প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অপরাধের পুরস্কার মনোনয়ন!

রবিন আকরাম : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছিলেন, কোনো বিতর্কিত, নিন্দিত ও সমালোচিত সাংসদ মনোনয়ন পাবেন না। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারাই মনোনয়ন পাবেন। কিন্তু গত রোববার মনোনয়ন ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব বিতর্কিত ব্যক্তিরাই দলের মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও লেখক সোহরাব হাসান।

মঙ্গলবার দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইনে তিনি এসব কথা লিখেছেন।

সোহরাব হাসানের ভাষায়, লোকলজ্জার ভয়ে যে দুজন অতি বিতর্কিত ও নিন্দিত সাংসদকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিতে পারেনি, সান্ত্বনা হিসেবে সেই মনোনয়ন তাঁদের পরিবারেই রেখে দিয়েছে। বাইরে যেতে দেয়নি। এই দুই সাংসদ হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের (টেকনাফ-উখিয়া) আবদুর রহমান ওরফে বদি ও টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আমানুর রহমান খান ওরফে রানা।

টাঙ্গাইলে আমানুরের জায়গায় মনোনয়ন পেয়েছেন তার বাবা আতাউর রহমান খান, বয়স আশির কাছাকাছি। আর কক্সবাজারের আবদুর রহমান বদির জায়গায় তার প্রথম স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী (দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে অনেক আগে বদির ছাড়াছাড়ি হয়েছে, না হলে হয়তো মনোনয়নটিও ভাগ করে দিতে হতো)। তাদের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিচয় যা-ই থাকুক না কেন, একজন খুনের মামলার চার আসামির পিতা, আরেকজন ইয়াবা গডফাদার হিসেবে পরিচিত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকার শীর্ষে নাম থাকা ব্যক্তির স্ত্রী। শুধু বদি নন, তাঁর পাঁচ ভাই, ভাগনে, বেয়াই, ফুফাতো ভাইসহ বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নামও আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায়।

ধর্মের কথা হলো, পিতার অপরাধের জন্য পুত্রকে দায়ী করা যাবে না। কিন্তু এখানে পুত্রের অপরাধের জন্য পিতাকে পুরস্কৃত করা হলো। মনোনয়ন পাওয়া পিতার চার পুত্রই খুনের আসামি।

অন্যদিকে কক্সবাজার-৪ আসনের সাংসদ আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও নানা অভিযোগ আছে। তাকে মনোনয়ন না দিয়ে তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে দেওয়া হয়েছে। এই সৌভাগ্য কজনের হয়? আর সেই অপরাধের ‘পুরস্কার’ হলো আওয়ামী লীগের ‘দুর্লভ’ মনোনয়ন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ