Skip to main content

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রশংসার

মিল্টন বিশ্বাস ২৫ নভেম্বর(২০১৮) যখন আওয়ামী লীগের ২৩০টি আসনের মনোনয়ন ঘোষিত হচ্ছিল ঠিক তখন ঢাকা সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের উন্নয়ন ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। বিশেষত জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ও নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রতিনিধি দলের স দস্যরা বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ তাদের যোগ্য নেতা নির্বাচিত করবে। তাদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনা একজন দৃষ্টান্ত। তিনি শিক্ষা বিস্তার ও গার্মেন্ট খাতের আমূল সংস্কার করেছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে বলে তাদের ধারণা। আসলে ২৩০টি আসন বণ্টনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা নির্বাচনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে জনগণের কাছে স্পষ্ট করে তুলেছেন। উল্লেখ্য, ঘোষিত মোট ২৩০টি আসনে নতুন মুখ ৪৬ জন, নারী প্রার্থী ১৭, সংখ্যালঘু ১৮ এবং ১০ আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। যথাসাধ্য চেষ্টার মধ্য দিয়ে সমালোচিত এবং বিতর্কিতদের এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। মনোনয়ন প্রকাশের আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীদের বলেছিলেন যাকেই প্রার্থী করা হবে- তার জন্য সকলকে লড়তে হবে; দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। দলের ভেতর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এজন্যই অনন্য। দুই. কেবল মনোনয়নের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ দিক-নির্দেশনা বা নেতৃত্ব নয় নির্বাচনী ইশতেহার নিয়েও তাঁর রয়েছে আলাদা অভিমত। তাঁর বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ দল আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারে ৮১ বছরের পরিকল্পনা সংযুক্ত হচ্ছে। ২০০৮ সালে ‘দিনবদলের সনদ’ নামে নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের প্রতিশ্রুতি ছিল আওয়ামী লীগের। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ইশতেহারের স্লোগান ছিল ‘শান্তি গণতন্ত্র উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’। সেই ইশতেহারে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত সমৃৃদ্ধ দেশে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছিল দলটি। ১০ বছরে এই দুই ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুত ছিল সেগুলোই ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির পর এখন লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ গড়ে তোলা। এরই মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষিত হতে যাচ্ছে। এবার ইশতেহারে থাকবে ৮১ বছরের অর্থাৎ ২০১৯ সাল থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনা। এ ছাড়া ইশতেহারে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ এবং মাদক নির্মূলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত হবে। দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় থাকবে এবারের ইশতেহারে। দেশের প্রবৃদ্ধি যেন দুই অঙ্কে পৌঁছায় সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ঘোষণা থাকবে ইশতেহারে। দেশের প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার যেন রক্ষা হয় সে বিষয়টিও ইশতেহারে জোরালোভাবে থাকছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ইশতেহারে সরকার এবং রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য অর্জন যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, কৃষি ও শিক্ষায় উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে অগ্রগতি, কর্মসংস্থান, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, ১০০টি অর্থনৈতিক জোন, নারী উন্নয়ন ও নারী নীতি বাস্তবায়নের বিষয়গুলোর উল্লেখ থাকবে। দুর্নীতি রোধে গৃহীত পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হবে। এ ছাড়া ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বিষয়গুলো অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে এবারের ইশতেহারে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন আনা হবে। দলের ইশতেহার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনের জন্য তো ‘ডেলটা প্ল্যান’ দিয়ে দিলাম। ৮১ বছরের প্ল্যান দিয়ে দিয়েছি। পরবর্তী শতাব্দীতে, মানে ২১০০ সালে কি রকম বাংলাদেশ হবে সেই পরিকল্পনাও দিয়ে দিয়েছি।’  লেখক :  অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ  এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

অন্যান্য সংবাদ