প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইউক্রেনের তিন জাহাজ জব্দ করেছে রাশিয়া, উত্তেজনা

কালের কন্ঠ : ক্রিমিয়া উপকূলে ইউক্রেনের নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ জব্দ করেছে রাশিয়া। গত রবিবার জাহাজগুলো জব্দ করার আগে রুশ নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া গুলিতে বেশ কয়েকজন ইউক্রেনীয় নাবিক আহত হন। ইউক্রেন এ ঘটনার পর তার সেনাদের মুক্তি এবং মস্কোর বিরুদ্ধে আরো অবরোধ আরোপের দাবি জানিয়েছে। তবে মস্কো জানিয়েছে, ইউক্রেনের জাহাজগুলো আজোভ সাগরে তাদের জলসীমায় অবৈধভাবে ঢুকে পড়ায় সেগুলোকে জব্দ করা হয়েছে।

জাহাজগুলোর মধ্যে দুটি গানবোট ও একটি টাগবোট রয়েছে। এ ঘটনার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নির্ধারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গতকাল সোমবার দিন শেষে জরুরি বৈঠকে বসবে বলে জানিয়েছে। জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে ন্যাটো জোটও।

ইউক্রেন সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেংকোকে ৬০ দিনের জন্য সান্ধ্য আইন জারির অনুরোধ জানিয়ে গতকাল পার্লামেন্টে একটি ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসনের আরেকটি নমুনা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে ‘নাবিকসহ জাহাজগুলোর মুক্তি এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে বর্তমান নিষেধাজ্ঞাগুলোকে আরো জোরদার ও নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার’ দাবি জানিয়েছে কিয়েভ।

তবে মস্কো এ ঘটনার জন্য কিয়েভকে দায়ী করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অভিযোগ করেন, কিয়েভ পরিকল্পিতভাবে উসকানি দিচ্ছে। তারা তাদের জাহাজগুলো ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমার দিকে ঠেলে দিয়েছে।’ এই ঘটনায় ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেও জবাব চেয়েছে মস্কো।

ইউক্রেনের দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং একটি টাগবোট কেরচ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করলে সংকটের সূত্রপাত হয়। কৃষ্ণসাগর থেকে আজোভ সাগরে ঢোকার পথ হচ্ছে এটি। এই প্রণালি রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষই ব্যবহার করে। ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়ার সীমান্তরক্ষী জলযান ইউক্রেনের টাগবোট তাড়া করে এবং জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তিনটি জাহাজকেই জব্দ করে। কেরচ প্রণালি একটি ট্যাংকার দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে রাশিয়া। ওই এলাকায় উড়ে বেড়াচ্ছে রাশিয়ার সামরিক হেলিকপ্টার।

রাশিয়ার সীমান্ত বাহিনীর দেখভালকারী এফএসসি নিরাপত্তা সংস্থা ওই এলাকায় অস্ত্র ব্যবহার এবং জাহাজ জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের অভিযোগ, ইউক্রেনের জাহাজ ‘রাশিয়ার সীমান্ত অতিক্রম করেছে’।

ইউক্রেন জানিয়েছে, তাদের নাবিকদের মধ্যে ছয়জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে এফএসবির দাবি, তিনজন আহত হয়েছে। কারো জীবনই সংকটাপন্ন নয়। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ওই প্রণালিটি নৌযান চলাচলের জন্য গতকাল সকালে খুলে দেওয়া হয়।

এই প্রণালিটি নিয়ে অবশ্য বেশ কিছুদিন থেকেই উত্তেজনা চলছে। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করার পর সরাসরি যোগাযোগের জন্য রাশিয়া এর ওপর দিয়ে একটি সেতু নির্মাণ করে। ইউক্রেন অভিযোগ করে আসছে রাশিয়া দীর্ঘদিন থেকেই তাদের এই প্রণালিটি ব্যবহার করতে দেয় না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষই ওই এলাকায় প্রচুর সেনা ও সীমান্ত রক্ষীদের জাহাজ মোতায়েন করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটো গত রবিবার দুই পক্ষের প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে আজোভ সাগরে আন্তর্জাতিক আইনানুসারে বাধাহীন প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ন্যাটো।

গত রবিবারের এ ঘটনায় তুরস্ক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জার্মানি বলছে, রাশিয়ার এ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস গতকাল এক টুইটে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা সংকট সৃষ্টি করতে পারে।’ তিনি দুই পক্ষের প্রতি উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানান।

ক্রিমিয়াকে নিজেদের সীমান্তভুক্ত করে নেওয়া ও ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে মস্কোপন্থী বিদ্রোহীদের সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্ক আগে থেকেই নাজুক হয়ে আছে, এর মধ্যে এ ঘটনা দেশ দুটিকে বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ