প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছয় বছর কি যথেষ্ট নয়?

ব্যারিস্টার আল আমিন রহমান : রাজধানীর অদূরে তাজরীন ফ্যাশনস এর ফ্যাক্টরির আগুনে ১১৩ জন শ্রমিকের মৃত্যূ এবং ১৭২ জন শ্রমিকের আহত হবার পরে ছয় বছর পার হয়েছে। যে কারণে কারখানাটির মালিক ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। পুলিশ দুই মামলায় তাজরীনের মালিকসহ তের জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছিলো ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এই মামলাগুলো এখনো ঢাকার অতিরিক্ত সেশন জজ আদালত – ১ এ বিচারাধীন আছে। আইন অনুযায়ী সেই অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা যথাযথ ক্ষতিপূরণ এখনো পায়নি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে আছে, কৃষক, শ্রমিকসহ নির্যাতিত ও পিছিয়ে পড়া সব মানুষকে সব রকম শোষণ থেকে মুক্ত রাখা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা কারখানা মালিকের যেমন দায়িত্ব, তেমনি রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব আছে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রক্ষা করা।

কর্মক্ষেত্রে আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেবার নিয়ম আছে, বীমা কোম্পানীর সঙ্গে হওয়া কারখানা মালিকের চুক্তি মোতাবেক। শ্রমিকেরা একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা ব্যয় পেয়ে থাকেন এই চুক্তির ভিত্তিতেই। আইন অনুযায়ী, এখানে দূর্ঘটনার জন্য শ্রমিকের কোন দোষ ছিলো কিনা সেটা কোন বিবেচন্য বিষয়ই নয়।

শ্রম আইনকে শ্রমিক–বান্ধব করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধনী) আইন ২০১৮ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশের কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের আচরণ আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন – আইএলও এর মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

২০০৬ সালের শ্রম আইনের ১৫০ ধারা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কোন শ্রমিক যদি দূর্ঘটনায় কবলিত হয়ে শারিরীকভাবে আহত হন তাহলে তাকে ক্ষতিপূরণ দেবার প্রাথমিক দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের মালিকের। আইন অনুযায়ী, দূর্ঘটনার কারণে কোন শ্রমিক পঙ্গুত্ববরণ করলে সে কারণে সারাজীবন ঐ শ্রমিকের উপার্জন যতটুকু কমবে ততটুকুই সে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবে। কেমন ক্ষয়ক্ষতির জন্য কতটুকু ক্ষতিপূরণ শ্রমিকেরা পাবেন তা নিয়ে আইনে কোন অস্পষ্টতা নেই। তারপরও এক্ষেত্রে আইনের বাস্তবায়ন লজ্জাস্কর। যার বড় উদাহরণ, তাজরিন ফ্যাশন অগ্নিকাণ্ড ছয় বছর পরেও আহতরা এবং নিহতদের স্বজনেরা প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত আছেন। দোষীদের বিচার কাজও এখনো শেষ হয়নি।

আমরা আশা করি, তাজরিন অগ্নিকাণ্ডের সব ভূক্তভোগীরা দ্রুত তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পাবেন। আরো আশা করি, কোন বিলম্ব ছাড়াই দোষীদের শাস্তি হবে।

(লেখক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এবং এফএম এসোসিয়েটস বাংলাদেশ এর পার্টনার ) সম্পাদনা : ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত