প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফ্ল্যাগ আমার মন্ত্রীত্বের একটা পরিচয়, কিন্তু গাড়িটা আমার ব্যক্তিগত : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

সৌরভ নূর : আচরণবিধি অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত একদিকে যেমন প্রচারণা নিষিদ্ধ, অন্যদিকে এসময় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা সিটি করপোরেশনের মেয়রদের নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি সুবিধা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা কী বলছে? আর নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সব দলের জন্য সমান সুযোগই বা কতটা তৈরি হচ্ছে ?

নরসিংদী পৌরভবন। ভবনের একটি অডিটোরিয়ামে চলছে নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা। সভায় নৌকা মার্কার শ্লোগান দিয়ে একের পর এক নেতা-কর্মীরা আসছেন। বিকেল নাগাদ সভায় অংশ নিতে আসেন স্থানীয় সাংসদ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু। দেখা যায়, ব্যক্তিগত গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে অনুষ্ঠানস্থলে এসেছেন তিনি। একটু অপেক্ষার পরই দেখা গেলো সদর থানার ওসি সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে আসছেন।

সভা শেষে এ বিষয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী সভাকে কেন্দ্র করে কোনো আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করছেন না। তিনি বলেন, ‘ফ্ল্যাগ আমার মন্ত্রীত্বের একটা পরিচয়। কিন্তু গাড়িটা আমার ব্যক্তিগত। এখানে আমি অন্য কোন বিশেষ সুবিধা নিচ্ছি না। এখানে আচরণবিধিও লংঘন হচ্ছে না।’

সভাস্থলে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতির বিষয়ে অবশ্য কোন কিছু জানেন না বলেই দাবি করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি উনাকে এখানে ডেকে আনি নাই। উনি কেন এসেছেন সেটা জানি না। কিন্তু একজন মন্ত্রীকে নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের থাকে। তিনি হয়তো সে কাজেই এসেছেন। এতে কোন ভুল নেই। আপনি কী দেখেছেন আমি পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেছি?’

যদিও, পুলিশের ওসি সেই সভায় বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেছেন। এমনকি সভা থেকে বের হওয়ার পরও সভা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাকে।

নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সৈয়দুজ্জামান অবশ্য দাবি করেছেন, অনুষ্ঠানস্থলে মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার বিষয়ে তিনি কিছেই জানতেন না। তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রী সাহেবের জন্য আসিনি। আমি এসেছিলাম মেয়র সাহেবের কাছে একটা কাজে। মন্ত্রী মহোদয় যে এখানে আসবেন, আমি সেটা জানতাম না।’

স্থানীয় আওয়ামী লীগের এই সভায় অংশ নিতে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা এবং নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী ম্লোগানে আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে কি-না, সে বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তথ্য সূত্র : বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত