প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছালা-মালা-গামছা-চামচা!

অসীম সাহা : তিনি বঙ্গবীর, তিনি বাঘা সিদ্দিকী, তিনি বীর উত্তম, তিনি মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি, তিনি ‘বঙ্গবন্ধুর সন্তান’, তিনি কাদের সিদ্দিকী। তার গায়ে ছিলো মুজিব কোট, ভেতরে বঙ্গবন্ধু! বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কেউ কোনো কথা বললে তার উদ্ধত সাপের ফণা ফোঁস করে উঠতো। কিন্তু এখন তার “গায়েতে মুজিব কোট, বুকেতে ধানের শীষ/মুখেতে মধুর বুলি, বুকেতে ভীষণ বিষ।” তাই তিনি অনায়াসে বলতে পারেন, “নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নাও আসতে পারে।” কারণ কী? কারণ, “আওয়ামী লীগের এখন ছালাও যাওয়ার পথে, মালাও যাওয়ার পথে।”

আমরা জানতাম যার যায়, তার “আমও যায়, ছালাও যায়।” কিন্তু কাদের সিদ্দিকী কখনো কখনো সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মতো নতুন ছন্দের জাদুকর হয়ে ওঠেন। তিনি ছালার সঙ্গে মালার মিল দিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের মাঠ থেকেই বিদায় করে দিতে চান। কখনো কখনো তিনি হয়ে ওঠেন গণক ঠাকুর বা জ্যোতিষীও।

কারণ তিনি হিশেব কষে বলেছেন, “আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নাও আসতে পারে।” বদ্ধ উন্মাদ ছাড়া এমন কথা কে বলতে পারে? আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী দল। তারা বিএনপির মতো নির্বাচনে না গিয়ে বাঁকা পথে ক্ষমতায় যাবে? নাকি সত্যি সত্যি পালিয়ে যাবে? তো, আওয়ামী লীগ পালাবে কেন? কারণ ড. কামালের নেতৃত্বে বিএনপি-সহযোগিতায় ২০ বা ২৪ দল একত্রিত হয়ে জাতীয় যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছে। তাই আওয়ামী লীগ বুঝতে না পারলেও কাদের সিদ্দিকী ঠিকই বুঝে গেছেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি অনিবার্য।

তারা নির্বাচনে আসবে না, ভয়ে শুধু জান নিয়ে পালাবে। ঠিক বিএনপির ভঙ্গুর নেতাদের কথার সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে সিদ্দিকী সাহেবের কথা। এতোদিন তার ভরসা ছিলো গামছা। এবার গামছা ছেড়ে ধানের শীষ। গামছা ছেড়ে ধানের শীষের চামচা হওয়ার মধ্যে যে বাহাদুরি, এতোদিন সেটা কোথায় ছিলো? গামছা প্রতীক নিয়ে একবারও নির্বাচনে জিততে পেরেছিলেন তিনি? পারেননি। কারণ সব দোষ আওয়ামী লীগের। একবারও তাকে জিততে দেয়া হয়নি!

তাই তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা মানে কাদের সিদ্দিকীর বোন শেখ হাসিনা হঠাৎ করেই তার বৈমাত্রেয় বোন হয়ে গেলো? কারণ আরো আছে। হাসিনা বাংলাদেশে গণন্ত্রের কবর রচনা করেছেন! তাই গণতন্ত্র-পুনরুদ্ধারে তিনি গণতন্ত্রহত্যাকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন! বঙ্গবন্ধুকে খুন করার পর তার প্রতিবাদ করায়, যারা তাকে এক দশকেরও বেশি সময় ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপনে বাধ্য করেছে, দেশে সামরিক স্বৈরতন্ত্র স্থাপনের সিপাহশালার হিশেবে কাজ করেছে, তাদের সব পাপ তিনি মাফ করে দিয়েছেন একটি কারণেই, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বিএনপি তাঁর বুকে ধানের শীষের মার্কা সেঁটে দিয়েছেন! এরচেয়ে বড় কৌতুক আর কী হতে পারে?

সকলেই বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। সত্যিই কি নেই? তা হলে ন্যায়, নীতি, আদর্শ, সততাএর সবই রাজনীতির অভিধান থেকে নির্বাসিত হয়েছে? যদি তাই হয়, তা হলে আমাদের ভবিষ্যৎ কী? জাতীয় নেতৃবৃন্দ যে আগামী প্রজন্মকে অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখান, এমনকি কাদের সিদ্দিকীদের মতো পরাজিত সৈনিকরাও যখন বিজয়ের স্বপ্ন দেখান, তখন আগামী প্রজন্ম কোন বিশ্বাসে তাঁদের ওপর ভরসা রাখবে?

আমি বিস্মিত, কাদের সিদ্দিকীর মতো নেতাও যখন আদর্শের বুলি কপচে অন্যদের ছালা ও মালা যাওয়ার কথা বলেন, তখন কি তিনি একবারও ভেবে দেখেন না, তাঁর নিজের কাঁধ থেকে নিজেরই গামছা কবেই নেমে গেছে? তার বদলে তাঁর বুকে উঠে এসেছে ধানের শীষ আর তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের জনগণের কাছে আদর্শহীন এক চামচা?

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ