প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এবার নীরব কোন্দলে কাঁদবে আওয়ামী-লীগ

যায়যায়দিন :  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে মো. মঈন উদ্দিন মঈনকে একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে সোমবার ঢাকা-সিলেট সড়ক অবরোধ করে তার সমথর্করা। এতে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট -ফোকাস বাংলা

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বতর্মান সাংসদ আয়েশা ফেরদাউস। মনোনয়ন পাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় তার কমীর্-সমথর্কদের আনন্দ-উল্লাস। এর পাশাপাশি মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সমথর্করা এলাকার বিভিন্ন বাজার থেকে বাড়ি ফিরে যেতে থাকেন। তবে এর মধ্যে বতর্মান এমপির সমথর্করা মনোনয়নবঞ্চিত নেতার সমথর্কদের ওপর হামলা চালান। দোকানপাট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন। এতে ওই এলাকার মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের সক্রিয় কমীের্দর বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। শুধু নোয়াখালীর এই আসন নয়, প্রায় সারাদেশে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সক্রিয় কমীর্-সমথর্করা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করেছেন তারা। সারাদেশে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকাকে বরাবরই ইতিবাচক বলে মন্তব্য করে আসছে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড। তবে তাদের এমন ইতিবাচক চিন্তাধারা হিতে বিপরীত রূপ ধারণ করেছে। এ অবস্থায় আগামী নিবার্চনে ঘর সামলিয়ে বিরোধীদের মোকাবেলা করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দঁাড়িয়েছে ক্ষমতাসীনদের জন্য। খেঁাজ নিয়ে জানা গেছে, একাদশ নিবার্চনকে সামনে রেখে গত রোববার থেকে সারাদেশে ২৩০ আসনে দলীয় প্রাথীের্দর মনোনয়ন ফরম দেয়া শুরু করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বাকি আসনগুলো শরিকদের জন্য রাখা হয়েছে। তবে এই ২৩০ আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ৪০২৩ জন নেতা।

 

এর মধ্যে চিত্র নায়ক, গায়ক, ক্রীড়াবিদ, ব্যবসায়ীও আছেন। মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জামাদান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের একপযাের্য় শেখ হাসিনা জানতে চান, প্রতি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে প্রাথীর্ করলে সবাই তার পক্ষে কাজ করবেন কিনা। তখন সবাই হাত তুলে সম্মতি জানান। তাছাড়া বিভিন্ন সময় নেতারাও বলেছেন দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই সবাই একাট্টা হয়ে কাজ করবেন। কিন্তু রোববার মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের সমথর্করা বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধও করছেন। প্রতিপক্ষ গ্রæপের কমীর্-সমথর্কদের ওপর হামলা, বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাটের মতো ঘটনাও ঘটেছে। তাছাড়া মনোনয়নপ্রাপ্তদের কমীর্-সমথর্কদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন অন্য গ্রæপের কমীর্রা। এদিকে, মহাজোটের শরিকদের ছাড় দেয়া আসনগুলোতেও মনোনয়ন দিতে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকমীর্রা। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, সিলেট ও কক্সবাজার এলাকার নেতাকমীর্রা বেশি প্রতিক্রিয়া দেখান। এসব এলাকার বিভিন্ন আসনে মহাজোটের শরিক দল থেকে প্রাথীর্ দেয়া হবে এমন খবরে বিক্ষোভ করেন নেতাকমীর্রা। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির সভাপতিমÐলীর সদস্য কনের্ল (অব.) ফারুখ খান যায়যায়দিনকে বলেন, প্রতিটি মনোনয়নে কিছু বিক্ষুব্ধ লোক থাকেন। বিক্ষুব্ধদের দুই-একজন মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কমর্সূচি পালন করেন। এটা নতুন কিছু নয়। দুই-এক দিনের মধ্যেই এগুলো ঠিক হয়ে যাবে। প্রতিটি জেলা পযাের্য়র স্থানীয় নেতারা তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এতে ক্ষোভ দমন হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এতে কাজ না হলে প্রতিটি বিভাগের জন্য দলের যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে কমিটি আছে। বিষয়টি তারা দেখবেন। এতেও কাজ না হলে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় নেতারা বিশেষভাবে কথা বলবেন বলে জানান তিনি। গত রোববার ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সাবেক সাংসদ আবদুস সাত্তার, ফরিদপুর-২ আসনের বতর্মান সাংসদ সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সিলেট-২ আসনের সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের বতর্মান সাংসদ রেজাউল হক চৌধুরী ও সাবেক সাংসদ আফাজ উদ্দীনকে মনোনয়ন না দেয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তাদের সমথর্করা।

 

কক্সবাজার-৩ আসনে জাতীয় পাটির্র জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুকে মহাজোটের মনোনয়ন দেয়ার খবরে আওয়ামী লীগের নেতাকমীর্রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কক্সবাজার ও রামু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কলাগাছ নিয়ে বিক্ষোভ করেন নেতাকমীর্রা। তাছাড়া নাটোর-১ আসনে বতর্মান সাংসদ মো. আবুল কালাম মনোনয়ন পাননি। এ সংবাদ পেয়ে রোববার সন্ধ্যায় তার পঁাচ সমথর্ককে মারধর করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। অপরদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় মনোনয়নপ্রাপ্তদের সমথর্করা উল্লাস প্রকাশ করেছেন। মিষ্টি বিতরণসহ নানাভাবে মনোনয়নপ্রাপ্তি উদযাপন করছেন। পাশাপাশি অনেকটাই নিশ্চুপ হয়ে পড়েছেন মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের কমীর্-সমথর্রা। নিজ এলাকায় একমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। কেরানীগঞ্জে সড়ক অবরোধ আমাদের কেরানীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-২ আসনে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকমীর্রা। সোমবার বেলা ১১টা থেকে অসংখ্য নেতাকমীর্ উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। ঢাকা-২ আসনে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে মনোনয়ন না দিয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের আহ্বায়ক শাহীন আহমেদকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভের একপযাের্য় তারা ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়ক বন্ধ করে দেয়। নেতাকমীর্রা রাস্তার ওপর শুয়েবসে নানা ¯েøাগান দিতে থাকেন। এ সময় সাধারণ যাত্রীরা চরম দুভোের্গ পড়েন । এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সোহরাব হোসেন খোকন জানান, এ আসনে আ’লীগের যোগ্য প্রাথীর্ শাহীন আহমেদ। তৃণমূলের নেতাকমীর্রা তার সঙ্গে রয়েছেন। তারা খাদ্যমন্ত্রীর মনোনয়ন মানেন না, মানবেন না। খাদ্যমন্ত্রী একজন জনবিচ্ছিন্ন নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন তারানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক। ঢাকা জেলা (দক্ষিণ) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইহসান আরাফ অনিক জানান, শাহীন আহমেদের নেতৃত্বে দীঘির্দন ধরে স্থানীয় আ’লীগ সংগঠিত রয়েছে। তাকে এ আসনে আ’লীগের প্রাথীর্ হিসেবে দেখতে চান। শেষ খবর পাওয়া পযর্ন্ত সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে দাবি না মানলে আজ আবার কমর্সূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে আওয়ামীলীগ থেতে আলহাজ মো. মঈন উদ্দিন মঈনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে তার কমীর্-সমথর্করা।

 

সোমবার বিকালে দলীয় কমীর্ সমথর্করা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খÐ খÐ মিছিল নিয়ে সোনারামপুর এলাকায় জড়ো হয়। পরে ‘আর নয় নাঙ্গল, নৌকাই মঙ্গল’-এই ¯েøাগানে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহরের রেলগেট এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে। সোমবার বিকাল তিনটা থেকে চারটা পযর্ন্ত আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে রেলগেট পযর্ন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় মহাসড়কের দুপাশে দীঘর্ প্রায় ৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিকাল চারটার পরে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুব্ধ নেতাকমীর্রা। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে আশুগঞ্জ গোল চত্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশে আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আবু রেজভী আহমেদ, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য শাহ আলম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম, কবির হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগ এর সভাপতি মো মারুফ আহমেদ রনি, সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হোসেন মামুনসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকমীর্রা উপস্থিত ছিলেন। উৎসঃ যায়যায়দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ