প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আমাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে’

অনলাইন ডেস্ক : ‘গায়েবি ঘটনা উল্লেখ করে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ ও নাঙ্গলকোট থানার বেশ কয়েকটি মামলায় আমাকে জড়িত করা হয়েছে। এসব মামলার এজাহারে আমার নাম নেই, ঘটনাস্থলও গায়েবি। রাজনৈতিক কারণে এবং নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এভাবে একটার পর একটা হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ তথ্য- মানবজমিন

রোববার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করে এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার দুইটি আসন থেকে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী কারাবন্দি নেতা সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার সকালে তাকে কারাগার থেকে পুলিশের পাহারায় কুমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী সাংবাদিকদের জানান, ‘সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় তার হাতের হাড় ভেঙে যায়। এ ছাড়া তিনি ডায়াবেটিক, হৃদরোগ, দেহের বিভিন্ন জয়েন্ট, মেরুদণ্ড ও মাজা ব্যথাসহ নানা রোগে অসুস্থ। হাড়, হৃদরোগ ও নিউরো মেডিসিনসহ হাসপাতালের ৩ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে তার চিকিৎসা দেয়া হয় এবং তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য এক্স-রে, ইসিজিসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ বলেছেন, তার শারীরিক অবস্থার আরো উন্নতির জন্য ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন।’ এ সময় অসুস্থ মনিরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত, পা অবস হয়ে পড়ে। এলাকার জনগণ আমাকে ভালোবাসে।

তাই ষড়যন্ত্র করে আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য মিথ্যা ও গায়েবি বিভিন্ন মামলায় জড়িত করে বিনা বিচারে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। সকল হয়রানি ও নির্যাতন মোকাবিলা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।’ এসময় হাসপাতালে কুমিল্লা-৬ ও ১০ সংসদীয় আসন এলাকার বিএনপি দলীয় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও মনিরুল হক চৌধুরীর পরিবারের সদস্যসহ স্বজনরা ভিড় জমান। বিকালে তাকে কুমেক হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মনিরুল হক চৌধুরীকে কারাগার থেকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ৫ তলায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৯ নং আমলি আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। অসুস্থ অবস্থায় তিনি পুলিশের কাঁধে ভর করে সিঁড়ি বেয়ে আদালত ভবনের চতুর্থ তলায় উঠার পর বারান্দায় লুটিয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসক এনে তার চিকিৎসা করা হয় এবং ঘণ্টাখানেক পর তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেন। পরে বিচারক ৫ম তলা থেকে নেমে ৪র্থ তলার একটি আদালতে বসে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এসময় তাকে স্ট্রেচারে করে ওই আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।

মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী নাজমুস সা’দাত জানান, ‘২০১৫ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি জেলার চৌদ্দগ্রামে দুর্বৃত্তদের পেট্রোলবোমা হামলায় বাসের ৮ যাত্রী নিহতের ঘটনায় দু’টি মামলায় মনিরুল হক চৌধুরী হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। গত ২৪শে অক্টোবর জেলা জজ আদালতের বিচারক তার জামিন বাতিল করেন। পরে ওই দুটি মামলায় গত ৪ঠা নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে তার জামিন আদেশ হয়। এরপর জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে তিনি জেলহাজতে আছেন। এরইমধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরো পৃথক দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছে জেলার নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ। এসব মামলার এজাহারে তার নাম নেই।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ