচ্ছে। সচিবালয় প্রশাসনসহ জেলা/উপজেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে লিখিত “নির্বাচন অগ্রাধিকার”বিষয়ক পত্রেও একই স্লোগান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ ও আচরণবিধিমালার পরিপন্থী।’

আরেকটি চিঠিতে বলা হয়, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের নামে কম্বলসহ ত্রাণসামগ্রী আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মালিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিএবি) কাছ থেকে এক কোটি কম্বল সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ভোটারদের মাঝে এ ধরনের কম্বল/ত্রাণ তৎপরতা চালানো নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা এ বিষয়ে কমিশনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রত্যাশা করছি।’

এর আগে চার দফায় নির্বাচন কমিশনের কাছে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তালিকা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি। কিন্তু সেগুলোও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি ইসিকে।

প্রথম দফায় গত ১৬ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর গ্রেফতার হওয়া ৪৭২ জন নেতাকর্মীর তালিকা ইসির কাছে জমা দেয় বিএনপি। গত ১৮ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় দলটি তফসিলের পর, তফসিলের আগের কয়েক মাসে এবং ১০ বছরে গ্রেফতার, খুন হওয়া নেতাকর্মীদের তালিকা তুলে দেয় ইসির কাছে। ২১ নভেম্বর তফসিলের পর মনোনয়নপ্রত্যাশী পাঁচ জন নেতাকে গ্রেফতার ও একজন নিখোঁজ বলে ইসিকে অবহিত করে বিএনপি। একই সঙ্গে ৫২৯ জন নেতাকর্মীর তালিকা ইসির কাছে তুলে ধরে দলটি। সর্বশেষ ২৪ নভেম্বর, শনিবার ২১ জন নেতাকর্মী গ্রেফতারের তালিকা দেয় তারা।
২৬ নভেম্বরও দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হয়রানি চলছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

পুনর্নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ২৮ নভেম্বর; মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত