Skip to main content

প্রধানমন্ত্রীর কোন কথার বাস্তবায়ন হতে দিচ্ছে না বিশেষ মহল: মোবাশ্বের হোসেন

মো. মারুফুল আলম : বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন সভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কথাগুলো কোন বিশেষ ব্যক্তিবর্গ মানতে দিচ্ছে না, মানাতে চাচ্ছে না। মঙ্গলবার চ্যানেল আই ‘তৃতীয় মাত্রা’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবার ইলেকশনকে নিয়ে বলেছেন যে, এবার নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য। আমরা জানি, রাষ্ট্রের প্রধান যখন কিছু বলেন, সবকটি বিভাগ তাকে সাপোর্ট দিতে বাধ্য। বাস্তবে আমরা কী দেখতে পাচ্ছি, সাপোর্ট হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিনা কারণে জেলে নেওয়া হবে না।’ বিনা কারণ বলতে সাধারণত আমরা ফৌজদারী কেস হলে ধরা যেতে পারে বলেই জানি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরে অহরহ গায়েবী কেস হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে প্রত্যেকের বক্তব্য ছিলো, এবারের ইলেকশনে ইয়াং জেনারেশনকে আনা হবে এবং তৃণমূল থেকে জনগণের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের কথাও বলা হলো। পরের বক্তব্যটি ছিলো, যারা এই পাঁচ বছর বা দশ বছর অন্যায় কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলো, তাদের ব্যাপারে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোমবার মনোনয়ন লিস্ট বের হওয়ার আগ পর্যন্ত এই ধারণাটি মানুষের ভেতরে ছিলো। কিন্তু এই ধারণাটা আমাকে ধাক্কা দিলো যখন ওবায়দুল কাদের সাহেব মিডিয়ার সামনে বললেন, ফেসবুক ইত্যাদিতে যেখানে যাই প্রচারিত হোক, অফিসিয়ালি প্রচারের আগে অভিনন্দন জানানো ঠিক না। পরপরই বলা হলো যে বদির বদলে তার স্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমার মতো বোকা মানুষ চিন্তা করবে, বদিকে মনোনয়ন দেয়া হয়নাই মানে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলনের জন্যই বদিকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। বাস্তবে কিন্তু বদির বদলে বদির স্ত্রীকে নমিনেশন দিয়ে বদিকে একেবারে স্থায়ীভাবে জঙ্গলে ছেড়ে দেয়া হলো আর বলা হলো- যাও, যা খুশি করো। আর তোমার জায়গা আমরা ঠিক রেখেছি তোমার স্ত্রীকে দিয়ে। মোবাশ্বের হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের উদ্দেশে বক্তব্যে কথাপ্রসঙ্গে বলেছিলেন, এবার কিন্তু আমাদের জিততে হবে, না হয় পিঠের চামড়া থাকবে না। কথাগুলো যেভাবে মিডিয়ায় গেছে, যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তাতে নমিনেশন আশাবাদী মানুষগুলির মেজরিটির ধারণা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইশারা দিয়েছেন- খুন-খারাবী মারামারি যা করা লাগে, ইলেকশনে আমাদের জিততে হবে, না হয় পিঠের চামড়া থাকবে না। আর কিছু খারাপ লোক এটাকে আরেক ধাপ ভিন্নভাবে ব্যবহার করে এভাবে বলছে যে, প্রধানমন্ত্রীর কথার মানে কি এই যে, যতদিন আমরা সরকারে আছি ততদিন বিরোধীদের পিঠের চামড়া রাখিনি, তারাও আমাদের পিঠের চামড়া রাখবে না। তিনি বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন- আমার চারপাশে চাটার দল, আর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমাকে ছাড়া আওয়ামী লীগের সবাইকে কেনা যায়। এর চেয়ে ডেঞ্জারাস কথা পৃথিবীর ইতিহাসে আছে বলে জানা নেই। কিন্তু উনার এই কথা বলার পরও কেউ কোন প্রতিবাদ করেনি। তাহলে এটা সত্য যে, প্রধানমন্ত্রী এটা ধরতে পেরেছেন কে কে এই কাজগুলোর সাথে জড়িত। যখন একজন ক্রিমিনালকে আইডেন্টিফাই করা যায়, তখন সে পারে না এমন কোন মন্দ কাজ নেই। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখে এই মানুষগুলোই অন্যায় কাজগুলো করছে।

অন্যান্য সংবাদ