প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা সমাজের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারার ফল : ড. জিয়া রহমান

আমিরুল ইসলাম : পরিবর্তিত সমাজের সাথে খাপ খাওয়াতে পারছেন না বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে বলে মনে করেন অপরাধবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের সমাজ ব্যবস্থার একটা ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। মানুষের মূল্যবোধ, জীবনপ্রবাহের মধ্যে আমরা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। নতুন সমাজের মধ্যে যে ছন্দপতন হয়েছে তার সাথে শিক্ষার্থীরা খাপ খাওয়াতে পারছেন না। পরিবর্তিত সমাজে বন্ধনগুলো আলগা হয়ে গেছে। হতাশ হয়ে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের যে অনুশাসন ছিলো তা এখন আর কাজ করছে না। নতুন যে বিষয়গুলো সমাজে আসছে তা পরিপূর্ণভাবে নিতে পারছেন না। পুরোনো অনুশাসন আর নতুন অনুশাসনের মধ্যে একটা সংঘর্ষ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ছেন। অর্থের অভাবে পড়ে তারা তাদের সম্পর্ক ধরে রাখতে পারছেন না। তাদের মধ্যে একটা চাপা কষ্ট জমিয়ে রাখছেন। এ কষ্ট পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন কারো সাথে প্রকাশ করতে না পেরে তারা এক সময় আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

ছেলেমেয়েদের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন একই সাথে অনেকগুলো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন তরুণ-তরুণীরা। সম্পর্কগুলো ভেঙে যাওয়ার পর তারা কারও সাথে তা প্রকাশ করতে পারছেন না। গণমাধ্যম, নতুন মূল্যবোধের কারণে অনেক পুরোনো অনুশাসনের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অনেক কিছু প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অসংগতি তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয় মেনে নিতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যা করছেন। সমাজবিজ্ঞানী এম এল ডুর্খেইম এসব আত্মহত্যাকে এনরমিক সুইসাইড বলে আখ্যা দিয়েছেন। ফলাফল খারাপ, প্রেমে ব্যর্থ হওয়া থেকে অনেকে আত্মহত্যা করছেন। তাদের মধ্যে একটা বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা থেকেই এ পথ বেছে নিচ্ছে তারা। সময়ের প্রয়োজনে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা আসবে। তখন আর এমনটি হবে না বলে মনে করেন তিনি।

তিনি এ সমস্যার প্রতিকার সম্পর্কে বলেন, কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। কেনো তারা ক্যাম্পাসে আসছে না কর্র্র্তৃপক্ষকে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। মনোবিদ নিয়োগ করতে হবে তাদের জন্য। তাদের বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলাম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এর সাথে জড়িত করতে পারলে তাদের মধ্য থেকে হতাশাবোধ দূর হবে। পরিবার, বন্ধু এবং আত্মীয়স্বজনরা নিয়মিত তাদের সাথে যোগাযোগ করলে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে মনে করেন এই অপরাধবিজ্ঞানী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ