প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লক্ষ্মীপুরে ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে সেই ধানের দাম কম। ধান বিক্রিতে উৎপাদন খরচও উঠছে না কৃষকের। তাই বর্তমান বাজার মূল্যে ধান বিক্রি করে কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। আর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামেই ধান বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ বেশি দাম পাওয়ার আশায় সংরক্ষণ করছেন। এমন পরিস্থিতে ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। তাই ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই এখানকার কৃষকের মুখে।

লক্ষ্মীপুরের কয়েকটি হাট-বাজার গুরে দেখা গেছে, ধানের দাম মণ প্রতি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে ধানের দাম একই অবস্থা থেকে উন্নতি না হওয়ায় কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে কৃষক ছলিম মিয়া বলেন, বাজারে ৫৫০ টাকা দরে ধানের মণ বিক্রি করেছেন তিনি। অথচ এক মণ ধান উৎপাদনের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮০০ টাকা। এই অবস্থায় প্রতি মণে তাকে অন্তত ২৫০-৩০০ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার কৃষক হালিম মিয়া বলেন, তিনি ১৬০ শতাংশ জমি বর্গা চাষ করেন। তাতে উৎপাদন খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ধান উৎপাদন হয়েছে ৬০ মণ। জমির মালিককে দিতে হয়েছে ৩০ মণ। বাকি ৩০ মণ ধান বিক্রি করে তার উৎপাদন খরচের টাকা উঠেনি।

স্থানীয় কৃষক হানিফ, সোলেমান, আরব আলীসহ অনেকে জানান, এক দিকে ধানের দাম কম, অন্য দিকে ব্যাপারীদের ধান কিনতে আগ্রহ নেই, অর্ধেক টাকা বাকিতে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, মৌসুমের শুরুর দিকে দাম কিছুটা বেশি ছিলো। কৃষকরা বেশি দাম পাওয়ার আশায় ধান ধরে রাখাতে দাম পড়ে গেছে। দাম পেতে আমনের সঙ্গে আউশ বিক্রি করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কৃষকরা রবি ফসল ঘরে তুলেই ধানের আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ না করায় বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলনে তারা খুশি হয়েছেন। কিন্তু ভালো দাম না পাওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফোটেনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় ৭২ হাজার ৫৯৭ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ২৯৩ হেক্টর বেশি জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় উফশী জাতের ১৯ হাজার ২৩০ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ২ হাজার ১০০ হেক্টর, হাইব্রিড ৫০ হেক্টর। রায়পুরে হাইব্রিড ১ হাজার হেক্টর, উফশী ৯ হাজার, স্থানীয় ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। রামগঞ্জে ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে উফশী ধানের আবাদ করে কৃষকরা। কমলনগরে উফশী ২২ হাজার হেক্টর, স্থানীয় জাতের ১ হাজার ৫০০ হেক্টর ও রামগতিতে ১৮ হাজর ২৬০ হেক্টরে উফশী এবং ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বেলাল হোসেন খান বলেন, জেলায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কৃষকরা পরিচর্যা করায় ধানের ভালো ফলন হয়েছে। আশা করি সরকারি ভাবে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হলে ধানের ভালো দাম পাবে কৃষক।