প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় স্থবির মাউশির ১০ প্রকল্প

তরিকুল ইসলাম সুমন: দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় স্থবির হয়ে পড়ছে বাস্তবায়নাধীন ১০ প্রকল্পে। ফলে প্রকল্পের কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হারও সর্বনিম্ন। ক্রয় প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের দুর্নীতির কারণে গত অর্থ বছরে একটি বড় প্রকল্পের প্রায় ১৬৩ কোটি টাকা ব্যায় করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে।

সূত্র জানায়, কেনাকাটায় অনিয়ম ও অর্থ ব্যয়ের হিসাব না থাকায় দাতা সংস্থার অর্থায়নে একটি প্রকল্পের পিসিআর (প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন) সম্প্রতি ফেরত পাঠিয়েছিল পরিকল্পনা কমিশন। এছাড়াও উপবৃত্তি প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাত এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হার ছিল গড়ে ৯৫ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের হার ছিল ৯২ দশমিক ২২ শতাংশ। এই অর্থবছরে জাতীয়ভাবে সকল প্রকল্পের গড় বাস্তবায়ন হার ছিল ৯৪ দশমিক ০২ শতাংশ।

মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর ড. সামছুল হুদা বলেন, প্রকল্পের দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে সরকার ও আমাদের ভাবমূর্তি জড়িত। তা করে কেউ পার পাবে না। খুব শিগগিরই প্রকল্প পরিচালক ও আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বসবো। যাতে কওে দ্রুত কাজ শেষ করা যায় সেজন্য চেষ্টা করা হবে।

জানা গেছে, এডিবির সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’র (সেসিপ) প্রকল্পের জন্য বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ২৫টি এসি ক্রয় করেই সরকারের ১৬ লাখ পাঁচ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ঢাকা মহানগরীতে ১১টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬টি মহাবিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পে ১৬ কোটি ৩৯ লাখ ২০ হাজার টাকার অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

টিচিং কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট (টিকিউআই-২) ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রকল্প গত জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

‘আইসিটি’র মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রচলন (পর্যায়-২)’ বাস্তবায়নে স্থবিরতায় গত বছর

অগ্রগতির হার ছিল ১ দশমিক ৭০ শতাংশ। চলতি অর্থ বছরে প্রকল্পের অনুকূলে ৩২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ছাড় হয়েছে মাত্র ৮১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ‘তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের (১৫০০ কলেজ) উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কলেজে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের জন্য ৪/৫টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৭৯ কোটি টাকা আগাম পরিশোধ হয়েছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি প্রকল্প (২য় পর্যায়), ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প, সরকারি কলেজসমূহে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেনারেশন ব্রেক থ্রু প্রকল্প এবং সিলেট, বরিশাল ও খুলনা শহরে ৭টি সরকারি বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের বাস্তবায়নও ধরিগতিতে এগুচ্ছে। তবে ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্ট ডিজএ্যাবিলিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও অদক্ষতায় ক্ষুদ্ধ মাউশি’র কর্মকর্তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ