প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০১৯ নির্বাচন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যময় নির্বাচন

নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় : আগামী এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠেয় ভারতের সাধারণ নির্বাচন এক অর্থে অসাধারণ। কারণ, ভারতের ইতিহাসে এবারই প্রথম এই নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশটির ৭০ বছর পুরনো অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার যদি আরো এক দফা ক্ষমতায় আসে, তাহলে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হতে ভারতের খুব বেশি বাকি থাকবে না। আরেকটি বিজয় বিজেপিকে ভারতের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের ওপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব এনে দেবে।

যার ফলে বিচার বিভাগ, তদারকি সংস্থাগুলো, সর্বোপরি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব অঙ্গের স্বায়ত্বশাসন খর্ব হবে। অন্যদিকে সেদেশের সাড়ে সতের কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠির স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা পড়বে হুমকির মুখে।

অর্থনৈতিক ব্যর্থতা থেকে মানুষের চোখ সরিয়ে নিতে সস্প্রতি বিজেপি বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। যার উদ্দেশ্য, সে দেশে ক্রমেই বেড়ে চলা ধর্মীয় বিভাজনকে আরো গভীর করে তোলা।

কিন্তু এই বিভাজনের রাজনীতি খুব একটা কাজ করছে না আজকাল। জরিপ বলছে, ২০১৭ এর শেষ ভাগ থেকেই মোদির জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী। দুর্নীতি রোধের নামে পাঁচশ’ ও হাজার টাকার নোট বাতিল আর জিএসটি কর বসানোর সিদ্ধান্ত দুটো বিজেপি আর মোদীর জনপ্রিয়তায় ভাটা এনেছে। গত ডিসেম্বরে মোদীর প্রদেশ গুজরাটের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে বিজেপিকে যা বেগ পেতে হয়েছে তাতেই স্পষ্ট হয়েছে তাদের অজনপ্রিয়তা। যা সাম্প্রতিক জরিপগুলোতেও বোঝা যাচ্ছে। বিজেপিও এটা জানে যে ক্ষমতাসীন হিসেবে অজনপ্রিয় হবার ঝুঁকি কতটা। তাই নির্বাচনের আগে আগে তারা এখন মরিয়া ভোট বাড়াতে। আর এক্ষেত্রে বরাবরের মতই তাদের ভরসা জনগণের মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদী চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার কৌশলে।

যে কারণে ২০১৬ সালে উত্তর প্রদেশে নির্বাচনের আগে আগে ভোট বাড়াতে মোদী তার উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারণার জন্য ব্যবহার করেছিলেন জম্মু কাশ্মীরের ‘সন্ত্রাসবাদীদের’ বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর ‘সার্জিক্যাল এ্যাটাক’কে।

১৯২০ সাল থেকে মাঠে থাকলেও ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীরা প্রথম আলোচনায় আসে আশির দশকে বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে রাম মন্দির নির্মাণের দাবি তুলে। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পরে দেশ জুড়ে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলোই বিজেপির উত্থানের পটভূমি। তাই জনপ্রিয়তার ঘাটতির এ সময়ে বিজেপি ও মোদী আবারো হাতে তুলে নিয়েছে সেই পুরনো অস্ত্র-সাম্প্রদায়িকতাকে। আর তাই, আবারো কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ভেঙ্গে মন্দির তৈরির দাবি বেশ জোরেশোরে উঠছে ভারতে। যার মধ্যে একটি আছে মোদীর নিজের নির্বাচনী এলাকা বারানাসিতে। নির্বাচন আরো ঘনিয়ে আসলে এমন উগ্র সাম্প্রদায়িক আওয়াজ আরো উচ্চকিত হবে বলে মনে হচ্ছে। বিজেপির উদ্দেশ্য হলো, ভারতের আশি শতাংশ ভোটারকে ধর্মীয় বিবেচনায় ভোটের সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করা। যদি বিজেপি এতে সফল হয়, ভারতের রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টে যাবে খোলনলচে।

(লেখক আল জাজিরার সাংবাদিক। মূল ইংরেজি থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত।)

সম্পাদনা : ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ