প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সমালোচনাই বেশি

জাগো নিউজ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ২৩০টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। রোববার (২৫ নভেম্বর) এ মনোনয়নের চিঠি প্রার্থীদের দেয়া হয়। ওইদিন থেকে মনোনয়নপ্রাপ্তদের সমর্থক-কর্মীরা উৎসবে মেতেছেন। আর ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা।

কেউ সমালোচনায় মুখর আবার কেউ প্রশংসায়। তবে সমালোচনার পাল্লাই যেন ভারি। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কোনো কোনো নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কেউ প্রকাশ্যে কাঁদছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধের ঘটনাও ঘটছে। আবার একজন সাবেক সংসদ সদস্য দলই বদলে ফেলেন। যোগ দেন বিএনপিতে।

গত দুদিন বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। সমালোচকরা বলছেন, গত ১০ বছরে যেসব এমপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে, যাদের কারণে এলাকার এবং দলের মানুষ অত্যাচার-নির্যাতিত হয়েছেন, দলের মধ্যে ফাটল ধরেছে, গ্রুপিং সৃষ্টি করে দলের সর্বনাশ করেছে, কাবিখা (কাজের বিনিয়মের খাদ্য), মসজিদ, মন্দিরের বাজেটের টাকায় ভাগ বসিয়েছেন, নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে দিনের পর দিন অত্যাচার করেছেন, তারাই আবার মনোনয়ন পেলেন!

মনোনয়ন দেয়ার পর বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতেও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। চট্টগ্রাম-৯ আসনে এবিএম মহিউদ্দিনের ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বাগেরহাট-২ আসনে শেখ হেলাল উদ্দীনের ছেলে শেখ সারহান নাসের তন্ময়কে নিয়ে টকশোতে আলোচনা হয়। ওই দুটি মনোনয়নের বিষয়ে ভালো মন্তব্য আসে। অপরদিকে কক্সবাজারের আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহিনা আক্তার এবং টাঙ্গাইলের এমপি রানার বাবাকে মনোনয়ন দেয়ায় সমালোচনা বয়ে যায় টকশোতে।

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আতাউল হক দোলন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এলাকার জনগণের উদ্দেশ্যে দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, যে প্রবল ভালোবাসার বন্ধনে আপনারা আমাকে আবদ্ধ করেছেন, ইচ্ছা করলেও আপনাদের কাছ থেকে দূরে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সারাজীবন এভাবেই আপনাদের পাশে থেকে কাজ করে যাব। আপনারা ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। অদূর ভবিষ্যতে সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই আপনাদের মনের আশা পূরণ করবেন, ইনশাআল্লাহ্।

কুমিল্লা-৪ আসনের সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফাও মনোনয়ন বঞ্চিত হন। সেখানে মনোনয়ন পান বর্তমান সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। সোমবার কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন। তার (রাজী মোহাম্মদ ফখরুল) বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আবার তাকেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তৃণমূল ভালোভাবে নেবে না।

ঢাকা-১৩ আসনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোট চাইতে গিয়ে সোমবার অঝোরে কেঁদেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে এক বিশেষ বর্ধিত সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন নানক। তবে এবার তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

এদিকে, মনোনয়ন না পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপিতে যোগ দেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। তাকে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

আওয়ামী লীগ ছাড়ার আগে গোলাম মাওলা রনি তার ফেসবুকে লেখেন, আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইনি। আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করে নির্বাচনের মাঠে নামব। দেখা হবে সবার সঙ্গে এবং দেখা হবে বিজয়ে।

অপরদিকে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতদের সমর্থকরা রোববার থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ করেন। সোমবারও নেত্রকোনোয় বিক্ষোভ হয়েছে। নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মানু মজুমদারের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন মনোনয়ন বঞ্চিতের সমর্থকরা। সোমবার দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার গুতুরা বাজার এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় শুয়ে পড়েন।

মনোনয়ন বঞ্চিতদের এমন ক্ষোভ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা জানেন, একটি আসনের বিপরীতে গড়ে ১৩ জন করে মনোনয়ন তুলেছেন। এক আসনে মনোনয়ন পাবেন একজন। সবাইকে তো খুশি করা যাবে না। তবে মনোনয়ন না পেয়ে সংগঠন বহির্ভূত কোনো কাজ করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। অপরাধের মাত্রা বেশি হলে প্রয়োজনে তাকে বহিষ্কার করা হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘মনোনয়ন যিনি পেয়েছেন তিনি ও তার সমর্থকরা উল্লাস করবেন- এটাই স্বাভাবিক। আর যিনি পাননি স্বভাবতই তার মন খারাপ থাকবে। কারণ, প্রার্থী হওয়ার বাসনা সবার থাকতে পারে। তাই বলে তো আর সবাইকে মনোনয়ন দেয়া সম্ভব নয়।’

‘নেত্রী যাদের যোগ্য মনে করেছেন তাদের মনোনয়ন দিয়েছেন। বিএনপি নির্বাচনে আসায় আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। এ কারণে অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয়দের গুরুত্ব দিতে হয়েছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত