প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঘর পেলেন সচ্ছল ব্যক্তি

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২-এর আওতায় ‘জমি আছে ঘর নাই’—এমন হতদরিদ্রদের জন্য ঘর বরাদ্দ দেওয়ার কথা। কিন্তু বগুড়ার শাজাহানপুরে সচ্ছল ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া, কাজ শেষ না করে সব টাকা উত্তোলন, নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের নামে টাকা নেওয়া এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলায় ‘জমি আছে ঘর নাই’ এমন ১৮০ জন হতদরিদ্র পরিবারের অনুকূলে এক লাখ টাকা ব্যয়ে একটি করে টিনের ঘর নির্মাণের জন্য এক কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ২০ জন করে তালিকাভুক্ত করা হয়। ৩০ জুন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুরোপুরি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আশেকপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন আলম নামে একজন সচ্ছল ব্যক্তিকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আলম আওয়ামী লীগের একজন কর্মী এবং আশেকপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের সহযোগী। আলমের বাবা ইব্রাহীম একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী। বর্তমানে নিজ জমিতে চাষাবাদ করেন। তাঁর অন্য দুই ছেলে বেসরকারি কম্পানিতে চাকরিরত। সন্তানদের নিয়ে এক পরিবারে বসবাস করছেন। এ অবস্থায় ইব্রাহীম হোসেনের চার ঘরবিশিষ্ট বসতবাড়ির ভেতরে ছেলে আলমের নামে এই সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

একই ইউনিয়নের দারিকামাড়ি গ্রামের মৃত আলতাব আলীর ছেলে শাহিদুল ইসলাম নামের একজন সচ্ছল ব্যক্তিকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে জানাজানি হলে বরাদ্দ পরিবর্তন করে অন্য কাউকে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানা গেছে।

গোহাইল ইউনিয়নের পোয়ালগাছা গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে হাফিজার রহমান নামে একজন সচ্ছল ব্যক্তিকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যিনি সুদের ব্যবসা করেন এবং জমিজমা রয়েছে। এই ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্যের স্বামীর নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালিকা প্রকাশ করা যাবে না। তবে স্থানীয়রা জানায়, ডিসি অফিসের কোটেশন ঠিকাদার জহুরুল ইসলাম। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির মনোনীত তদারককারী। তিনি ঘর নির্মাণকাজের সামগ্রী আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজের তদারক করছেন।

গোহাইল ইউপির চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু, আশেকপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ, খোট্টাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুক, মাদলা ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প সম্পর্কে তাঁদের কিছু জানা নেই। তাঁদের কাছে কিছু জানতেও চাওয়া হয়নি। ইউএনও তদারকি করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁরা শুধু কাগজে স্বাক্ষর করেছেন।

সদস্যসচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সামছুন্নাহার শিউলী বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউএনও। তিনিই বিষয়টি দেখভাল করছেন।’

ইউএনও মোছা. ফুয়ারা খাতুন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া উপজেলা বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
সুত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ