প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির কৌশলী মনোনয়ন

ডেস্ক রিপোর্ট : কৌশলী মনোনয়ন ঘোষণা করেছে বিএনপি। শরিকদের জন্য পর্যাপ্ত আসন রেখে গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিছু আসনের এবং আলাদা ভাবে কিছু আসনের প্রার্থীদের কাছে মনোনয়নপত্র হস্তান্তর করা হয়। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অনেকে নিজের এলাকায় টেলিফোন করে নেতা-কর্মীদের কাছে মনোনয়নপত্র গ্রহণের কথা জানান। আজ আরও কিছু আসনে প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়নপত্র তুলে দেওয়া হবে। সবমিলিয়ে পুরো মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বিশেষ কৌশলী অবস্থান বজায় রেখেছে বিএনপি। রবিবার রাত থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন ফরম নিতে শুরু করেন বিএনপি নেতারা। একদিকে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তিনটি আসনে মনোনয়নের কথা জানানো হলেও গোপনে সেখানেও আলাদা প্রার্থী রাখছে দলটি। বেগম খালেদা জিয়া কোনোভাবে নির্বাচনে অংশ না নিতে পারলে এসব প্রার্থী সামনে চলে আসবেন। এর বাইরে বেশ কিছু আসনে দুই বা ততধিক প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে মনোনয়ন। এর আগে গতকাল বিকালে মনোনয়ন ঘোষণা প্রক্রিয়ার একেবারে শুরুতে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারান্তরীণ থাকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপি মহাসচিব। সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীরাও এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আজকে যখন আমি আপনাদের সামনে এসেছি, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে, এই প্রথম আমরা একটা নির্বাচন অংশ নিতে চলেছি আমাদের চেয়ারপারসনকে ছাড়া।’ কান্না চাপতে না পেরে একপর্যায়ে তিনি টিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন এবং পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মোছেন।

পরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) কারাগারে। সরকারের প্রচণ্ড প্রতিহিংসামূলক মামলা ও কলা-কৌশলে তাকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। আমরা দেশনেত্রীর মনোনয়নপত্র তাঁর প্রতিনিধিদের কাছে তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের সূচনা করছি।’ এমন পরিস্থিতিতেই বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ঘোষণার মাধ্যমে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপির যেসব প্রার্থী গতকাল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন নিচে তাদের নাম দেওয়া হলো। তবে গতকাল রাত ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম চলছিল। আজ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করা হবে। রংপুর বিভাগ : পঞ্চগড়-১ ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ ফরহাদ হোসেন আজাদ/ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, ঠাকুরগাঁও-১ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-৩ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, জয়পুরহাট-১ ফয়সাল আলীম/ ফজলুর রহমান, জয়পুরহাট-২ আবু ইউসুফ খলিলুর রহমান/ গোলাম মোস্তফা, দিনাজপুর-১ মঞ্জুরুল ইসলাম/মামুনুর রশিদ, দিনাজপুর-২ সাদিক রিয়াজ পিনাক/বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৩ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ হাফিজুর রহমান সরকার/আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ রেজোয়ানুল হক ও জাকারিয়া বাচ্চু, দিনাজপুর-৬ লুত্ফর রহমান মিন্ট/ শাহিন মণ্ডল, রংপুর-১ মোকারম হোসেন সুজন, রংপুর-২ ওয়াহেদুজ্জামান মামুন/ মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৩ রিটা রহমান/মোজাফফর হোসেন, রংপুর-৪ এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৫ সোলাইমান আলম ফকির/ ডা. মমতাজ, রংপুর-৬ সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী-১ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারী-২ মনিরুজ্জামান মন্টু/শামসুজ্জামান জামান, নীলফামারী-৩ সৈয়দ আলী, নীলফামারী-৪ আমজাদ হোসেন সরকার/বেবী নাজনীন, গাইবান্ধা-১ খন্দকার জিয়াউল ইসলাম/মোজাহারুল ইসলাম, গাইবান্ধা-২ মাহমুদুন্নবী টিটুল/আহাদ আহমেদ, গাইবান্ধা-৩ ডা. মইনুল হাসান সাদিক, গাইবান্ধা-৪ ওবায়দুল হক/ফারুক আলম, গাইবান্ধা-৫ হাছান আলী/ ফারুক কবীর, কুড়িগ্রাম-১ সাইফুর রহমান রানা/শামীমা রহমান আপন, কুড়িগ্রাম-২ সোহেল হাসনাইন কায়কোবাদ ও আবু বকর সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম-৩ তাসভীর-উল-ইসলাম/আবদুল খালেক, কুড়িগ্রাম-৪ মোখলেছুর রহমান/আজিজুর রহমান, লালমনিরহাট-১ ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান এবং লালমনিরহাট-৩ আসাদুল হাবিব দুলু। রাজশাহী বিভাগ : বগুড়া-৬ বেগম খালেদা জিয়া, বগড়া-৭ বেগম খালেদা জিয়া, বগুড়া-১ মো. শোকরানা, বগুড়া-৪ ডা. জিয়াউল হক মোল্লা, বগুড়া-৫ জি এম সিরাজ, রাজশাহী-১ ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-২ মিজানুর রহমান মিনু/সাঈদ হাসান, রাজশাহী-৩ মতিউর রহমান মন্টু/শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আবু হেনা/মো. আবদুল গফুর, রাজশাহী-৫ নাদিম মোস্তফা, নজরুল মণ্ডল, রাজশাহী-৬ আবু সাঈদ চান/নুরুজ্জামান খান মানিক, সিরাজগঞ্জ-১ নাজমুল হাসান তালুকদার রানা/কনকচাঁপা, সিরাজগঞ্জ-২ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু/রুমানা মাহমুদ, সিরাজগঞ্জ-৩ আবদুল মান্নান তালুকদার, সিরাজগঞ্জ-৫ আমিরুল ইসলাম খান আলীম/রফিকুল করিম খান পাপ্পু/মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মামুন, সিরাজগঞ্জ-৬, ড. এম এ মুহিত/কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিশ, নাটোর-১ তাইফুল ইসলাম টিপু/ অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরীন, নাটোর-২ রহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু/সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, নাটোর-৩ দাউদ আর রহমান/আনোয়ার হোসেন আনু, নাটোর-৪ আবদুল আজিজ, পাবনা-২ এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ : কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৪ : হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা-৫ শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নওগাঁ-১ ডা. সাদেক চৌধুরী/ মোস্তাফিজুর রহমান/ মাসুদ রানা, নওগাঁ-২ শামসুজ্জোহা খান/খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী, নওগাঁ-৩ রবিউল আলম বুলেট/পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নওগাঁ-৪ : শামসুল আলম প্রামাণিক ও ডা. ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ জাহিদুল ইসলাম ধলু ও নাজমুল হক সনি, নওগাঁ-৬ আলমগীর কবীর/রেজাউল ইসলাম রেজু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া/বেলাল বাকী ঈদ্রিসী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আমিনুল ইসলাম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ হারুনুর রশিদ/আবদুল ওয়াদুদ। বরিশাল বিভাগ : বরিশাল-১ জহিরউদ্দিন স্বপন/আবদুস সোবাহান, বরিশাল-২ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল/সরদার শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু/শহীদুল হক জামাল, বরিশাল-৩ অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন/বেগম সেলিমা রহমান ও বরিশাল-৪ রাজীব আহসান/ মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, বরিশাল-৫ মজিবর রহমান সরোয়ার/ এবাদুল হক চান, বরিশাল-৬ আবুল হোসেন খান/রশীদ খান, ঝালকাঠি-১ ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর বীরউত্তম, ঝালকাঠি-২ রফিকুল ইসলাম জামাল/ইসরাত জাহান ইলেন ভুট্টো/জেবা খান, পিরোজপুর-৩ রুহুল আমিন দুলাল/শাহজাহান মিলন, বরগুনা-১ মতিউর রহমান তালুকদার/নজরুল ইসলাম মোল্লা, বরগুনা-২ অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম মনি, পটুয়াখালী-১ এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী/সুরাইয়া আক্তার চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ শহিদুল আলম তালুকদার/সালমা আলম, পটুয়াখালী-৩ গোলাম মাওলা রনি/হাসান মামুন/মোহাম্মদ শাহজাহান খান, পটুয়াখালী-৪ এ বি এম মোশাররফ হোসেন/মনিরুজ্জামান মনির, ভোলা-২ হাফিজ ইব্রাহিম/ রফিকুল ইসলাম মনি, ভোলা-৩ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ/কামাল হোসেন এবং ভোলা-৪ নাজিমউদ্দিন আলম/নূরুল ইসলাম নয়ন। চট্টগ্রাম : ফেনী-১ বেগম খালেদা জিয়া, ফেনী-২ জয়নাল আবেদীন ভিপি, ফেনী-৩ আবদুল আউয়াল মিন্টু, নোয়াখালী-১ ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৪ বরকতউল্লা বুলু, নোয়াখালী-৫ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজিম, লক্ষ্মীপুর-২ আবুল খায়ের ভুইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, লক্ষ্মীপুর-৪ আশরাফ উদ্দিন নিজান। ঢাকা বিভাগ : ঢাকা-২ আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ সালাউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-৫ নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা-৬ আবুল বাশার, ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ হাবিব উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা-১৩ আবদুস সালাম, নরসিংদী-১ খায়রুল কবির এবং নরসিংদী-৩ সানাউল্লাহ মিয়া। সিলেট বিভাগ : সিলেট-২ তাহসিনা রুশদীর লুনা। খুলনা বিভাগ : ঝিনাইদহ-১ অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ/আবদুল ওয়াহাব, ঝিনাইদহ-২ অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ/ এস এম মশিউর রহমান, ঝিনাইদহ-৩ মেহেদী হাসান রনি/মনির খান, ঝিনাইদহ-৪ সাইফুল ইসলাম ফিরোজ/শহিদুজ্জামান বেল্টু, মেহেরপুর-১ মাসুদ অরুণ এবং মেহেরপুর-২ আমজাদ হোসেন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ