প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টেনশনে বিএনপি ও জোটের ‘প্রার্থী’রা

ডেস্ক রিপোর্ট : আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দেওয়ার পর টেনশন বেড়েছে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে। কারণ বিএনপি জোটের তালিকা মোটামুটি চূড়ান্ত হলেও গতকাল রবিবার পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি। জানা গেছে, আজ সোমবার বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া শুরু হবে। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদসহ ৫-৬ জনকে গতকাল রাতেই মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়েছে।

আসন বণ্টন নিয়ে আগের দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রথমে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছে বিএনপি। এরপর গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শরিক দলগুলোকে নিয়ে আরেক দফা বৈঠক হয়। সেখানে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সূত্রে জানা গেছে।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডেভোকেট সুব্রত চৌধুরী যদিও কালের কণ্ঠকে বলেছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে সোমবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ বিএনপির একাধিক ভাইস চেয়ারম্যান এবং অ্যাডেভোকট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ দলটির একাধিক সাংগঠনিক সম্পাদক জানিয়েছেন, আজই মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হবে।

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন কারা পাচ্ছেন সেই বিষয়ে দলের কোনো স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো তথ্য না থাকায় গতকাল সারা দেশে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। আগ্রহী প্রার্থীরা দলের শীর্ষপর্যায়ে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য জোগাড় করতে পারেননি। কারণ মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা কৌশলগত কারণে এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। আগ্রহী প্রার্থীদের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতারাও তাঁদের নাগাল পাচ্ছেন না। এ নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আক্ষেপ ও খেদ তৈরি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বেশির ভাগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মনোনয়ন দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বিএনপির অন্তত চারজন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আক্ষেপ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, মনোনয়নপ্রক্রিয়ায় তাঁদের ন্যূনতম মতামত নেওয়া হয়নি। অথচ দলের সব কর্মসূচি পালনের সময় দায়িত্ব বর্তায় তাঁদের ওপর। একজন সাংগঠনিক সম্পাদক তাঁর মনোনয়নের বিষয়ে অনেক চেষ্টা করেও কোনো তথ্য জোগাড় করতে না পেরে কালের কণ্ঠ প্রতিনিধির কাছে নিজের মনোনয়ন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। আরেকজন অভিযোগ করে বলেন, ‘মনোনয়ন বোর্ডই মনোনয়ন দিক, সমস্যা নেই। কিন্তু বিভাগে কার কী জনপ্রিয়তা বা অবস্থান, বিশেষ করে দলের প্রতি কার কী অবদান—এ বিষয়ে সাংগঠনিক সম্পাদকের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘শুনছি মালয়েশিয়া গ্রুপ ও দিনকাল গ্রুপ প্রভাব খাটিয়েছে। কী আর করা! এভাবে হলে এই দল করে লাভ কী!’

বিএনপির এক প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা ও একটি জেলা কমিটির সভাপতি নাম প্রকাশ না করে বলেন, একজন প্রার্থীর ব্যাপারেও মনোনয়ন বোর্ড তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেনি। পরিস্থিতি তেমন হলে পদত্যাগও অসম্ভব নয় বলে জানান ওই নেতা।

গত শনিবার শেষ দিনে মনোনয়ন বোর্ডের সভায়ও স্কাইপে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রতিটি আসন নিয়ে বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তারেক রহমান তাঁর নিজের করা জরিপের ওপরই গুরুত্ব দিয়েছেন বলে গতকাল দিনভর আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। আর মনোনয়নের বিষয়টি গোপন থাকায় ওই গুঞ্জন আরো গুরুত্ব পায় বিএনপির আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে। কিন্তু কারো নাম ঘোষণা না করায় গতকাল পর্যন্ত তাঁরা প্রকাশ্যে অবস্থান নেননি। প্রার্থী ঘোষণা করা হলে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটি নিয়ে টেনশন আছে বিএনপিতে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাই দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য।

বিএনপির কাছে ঐক্যফ্রন্টের সংক্ষিপ্ত প্রার্থী তালিকা : গতকাল দুপুরে প্রথম দফা বৈঠকে বিএনপির কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্য দলগুলোর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গণফোরামের সভাপতি ও ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয় মতিঝিলে তাঁর চেম্বারে। তাতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের মোস্তফা মহমিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর প্রমুখ।

গণফোরামের তথ্য ও গণমাধ্যমবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ফ্রন্ট নেতারা জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। ওই সময় ফ্রন্টে থাকা দলগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে থাকা এক নেতা জানান, যে সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হয়েছে তাতে বিএনপির ধারণার চেয়ে অনেক বেশি নাম রয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আরো আলোচনা চলবে।

গত ১৩ অক্টোবর বিএনপি এবং আরো চারটি দলের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেন। এই ফ্রন্টে বিএনপি ছাড়া অন্য চারটি দল হচ্ছে জেএসডি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া। পরে ফ্রন্টে যুক্ত হয় কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

বিএনপির সঙ্গে আসন বণ্টনের আলোচনার বিষয়ে গতকাল বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আলোচনায় বসে একমত হওয়ার আশা করি আমি।’ তিনি বলেন, ‘আসন বণ্টন নিয়ে দূরত্ব তৈরি হওয়ার যেমন আশঙ্কা আছে, তেমনি একমত হওয়ারও সম্ভাবনা আছে। সব পসিবিলিটি (সম্ভাবনা) নিয়েই তো মানুষ পাশে আছে। জাতীয় ঐক্যকে লক্ষ্য করে আমরা এ ঐক্য করেছি। যেসব দল আমরা অপজিশনে আছি, আমরা সবাই মিলে প্রার্থী দেব। যে প্রার্থী মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন, দায়িত্বশীল হবেন তাঁকেই আমরা মনোনয়ন দেব। আমি আশা করছি দু-তিন দিনের মধ্যেই আসন বণ্টনের বিষয়টি সুরাহা হবে।’

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক সব দলই নিজস্ব প্রতীকের পাশাপাশি বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসিকে।
সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ