প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় ৬ পরিচালক অনুপস্থিত আরো ৩টি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন ঝুলে গেলো

আবু বকর : বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় ছয় পরিচালকের ছয় জনই অনুপস্থিত থাকায় আরো তিনটি বেসরকারি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন ঝুলে গেছে। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের গতকালকের পর্ষদ সভা শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এ কারণে মহাজোট সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে আরো তিনটি নতুন বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। গতকালকের পর্ষদ সভায় বেঙ্গল কমার্শিয়াল, পিপলস ও সিটিজেন ব্যাংকের অনুমোদন দেবার কথা ছিলো। এর আগে বর্তমান মহাজোট সরকারের দু’দফা মেয়াদে আরো ১১ টি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গত ২৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিনটি ব্যাংকের বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে এসব ব্যাংকের নথিপত্রে ঘাটতি থাকায় সেদিন তা অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল এ তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেবার কথা ছিলো। ব্যাংক তিনটি হলো বেঙ্গল কমার্শিয়াল, পিপলস ও সিটিজেন ব্যাংক। এর মধ্যে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পেতে আবেদন করেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। প্রস্তাবিত এই ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়াল, পোশাক খাতের ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন, চট্টগ্রামের কেডিএস গ্রুপ ও ম্যাক্স গ্রুপ, পোশাক খাতের লাবিব ও শারমিন গ্রুপসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগের সাংসদ মোরশেদ আলম বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক।

পিপলস ব্যাংক পেতে আবেদন করেছেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এম এ কাশেম। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে তাঁর বাড়ি। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ব্যবসা রয়েছে বলে দাবি করলেও এ-সংক্রান্ত পর্যাপ্ত নথিপত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে পারেননি। গত পর্ষদ সভা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, এম এ কাশেমের সম্পদের হিসাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত হয়ে আসতে হবে। আর সিটিজেন ব্যাংক পেতে আবেদন করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক।

২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত মহাজোট সরকারের মেয়াদে ১১টি বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর সবটাই ছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। আওয়ামী লীগের নেতাদের পাশাপাশি এ সময়ে ব্যাংক পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশও। দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি ৫৮টি তফসিলি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে ১০টির বেশি ব্যাংক রয়েছে নাজুক অবস্থায়।

বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। এরশাদ সরকারের মেয়াদে (১৯৮২-৯০) নয়টি ব্যাংক অনুমোদন পায়। ১৯৯১-৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় নতুন আট ব্যাংক অনুমোদন পায়। ২০০১-০৬ সালে চাপ থাকলেও বিএনপি কোনো ব্যাংক অনুমোদন দেয়নি। আর ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ১৩ ব্যাংক ও ২০০৯ থেকে এখনো পর্যন্ত ১১টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত জুন শেষে দেশে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা; যা বিতরণকৃত ঋণের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। এর সঙ্গে অবলোপন করা ৪০ হাজার কোটি টাকার, ঋণ যুক্ত করলে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবটি পুরোপুরি সঠিক নয়, প্রকৃত খেলাপি ঋণ আরও অনেক বেশি।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন ব্যাংক দেওয়ার বিষয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে নিজস্ব ক্ষমতা, তার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে নতজানু হয়ে পড়েছে। গভর্নরসহ অন্যরা নিজ নিজ পদ রক্ষা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রক্ষা করতে পারছেন না। তার প্রশ্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখন বাস্তবায়ন হবে কেন? তিনি বলেন, নতুন ব্যাংক দেওয়ার কোনো প্রয়োজনই নেই।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, ৬ জন পরিচালক অনুপস্থিত থাকায় শেষ পর্যন্ত পর্ষদ সভা স্থগিত করা হয়েছে। পরিচালকদের সময় সূচী পাওয়া গেলে পরবর্তী পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সম্পাদনা : শাহীন চৌধুরী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ